হাঁস পালনে মুখে হাসি ফুটেছে শিক্ষিত ৪ যুবকের
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

হাঁস পালনে মুখে হাসি ফুটেছে শিক্ষিত ৪ যুবকের

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

হাঁস পালনে মুখে হাসি ফুটেছে শিক্ষিত ৪ যুবকের
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের গাজী পাড়ার চার বেকার যুবক হাঁস পালন করে বেকারত্ব ঘুচিয়েছেন। চারজনের দুজন বর্তমানে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে পড়ছেন। অন্য দুজন স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে অনেক জায়গায় চাকরির পেছনে ছুটে কোনো লাভ হয়নি। শুধু সময় অপচয় হয়েছে তাদের। এজন্য চার বন্ধু মিলে আর চাকরির পেছনে না ঘুরে তাদের গ্রামের পাশদিয়ে বয়ে যাওয়া মরা পদ্মা নদীর কাছে চার বছর আগে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। বর্তমানে এ হাঁসের খামার থেকে তাদের প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে। সবাই এখন হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী।

তবে সরকারের কাছ থেকে ঋন সহযোগিতা পেলে তাদের খামারের পরিসর আরো বাড়াতে পাবেন বলে জানান।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের শিক্ষিত চার বেকার যুবক বন্ধু, রিপন গাজী, ইলিয়াছ মোল্লা, ছাইফুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম মিলে চাকরির পেছনে ঘুরে চাকরি না পেয়ে বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে গড়ে তুলেছেন হাসের খামার। নদীতে বিভিন্ন ধরনের শামুক, শেওলা, ছোট মাছ সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকায় নদীর পাশে এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। এতে তাদের খরচ কমেছে অর্ধেকেরও বেশি।  চার বছর আগে তারা প্রায় দেড় হাজার হাঁস দিয়ে শুরু করেন খামারটি। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় গড়ে ছয়শত থেকে ৮ শত ডিম পেয়ে থাকেন। প্রতিদিন এ ডিম বিক্রি থেকে তাদের আয় হয় ৭ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে মাসে তাদের প্রায় এক লক্ষ টাকারও বেশি আয় হয়।


খামারী চার বন্ধু বলেন, সাধারণত বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে তারা এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। গোয়ালন্দের উজানচর ইউনিয়নের গাজী ডাঙ্গা গ্রামের মরা পদ্মা নদীর তীরে তাদের এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন সকালে নদীতে হাঁসগুলো ছেড়ে দেন আর বিকেল বেলা হাঁসগুলো খামারে আনা হয়। নদীতে হাঁস পালনের কারণে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ায় তাদের খরচ হয় অনেক কম।

চার বছর আগে তারা দেড় হাজার হাঁস কিনে এই খামারটি গড়ে তোলেন। প্রথম বছরের পর থেকেই হাঁসগুলো ডিম দিতে শুরু করে। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ শত ডিম দেয়, যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করতে পারেন। ডিমগুলো খামার থেকেই বিক্রি করেন তারা। প্রতি মাসে এখান থেকে তাদের প্রায় এক লক্ষ টাকার বেশি।

খামারটিতে একটি ছেলে রাখা হয়েছে যে সারাদিন হাঁসগুলো দেখাশোনা করে।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের দেখাদেখি অন্যান্যরা হাঁস পালতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

এমএইচএম/

 

: আরও পড়ুন

আরও