দৃষ্টিনন্দন বাংলার তাজমহল মসজিদ
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

দৃষ্টিনন্দন বাংলার তাজমহল মসজিদ

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২২

দৃষ্টিনন্দন বাংলার তাজমহল মসজিদ
বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা ভারতের আগ্রার তাজমহলের মতো। ধবধবে সাদা রঙে আবৃত মসজিদটি এক নজর দেখার জন্য অনেকে ছুটে আসেন। কার্পেটিং করা সড়ক ঘেঁষে চার দেয়ালের সীমানা প্রাচীরের মধ্যখানে এমন একটি মসজিদ দেখার অনুভূতি অনেকেরই জাগতে পারে। মসজিদের সামনে সবুজ বেষ্টনী আর ফ্লোর করা বিশাল মাঠ। দুপাশে দুটি পুকুর। পুকুরে সানবাঁধানো ঘাট, পুকুর ধারে ঘাটের পাশে কাঠ বাদাম গাছের মেঘের মতো ছায়া।

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের জোরারগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে এই মসজিদের অবস্থান। যাকে স্থনীয়রা এক নামে ‘তাজমহল মসজিদ’ নামে চেনেন। পুরো ১ একর জমির ওপর একটি মসজিদ, দুটি একাডেমিক ভবন, মসজিদের দুপাশে দুটি পুকুর। যাতে রয়েছে সানবাঁধানো ঘাট। আর মধ্যখানে রয়েছে সবুজ ঘাসের বেষ্টনী আর ফ্লোর করা বিশাল মাঠ। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় এমনি দৃশ্য। পুরো মসজিদটি সাদা রংয়ে আবৃত। এটি তৈরি করা হয়েছে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে। মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট যার চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে চারটি পিলার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সাল। স্থানীয় ৬ নম্বর ইছাখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা মরহুম মৌলভী নজির আহমদের ছেলে প্রয়াত আলহাজ সফিউল্লাহ তার নিজস্ব জমিতে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে সময় তিনি প্রায়ই ভারত সফরে যেতেন। সফরে গিয়ে তাজমহলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন। পরে তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তাজমহলের আদলে দেশে একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন। এক প্রকৌশলীর সহায়তায় আগ্রার তাজমহলের আদলে হার্ডবোর্ড দিয়ে মসজিদটির নকশা তৈরি করেন। ওই নকশা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সম্পূর্ণ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তে নির্মাণ করেন দ্বিতল বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন। সেখানে ২০০০ সাল থেকে একটি দাখিল মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। যা তার পিতা মরহুম মৌলভী নজির আহমদের নামে নামকরণ করেন ‘মৌলভী নজির আহমদ আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা।’

বর্তমানে ওই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমে উপজেলার শ্রেষ্ঠ একটি বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে। মসজিদের আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন। স্থানীয়রা অনেকে বিকেলে আছরের নামাজ আদায় করে পুকুর ঘাটে কিংবা মাঠে বসে গল্প করেন মাগরিব পর্যন্ত। আবার অনেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে এশার পর্যন্ত এখানে বসে সময় কাটান। সম্পূর্ণ নিরিবিলি পরিবেশ হওয়ায় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণা বাতাসে নিজেকে সপে দিয়ে অনেকে গল্পের ফাঁকে মাঠে ঘুমিয়ে পড়েন অপকটে।

এ দিকে মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, দোতলা বিশিষ্ট। মসজিদের নিচতলায় পুরুষ একসাথে ২৫০ জন, আর দোতলায় মহিলারাসহ মোট ৫০০ জন একযোগে নামাজ আদায় করতে পারেন। দোতলায় ওঠার জন্য মসজিদের ভেতরে দুই পাশে দু’টি সিঁড়িও রয়েছে। প্রতিদিন মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাথে স্থানীয়রা একসাথে জোহরের নামাজ আদায় করেন।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close