বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনো মারা গেছেন
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনো মারা গেছেন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনো মারা গেছেন
কমিউনিস্ট নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনো মারা গেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি এক কন্যা, এক পুত্র ও তিন নাতি রেখে গেছেন।

জুনো দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। নিউমোনিয়ার মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৪ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। পরে ২২ অক্টোবর তাকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

জুনোর মেয়ে অনন্যা লাবণী গণমাধ্যমকে বলেন, বাবার লাশ হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে তাকওয়া মসজিদে জানাজা হবে। আগামীকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জুনোর বড় ভাই প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো।

ছাত্র হিসেবে মেধাবী জুনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স ও এমএ করেন। তিনি বাংলায় পদার্থ বিজ্ঞানের ওপরে বই ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ওপর শিবপুরের রনাঙ্গণ, উনসত্তরের দিনগুলি এছাড়াও একটি উপন্যাস লিখে গেছেন।

রাজনীতি পরবর্তীকালে জুনো সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন এবং সৃজনের সভাপতি ছিলেন। তিনি টিভি চ্যানেল বাংলা ভিশনের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কমিউনিস্ট নেতা হায়দার আকবর খান রনোর ছোট ভাই জুনোর জন্ম ১৯৪৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায়। তাদের পৈতৃক নিবাস নড়াইলের বরাশুলা গ্রামে। বাবা হাতেম আলী খান ছিলেন একজন প্রকৌশলী। নানা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সৈয়দ নওশের আলী। স্কুল জীবনেই কমিউনিস্ট রাজনীতির দীক্ষা নিয়েছিলেন জুনো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স করলেও রাজনীতিকেই তিনি পেশা হিসেবে নেন।

পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন জুনো। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী। তার ভাই রনো তখন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। পরে জুনো ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ষাটের দশকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া জুনো ছিলেন চীনপন্থি শিবিরে। ১৯৭০ সালে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি এর সভাপতির দায়িত্ব নেন।

স্বাধীনতার পর জুনো লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনাইডেট পিপলস পার্টির (ইউপিপির) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হন। ১৯৭৯ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠিত হলে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন জুনো। প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূইয়াদের সঙ্গে তিনি নরসিংদীর শিবপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আনোয়ার খান জুনোর মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং শিবপুরেরর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও