পাটকল বন্ধ-স্থায়ী-অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিবাদ
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

পাটকল বন্ধ-স্থায়ী-অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিবাদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

পাটকল বন্ধ-স্থায়ী-অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিবাদ
সরকার দেশে করণাকালীন এই চরম দুঃসময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিকের চাকরিচ্যুতকরার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফন্ট।

সোমবার এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, ড. আবদুল মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ট্রাষ্টি গণস্বাস্থ্য, ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী।

শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয় খাতের সবগুলো পাটকল সরকার বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । পাটকলগুলোয় বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। এছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অর্থাৎ ৫১ হাজার কর্মীর পরিবারের অন্তত আড়াই লক্ষ মানুষের জীবনে এক চরম বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে । এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, যখন করোনার ভয়ঙ্কর অভিঘাতের ফলে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে । নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া দূরে থাকুক, সরকার বর্তমানে কর্মে নিযুক্ত মানুষকেও কর্মচ্যুত করছে ।

পাটকলগুলো বন্ধ করে দেবার কারণ হিসাবে পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গত ৪৮ বছরে সরকারকে এই পাট খাতে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে ।

ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, অথচ এক ওয়াট বিদ্যুৎ না কিনে গত ১০ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকারের অতি ঘনিষ্ঠ বিরাট কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা । পাট খাতে যে লোকসান হয় সেটার জন্য শ্রমিকরা কোনভাবেই দায়ী নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত আর সব খাতের মতো প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণেই এই শিল্পগুলোতে লোকসান হয় । সেই ব্যর্থতার মূল্য আজ দিতে হচ্ছে শ্রমিক ভাইদের ।

তারা আরও বলেন, এই চাকুরিচ্যুতির আগেও দফায় দফায় শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে হয়েছে তাদের বকেয়া মজুরি আদায়ের দাবিতে । তথাকথিত ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ রাষ্ট্রটি তার অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করা নাগরিকদের বেতন মাসের পর মাস বাকি রেখেছিল । এখন সেই শ্রমিকদের ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাটকলগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চলবে এমন প্রসঙ্গে বিরোধী জোটের নেতারা বলেন, সরকারের অতীত রেকর্ড থেকে এই আশঙ্কা করার খুবই যৌক্তিক কারণ আছে, শেষ পর্যন্ত এই পাটকল এবং এর সব সম্পত্তি সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হবে নামমাত্র মূল্যে । সরকারের এই সিন্ধান্ত দেশের পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করে পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকলগুলো চালু করার নীলনকশারও অংশবিশেষ বলে প্রতীয়মান হয় ।

তারা আরও বলেন, সবকিছু বিবেচনায় সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা । এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি করছি । এই সিদ্ধান্ত রদ করার লক্ষ্যে পাটকলগুলোর শ্রমিক ভাইদের যে কোনো কর্মসূচির প্রতি আমরা সংহতি জানাই।

এমএইচ

 

: আরও পড়ুন

আরও