বগুড়ায় এবার যন্ত্রেই চলবে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

বগুড়ায় এবার যন্ত্রেই চলবে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

আলমগীর হোসেন, বগুড়া ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০২১

বগুড়ায় এবার যন্ত্রেই চলবে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
‘ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া দুলিয়া। ধান ভানি রে।’ গ্রামবাংলার তরুণী-নববধূ, কৃষাণীদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সাথে সাথে সেসব পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত কথা চিন্তা করে দুই শত বছরের হারিয়ে যাওয়া গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে আনলেন বগুড়ার যন্ত্র বিজ্ঞানী আমির হোসেনের ছোট মেয়ে তাহিয়া।

কৃষকের হাতে আধুনিক যন্ত্র দিয়ে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনাই এ যন্ত্রের মূল লক্ষ্য। ধান ছাড়াও ভাপা পিঠার জন্য চালের আটা, বুটের ছাতু এবং হলুদের উৎকৃষ্ট ঘ্রাণ একমাত্র ঢেঁকি সাটাতেই পাওয়া যাবে। 

এ যন্ত্রের বিশেষ দিক হলো সময় ও অর্থ দুটো কম লাগবে। তাহিয়ার বাবা বগুড়া যন্ত্র প্রকৌশলী আমির হোসেন জ্বালানি বিহিন গাড়ি, মোশন টাইম মেশিনসহ ২৫টি মেশিনের এর উদ্ভাবক। 

বগুড়ার যন্ত্র বিজ্ঞানী আমির হোসেন এবার তার গবেষণায় এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যা পৃথিবী জুড়ে চমক সৃষ্টি করবে, তা হলো বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তার উদ্ভাবিত নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ সমস্যার সাফল্য আনতে পারবে শতভাগ বলে বিজ্ঞানী আমির হোসেন দাবী করেছেন। 

এ প্রযুক্তিকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে আনতে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন যা তার একার পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব নয়। জাতীয় ও আন্তার্জাতিকভাবে অথনৈতিক সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য তিনি সুফল বয়ে আনতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বাবা আমির হোসেনের অনেক উদ্ভাবক স্বচোখে দেখে মেয়ে তাহিয়ার মনেও দাগ কেটে যায়, কিভাবে বাবার মতো বিভিন্ন যন্ত্র উদ্ভাবক হওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় পুরাতনকে নিয়ে গবেষণা করে তাহিয়া নতুন আঙ্গিকে উদ্ভাবন করছে আধুনিক ঢেঁকি। 

যন্ত্র বিজ্ঞানী তাহিয়া জানিয়েছেন, পরিবেশ বান্ধব যন্ত্রেই চলবে ঢেকি। স্বাস্থ্য ঠিক রাখি ঢেঁকি সাটা চাল ব্যবহার করি। একমাত্র ঢেঁকি সাটা চালেই পাউডভ যাবে ১০০ ভাগ ফাইবার আঁশ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল। এবার যন্ত্রেই চলবে ঢেঁকি। দুই শত বছরের হারিয়ে যাওয়া গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হলো। 

তিনি আরও জানিয়েছেন, কৃষকের কষ্ট করে ধান কাটে মারাই ধান শুকিয়ে তা আবার চুলায় সিদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে সেখান থেকে চাতালে দিয়ে প্রচুর সময় নষ্ট হয় বলেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু এ কাজগুলো যদি যন্ত্রের মাধ্যমে করা হতো সময় নষ্ট হতো না। যা দিয়ে কৃষকরা বাড়ির আঙ্গিনায় খুব সহজেই ধান থেকে চাল তৈরির  কাজ সমাধান করতে পারবে দ্রুততম সময়ে । 

যন্ত্র বিজ্ঞানী তাহিয়া জানিয়েছেন, গুণগতমান পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল প্রথম কারণ চালের উপরিভাগের ফাইবার নষ্ট হয় না। শতভাগ সক্রিয় থাকে মানুষ জাতির শরীরের পুষ্টি ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন উপকারিতার ভান্ডার এই চাল। আবার, চালের গায়ে স্বাভাবিক কালারকে ক্যামিকেল ব্যবহার করে সাদা অতি পরিষ্কার করা হচ্ছে বেশি মূল্যের জন্য । আজ আমরা বেশি মূল্য দিচ্ছি কিন্তু সঠিক মানের পুষ্টি সমৃদ্ধ গুণগতমানের চাল পাচ্ছিনা। যার কারণে হাড়ের জোড়ায় জোড়ায় ব্যাথা চোখে কম দেখা ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছি। তাই, একমাত্র ঢেঁকি সাটা চালই হতে পারে পুষ্টি ভিটামিন সমৃদ্ধ ভরা সুষম খাদ্য।

এই অটো ঢেঁকিতে শুধু চাল সাটার কাজ হবে না। এতে চাল থেকে ভাপা পিঠার হারিয়ে যাওয়া সেই সাধ একমাত্র ঢেঁকিতে ভাঙ্গা চালের আটা করা যাবে। হলুদের উৎকৃষ্ট ঘ্রাণ একমাত্র ঢেঁকি সাটাতেই পাওয়া যাবে। বুটের ছাতুও এ অটো ঢেঁকিতে কোটা যাবে। ঢেঁকি বাসা বাড়ির সাধারণ ইলেকট্রিক লাইন দিয়ে চলবে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার তাহিয়া।

এসকে
 

আরও পড়ুন

আরও