করোনা প্রতিরোধে সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই : ফখরুল
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭

করোনা প্রতিরোধে সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই : ফখরুল

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৩:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

করোনা প্রতিরোধে সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই : ফখরুল
মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উত্তরার বাসা থেকে জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলের আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।নয়া

পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণের কর্মসূচি হয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক ‘আর্সিনিক এলবাম-৩০’ ও ‘ব্রায়ানিয়া এলবাম-৩০’ কয়েক‘শ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফর আজকে যে একটা গাইড লাইন দেবেন, সেই গাইড লাইনও তারা দিতে পারে নাই। গোটা বাংলাদেশে কোডিব-১৯ মোকাবিলা করার জন্য যে একটা ম্যপ, রোড ম্যাপ, একটা পরিকল্পনা, একটা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তার সবটাই অনুপস্থিত এখানে।

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন তারা এসে ঠিক একই কথা বলেছেন যে, বাংলাদেশে সব কিছু এলোমেলো। এথানে কোথায় রোগ আছে সেটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাত তারা(সরকার) চিহ্নিত করতে পারছেন না এবং সেটাকে চিহ্নিত করবার জন্য কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারের যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং গোটা হেলথ সিস্টেম একেবারে ভেঙে পড়েছে, একেবারেই লেজে গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। সরকার স্বাস্থ্য খাতে চরম অবহেলা করার জন্য, তাদের উদাসিনতার জন্যে কোবিড ১৯ এই পর থেকে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণে, ভ্রান্ত নীতির কারণে আজকে দেশে সবচেয়ে করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর আছেন। তারা এক সময়ে একেক রকম কথা বলছেন। আমাদের স্থানীয় সরকারের ঢাকা সিটির নর্থের মেয়র গতকাল বলেছেন যে, আর কাল বিলম্ব না করে এখন রেড জোন ভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। আপনি দেখুন কতটা অসামঞ্জস্যহীনতা হলে, কতটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে অনেক আগেই বলা হয়েছে যে, দেশে রেড জোন, ইয়েলো জোন, গ্রীন জোন করা হবে।ঢাকা শহরের রেড জোন করে কত অঞ্চল ভাগ করে একদম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে লকডাউন করবেন। একমাত্র পশ্চিম রাজাবাজার ছাড়া কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার মনে হয়, সরকার জানেও না তারা কী করবেন, কী করতে চাচ্ছে?

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে আমাদের দুর্ভাগ্যের কথা যে, আমাদের সরকার প্রথম থেকে এই ভয়াবহ বৈর্শ্বিক মহামারীকে উপেক্ষা করেছেন, অবহেলা করেছেন। এটার পেছনে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিলো।পরবর্তিকালে যখন এটা একটা মহামারী আকারে সমগ্র বিশ্বের ছড়িয়ে পড়া শুরু করেছে তখন তারা বাংলাদেশে একটা নিয়ে কিছুটা কথা বলতে শুরু করেছে,কাজ করতে শুরু করেছে।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের দেয়া প্যাকেজ প্রণোদনার প্রসঙ্গ টেনে মহাসচিব বলেন, সেটা মূলত ছিলো ব্যাংক ঋণ। এই মুহুর্তে সরকারের বড় যে বিষয়টা গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিলো সেটা হলো মানবিক দিকটা। এখানে যে মানুষগুলো আজকে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে, অকডাউনের কারণে, সাধারণ ছুটির কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়ছে অথবা যারা আজকে কাজ পাচ্ছে না তাদের ন্যুনতম বেঁচে থাকার জন্য যে প্রয়োজন, সেই প্রয়োজনের টাকাও সরকার তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। মাত্র আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুদান ৫০ লক্ষ মানুষকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটাও পুরোপুরি দলীয়করণ করার ফলে যারা পাওয়া উচিত ছিলো তারা পায়নি। সেটাও মাত্র এককালীন।

বিএনপির পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী প্যাকেজ প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে তাতে সরকার কোনো সাড়া না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্ধের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্ধ সবচাইতে কম। কী দুর্ভাগ্য এই জাতির। আজকে রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। টেস্ট করতে পারছে না, কোনো টেস্ট হচ্ছে না। এরপরেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে কিট উদ্ভাবন করলেন সেই কিটকে তারা(সরকার) নাকচ করে দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খুব অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা কোনো দিক-নির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারের দুর্নীতির কারণে সমস্ত দেশে কোবিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এখন গ্রামে গ্রামে এই করোনাভাইরাসের রোগী দেখা যাচ্ছে।সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যেটা তারা বলছেন যে, এই রোগের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন, সেই অক্সিজেন অপ্রভুলতা, অক্সিজেন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন নেই।

হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগের চিকিতসার জন্য শয্যা খালি থাকাকে ‘এলার্মিং’ অভিহিত করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে কতটা অনীহা সেটা প্রমাণিত হয়। হাসপাতালগুলোতে যেসব শয্যা চিহ্নিত করা হয়েছিলো কোভিড রোগীদের জন্য সেই বেডগুলো খালি পড়ে থাকছে। কারণ মানুষ হাসপাতালে যেতে চাচ্ছে না। হাসপাতালের যে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থায় কেউ আস্থা আনতে পারছে না।বেশিরভাগ মানুষ ঘরের মধ্যে চিকিতসা নিচ্ছেন, ঘরের মধ্যে তারা প্রাণ দিচ্ছেন। সেই অবস্থায় আজকে প্রয়োজন দুঃস্থ মানবতার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, গোষ্ঠিসহ সকলকে জনগনের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলকে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব।

চিকিৎসক দলের সভাপতি ডা. আরিফুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শফিকুল আলম নাদিমের পরিচালরায় সহসভাপতি মশিউজ্জামান পান্নু, মজিবুল্লাহ মুজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম জাকির হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নিজাম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ

 

: আরও পড়ুন

আরও