নৌকাতেই জমজমাট পাটের হাট
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

নৌকাতেই জমজমাট পাটের হাট

এইচএম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ২:২৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১

নৌকাতেই জমজমাট পাটের হাট
এইচএম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ

দেশের এক সময়ের সোনালী আঁশ পাট হারিয়ে ফেলেছিল তার গৌরব ও ঐতিহ্য। গত কয়েক বছর যাবত এর চাহিদার ও দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের কৃষকেরা পাট উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের কৃষকরা পাটচাষের দিকে ঝুঁকছে। 

বুধবার সকালে কাজিপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খরিপ ১/২০২০-২১ মৌসুমে ৫৫৫৫ হেক্টর জমিতে কাটা পাটের পরিমাণ ১২৭২৮ মেট্রিক টন এবং কাজিপুর পাট অফিসের তথ্য মতে, কাজিপুরে ৩৩০ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদন হয়ছে ২০ মেট্রিক টন। অনেক দিন আগে থেকেই জমি থেকে পাট কাটা ও প্রক্রিয়াকরণের পর শুরু হয়েছে পাট বাজারজাতকরণ।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নাটুয়াপাড়া হাটে যমুনা নদীর পাড়ে নৌকার উপরে জমে উঠেছে সোনালী আঁশ পাট বেচাকেনা।

যমুনা নদীর পাড়ে উপজেলার চরাঞ্চলে একমাত্র নাটুয়াপাড়া হাটটি সপ্তাহে দুদিন শনিবার ও বুধবার ভোর থেকে পাটের হাট ভরে উঠেছে। 

বিক্রি উপযোগী সোনালী আঁশে উপজেলার চরাঞ্চলের জমিতে পাট উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষক-পাইকার-ক্রেতাদের হাঁকডাকে জমে উঠেছে বেচাকেনা। প্রতি মণ পাট তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের জমিতে উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে এবং আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা পাট ক্রয়-বিক্রয় করতে এ হাটে নিয়ে আসে। বর্তমানে বাজারে পাটের ভালো দাম থাকায় উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম পরিবর্তনকে জানান, নাটুয়ারপাড়া, সোনামুখী, ঢেকুরিয়া ও মেঘাই হাটে লাখ লাখ টাকার পাট বিক্রি হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর জেলার লোকজন ওইসব বেচা কেনা করতে আসেন। 

তিনি বলেন, নৌকা করে জামালপুরের সরিষাবাড়ি, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর, টাংগাইলের ভুয়াপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাট ক্রয় করতে পাইকাররা আসে এ হাটে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেড়েছে চাহিদা ও দাম। 

কৃষি অফিসার জানান, এখানে মণপ্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ, ৩ হাজার ৫শ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় এ সব তথ্য।

জামালপুর থেকে আসা পাটের পাইকার আবুল কালাম পরিবর্তনকে বলেন, পাট কিনে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় তোলা সহজ হয়। যোগাযোগের সুবিধা হয় ও পরিবহন খরচ কম। প্রতিহাটে তিনি ৪০-৬০ মণ পাট নৌকা থেকে ক্রয় করেন বলে জানান। 

কাজিপুরের পাটের ব্যাপারি আলম পরিবর্তনকে বলেন, পাট টানে থেকে কিনে নৌকায় তোলা অসুবিধা হয়। তাই নৌকা থেকে পাট কিনি। তিনি প্রতিহাটে ৬৯-৭০ মণ পাট ক্রয় করেন। 

নাটুয়ারপাড়ার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম ফলন ভালো হয়েছে, বিক্রি করে বেশ দাম পেয়েছি। 

হাট কমিটির সদস্য আব্দুর রহিম মাস্টার বলেন, পাট কিনতে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর, কুড়িগ্রামের ভুরুংগামারি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে অনেক পাইকার পাট কিনতে আসে। প্রতি হাটে ১ থেকে ২ হাজার মণ পাট ক্রয়-বিক্রয় হয়। 

হাট ইজারাদার ও নাটুয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চাঁন পরিবর্তনকে বলেন, এ হাটে কাজিপুরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাট ক্রয়-বিক্রয় করতে পাইকাররা আসে। প্রতি হাটে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মণ পাট ক্রয়-বিক্রয় করে। এবারের পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। 

এ ব্যাপারে কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, এ বছর বন্যায় পাটের তেমন ক্ষতি হয়নি, কারণ দেরিতে বন্যা হওয়ায় কৃষক সময়মতো পাট কাটতে পেরেছিল। তাই কাজিপুরের কৃষকরা এখন পাটচাষে মনোযোগী হচ্ছে।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও