ধর্ষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগ চায় আওয়ামী লীগ
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০ | ১৭ কার্তিক ১৪২৭

ধর্ষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগ চায় আওয়ামী লীগ

সালাহ উদ্দিন জসিম ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০২০

ধর্ষণরোধে সমন্বিত উদ্যোগ চায় আওয়ামী লীগ
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ। অবস্থা এমন যে, নিজ গৃহেও অনিরাপদ নারী। পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য বিবৃতি ছাড়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। সবাই দায় চাপাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের ওপর। ক্ষমতাসীন শিবির বলছে, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণরোধে রাষ্ট্রীয় চরম কঠোরতার পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য কর্মসূচি নিয়ে তারাও মাঠে নামছে। অন্যদেরও মাঠে চাইছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ‘গত বছরে ছয় হাজারের বেশি নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।’ ২০২০ সালে এটি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিদিন তিনজন ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পুরো দেশ। এত সমালোচনার মধ্যেও ধর্ষণ থেমে নেই। গত শনিবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে রাতভর মা-মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়াও সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফলে মা ও মেয়েকে রাতভর ট্রলারে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে বাবা-চাচা-ভাই মিলে এক মা ও তার মেয়েকে আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ। সিলেটের জৈন্তাপুরে মা-মেয়ে ও খালাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করা হয়। বরিশালের বানারীপাড়ায় টেম্পুচালক স্বামীকে বেঁধে নববধূকে ধর্ষণ, টাঙ্গাইলে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এর বাইরেও অনেক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

দৃশ্যত ধর্ষণ উৎসব চলছে দেশে। দু’একটা ভাইরাল ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়লেও আড়ালে থেকে যায় বহু ঘটনা। বিশিষ্টজনরা বলছেন, মাদকের ভয়াবহ সয়লাব, পাড়ামহল্লায় গ্যাং কালচার, চরম মাত্রার মোবাইল আসক্তি ও নৈতিক শিক্ষার অভাবেই বিকৃত মানসিকতা তৈরি হচ্ছে। যার কারণে এমন নির্মম ও নৃশংস ঘটনা ঘটছে। স্থায়ীভাবে সমাধান চাইলে সমস্যামূলে নজর দিতে হবে।

এ সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য অন্যদের মতো তৎপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। দলটির নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন হিসেবে আমাদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তবে এই ব্যাধি থেকে বাঁচতে রাষ্ট্রের একার লড়াই যথেষ্ট নয়, সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পৃথকভাবে ধর্ষণের বিচার ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবি নানা কর্মসূচিও নিয়েছে।

এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে যুব মহিলা লীগ নারী-শিশু ও ধর্ষণের প্রতিবাদে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এতে বক্তারা নারী-শিশু নির্যাতন এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এদিকে একইদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবে নারী ধর্ষণের বিচারের দাবিতে ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে। আজ বুধবার ছাত্রলীগের সারা দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটে একযোগে একই কর্মসূচি পালন করবে। সবার দাবি একটাই, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খোলা কাগজকে বলেন, ‘ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের একটি বিকৃত মানসিকতা পরিচায়ক। অসংখ্য ভালো মনন, মানসিকতার ফাঁকে এই দুরারোগ্য ব্যাধি আমাদের সমাজে বসবাস করছে। মাঝে মধ্যেই এটি প্রবল আকার ধারণ করে। আবার কিছুদিন প্রশমিত হয়। নির্মূল হয় না। এ জন্য রাষ্ট্রীয় চরম কঠোরতার পাশাপাশি সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনবে সরকার। এক্ষেত্রে কোনো পরিচয় দেখার সুযোগ নেই। অপরাধীর ভিন্ন কোনো পরিচয় থাকতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, ধর্ষণ এক ধরনের সন্ত্রাস। ধর্ষণ, হত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে সরকার কখনো ন্যূনতম ছাড় দেয়নি, দেবেও না। ধর্ষণকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করলে বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। দায় না চাপিয়ে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পাশের দেশের মতো আমাদের দেশেও এটি তীব্র আকার ধারণ করছে। ক্ষমতাসীন হিসেবে আমাদের সরকার এর দায় এড়াতে পারে না।

এসইউজে

 

আরও পড়ুন

আরও