কঁচার মোহনায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা!
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কঁচার মোহনায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা!

পিরোজপুর প্রতিনিধি ১:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২০

কঁচার মোহনায় পর্যটনের অপার সম্ভাবনা!

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীর কঁচা নদীর মোহনায় গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি। যেখানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের কঁচার মোহনায় ৫ একর জমিতে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে এক দিকে রয়েছে সুপ্রাচীন পাড়েরহাট বন্দর। আর একদিকে রয়েছে সূর্য প্রশন্ন বাজপেইর বিখ্যাত জমিদার বাড়ি। আবার তার বিপরীত দিকেই রয়েছে বাদুরা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র।

এছাড়াও এখানে রয়েছে রাসায়নিক মুক্ত শুটকি পল্লী। প্রভাতে কঁচা নদীর বুকচিরে যেমন সূর্য উদয় হয়। ঠিক তেমনি বেলা শেষে এখান থেকেই সূর্য অস্তের দৃশ্যও অবলোকনের সুযোগ রয়েছে। নদী তীরে আচড়ে পড়া ঢেউ দিবে আপনাকে ভিন্ন মাত্রার আনন্দ। এখান থেকে সামুদ্রিক মাছ ও শুটকি ক্রয়ের রয়েছে বিশেষ সুবিধা। এছাড়া ভোজন রসিকদের জন্য থাকছে কঁচা নদীর তাজা ইলিশের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।

এই নদী থেকেই নিয়মিত যাতায়াত করতো ব্রিটিশ আমলের প্যাডেল ষ্টীমার। এছাড়াও সমুদ্রগামী মাছ ধরার বড় বড় ট্রলার এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। এমনকি আন্তর্জাতিক নৌ রুটের বিদেশি জাহাজও চলাচল করে এই নদী থেকে।    

তাই এমন স্থানটিকে পর্যটকদের জন্য আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইন্দুরকানী উপজেলা প্রশাসন। এর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইন্দুরকানীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ।

তিনি জানান, ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এই এলাকাটিকে আরো পর্যটনমুখী করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখানকার প্রবেশ দ্বারের শুরুতেই রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য একটি টিকেট কাউন্টার। এর পরে থাকছে একটি কফি শপ, রেস্টুরেন্ট ও ওয়াচ টাওয়ার।এখানে সুন্দরবনের করমজলের মতো করেই পর্যটকদের পায়ে হাঁটার পথ করা হয়েছে কাঠের পাটাতন দিয়ে। ইতোমধ্যে এসব স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষ রোপণের কাজ শুরু করা হয়েছে। নৌভ্রমণের জন্য রাখা হবে দৃষ্টিনন্দন নৌকা।

দর্শনার্থীদের প্রকৃতির একান্ত কাছে নিয়ে যেতে থাকছে ছোট ছোট দ্বীপ। যা দেখতে হবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলো সবই হচ্ছে সুপারী গাছ ও বিভিন্ন ধরনের গাছের কাঠের তৈরী।  ইন্দুরকানী উপজেলা জুড়ে ব্যাপক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিদ্যমান। এই সুন্দর্যকে পর্যটনমুখী করতে প্রচুর সরকারি বরাদ্দের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে অবশ্যই সম্ভাবনাময় এই এলাকাটিকে পর্যটনমুখী করে তোলা সম্ভব।

পার্কের নির্মাতা ডিজাইনার ভূঁইয়া শাহীন সানী জানান, জলবায়ু দুষণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ও প্রাণি জীবনাচার। তখন রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস ও পরিবেশ-বান্ধব স্থাপনা নির্মাণই কেবল পরিত্রাণের উপায়। তাই আমার কাজের মাধ্যমে প্রকৃতি যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেদিকে আমি অধিক মনোযোগী।  

পার্ক সংলগ্ন পাড়েরহাট আবাসনের বাসিন্দা মোসলেম আলী শেখ জানান, পাড়েরহাটে পার্ক স্থাপনের কারণে আবাসনের ১৫০টি  পরিবার নানামুখী কাজের সুযোগ পাবে।

 জেআইএল/এএসটি

 

আরও পড়ুন

আরও