নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

নুর আলম, নীলফামারী ৩:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

নীলফামারীতে বিদ্যালয়ের ছাদে দৃষ্টিনন্দন বাগান

স্কুলের ছাদে সারি সারি টব। সেখানে বেড়ে উঠা গাছের ডালে ঝাঁকে ঝাঁকে নানা প্রজাতির ফুল, ফল আর সবজি শোভা পাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন উৎসাহী মানুষ।

স্কুলের ছাদে যে বাগান করা সম্ভব সেটি প্রমাণ করেছেন উপজেলার পাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুকুমার রায়। স্কুলের ছাদে বাগান দেখে স্কুল ও প্রতিষ্ঠান মালিকরা ছাদে বাগানে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ডোমার উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে ৩২৯ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে এখানে। স্কুলটিতে লেখাপাড়ার মানও অনেক উন্নত।

স্কুলের শিক্ষক সুকুমার রায়ের পরিকল্পনায় আসে স্কুলের ছাদকে ফেলে না রেখে বাগান হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিনা। তার সেই ইচ্ছাই আজ বাস্তবে রুপ নিয়েছে। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসেই হবে না যে, এটি একটি স্কুলের ছাদ।

বর্তমানে গোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে বিদ্যালয়ের ছাদটি। আর এর সৌরভ ছড়াচ্ছে এলাকার সর্বত্র। ফুলের পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন ফলের মুকুল এসেছে ফলের গাছে। ২০১৮ সালে নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষক সুকুমার রায় স্কুলের ছাদে বাগান করা শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় অল্প কিছু গাছ থাকলেও আজ ছাদটি ভরে গেছে ফুল আর ফলের গাছে গাছে।

শৈশব থেকেই তিনি গাছকে ভালবাসতেন। যখন তিনি বাগান শুরু করতে যান তখন অনেকেই এটাকে পাগলামি বললেও এখন সবাই তার প্রশংসা করছেন। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, রজনীগন্ধাসহ নানা প্রজাতির ফুলের পাশাপাশি রয়েছে আম, বেল, আঙ্গুর, মালটা, লেবু, কমলা ও জাম্বুরা।

ঔষুধী গাছের মধ্যে ঘৃতকুমারী, তুলসি, পুদিনাপাতা, পাথরকুচি, আকন্দ ও থানকুচি। ছাদের আরেক দিকে রয়েছে লাউ, স্কোয়াস, পেপে, বেগুন, মরিচ, ওলকপি, ধুনিয়া পাতা,পালং শাক আর টমেটো।

সুকুমার রায় বলেন, ২০১৮ সালের দিকে কয়েকটি ফুলের চারা সৌখিনতার জন্য লাগাই সেখানে ফুল আসায় আলাদা শোভা দিচ্ছিল তাই বিভিন্ন সময়ে অনেক জায়গা থেকে বিভিন্ন ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের চারা সংগ্রহ করে স্কুল কৃর্তপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছাদে বাগান করা শুরু করি। চারশত চারা গাছ আছে বর্তমানে ছাদে। ব্যক্তিগতভাবে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়েছে। টাকাটা এখানে মুখ্য নয় ছাদকে ফেলে না রেখে ফুল বাগানের পাশাপাশি, ফল আর সবজি চাষও যে করা যায় সেটি দেখাতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।

তিনি আরো বলেন, কারো বাড়ীর ছাদ ফেলে না রেখে সেখানে সবজী চাষ করে টাকা আয় করাও সম্ভব।

পাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরনি কান্ত রায় বলেন, বিদ্যালয়ের ছাদ বাগানটি মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এখানে শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞানের অংশ উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কৃষি বিষয়ের প্র্যাকটিক্যাল হাতে কলমে শিখতে পারছে।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফুলের চারা নিয়ে গিয়ে নিজ বাড়ীতে লাগাচ্ছে। এলাকার মানুষজন ও অভিভাবকরা অবসর সময়ে স্কুলের ছাদে এসে বাগান দেখে সময় কাটায় বলেও তিনি জানান।

এনএ/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও