স্কুলে বন্যার পানি, তাই বাড়িতেই পাঠদান
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

স্কুলে বন্যার পানি, তাই বাড়িতেই পাঠদান

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১

স্কুলে বন্যার পানি, তাই বাড়িতেই পাঠদান
করোনা মহামারির কারণে দেড় বছর বন্ধ ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবার মুখর হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
তবে টাঙ্গাইলের বাসাইলে রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি থাকায় বাড়িতে নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

রোববার সকাল থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প প্রদ্ধতিতে এ পাঠদানের ব্যবস্থা করে। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। সারাদেশে বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫টি বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। তার মধ্যে বাসাইল উপজেলায় রাশড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি। এ এলাকা নিচু হওয়ায় বিদ্যালয় স্থাপন হওয়ার পর থেকেই বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। তখন থেকেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। অল্প বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে ও আশপাশে পানি জমে। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন পরে বিদ্যালয় খুলেছে। কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে বন্যার পানি থাকায় শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে পারিনি। আমরা বিদ্যালয়ের পাশেই একটি বাড়িতে ক্লাস করছি। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা আক্তার পপি পরিবর্তনকে বলেন, এ এলাকা অত্যন্ত নিচু, বন্যা কবলিত ও দুর্গম। তাই এখানে দীর্ঘ সময় বন্যার পানি থাকে। এখনো শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ৩ ফুট পানি রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের পাশেই একটি বাড়িতে (জমিদাতা) বিকল্প প্রদ্ধতিতে পাঠদান করানো হচ্ছে। প্রথমদিন ৫ম শ্রেণির ৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ শিক্ষার্থী এসেছে।
 
তিনি আরও বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে ভালো কোনো রাস্তা নেই। রাস্তাগুলো ভূমির সমান্তরাল। যার কারণে পানি বেশি থাকে। সেপ্টেম্বর মাসজুড়েই বিদ্যালয়ে পানি থাকবে। প্রতিবছরই আমাদের এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর ফলে বিদ্যালয়ের আসবাসপত্র, কাগজপত্র পানিতে ভিজে যায়। 

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী নৌকা ছাড়া আসতে পারে না। 

জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, জেলার ১৬২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া কিন্ডারগার্টেন রয়েছে ৬৯৮টি এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২০৬টি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৯৭ জন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ পরিবর্তনকে বলেন, ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পানি থাকায় প্রথমদিন পাঠদান নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। কিন্ত সকালে ১৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বিদ্যালয়েই ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে। 

তিনি জানান, বাসাইল উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি থাকায় বিকল্প প্রদ্ধতিতে বাড়িতে পাঠদান করানো হচ্ছে। বাকি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাঠদান করানো হচ্ছে। 

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও