শুভ জন্মদিন: মানবতার বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২০ | ১৭ কার্তিক ১৪২৭

শুভ জন্মদিন: মানবতার বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা

মানিক লাল ঘোষ ২:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০

শুভ জন্মদিন: মানবতার বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা
নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যিনি আজ বিশ্ব মানবতার বাতিঘর। যাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনার, বিশ্বভাবনা, জনভাবনা আজ শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রশংসিত সারাবিশ্বে- তাঁর নাম শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার যাদেরকে রোহিঙ্গা বলে মুসলমান বলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, সেনাবাহিনীর অস্ত্রের মুখে যাদেরকে সমুদ্রবক্ষে ঠেলে দিয়েছে তাদেরকে মাতৃস্নেহে কোলে তুলে নিয়েছেন বিশ্বনেতা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও সাধনার প্রতিচ্ছবি কাকে না আপ্লুত করে? শুধুমাত্র মত ও পথের পার্থক্য আছে এবং যারা জন্ম থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী তাদের কথা ভিন্ন। তাদের কাছে শেখ হাসিনা গাত্রদাহ। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা বেঁচে না থাকলে অনেক আগেই তাদের পূর্ব পুরুষদের পেয়ারে পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরে যেতে পারতো বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে বাংলাদেশ হতো জঙ্গিরাষ্ট্র। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার এই বাংলাদেশ তারাতো চায়নি কখনো!

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যের নির্মম মৃত্যুর  দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বাংলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যস্ত থেকে তাদের মাঝে তিনি আদরের ছোট ভাই রাসেলকে খুঁজে ফেরেন পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে। ’৭৫ এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভ্রান্ত ইতিহাসের অন্ধকারের যবনিকা ঠেলে আলোকবর্তিকা হয়ে জাতির কাছে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তাঁর দুই শিশু সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে এদেশের গণতন্ত্র আর প্রগতিশীল রাজনীতি ফেরাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসেন শেখ হাসিনা।

বাংলার আকাশের কালো মেঘের মতোই সেদিন প্রকৃতিও ছিলো কালো মেঘে ঢাকা। কালবৈশাখী ঝড়। বাতাসের বেগ ছিলো ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। তারপরেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে নেমেছিল মানুষের ঢল। জনতার আবেগের কাছে সেদিন হার মেনেছে প্রকৃতিও। জন্মভূমির মাটিতে পা রেখে আবেগ আপ্লুত শেখ হাসিনা সেদিন বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে পিতার নির্দেশিত পথে প্রয়োজনে বাবার মতো নিজের জীবনও উৎসর্গ করবেন তিনি।

তারপর আর থেমে থাকা নয়। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। দলীয় নেতা-কর্মীদের করেন ঐক্যবদ্ধ। সেই থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। অনেক ত্যাগ, অনেক তিতিক্ষা আর ষড়যন্ত্র, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ ১৮ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়। ১/১১  তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কারাবন্দী জীবন, ’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের নীল নকশা প্রতিরোধসহ প্রতিটি মুহূর্তেই শত সংকট আর চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে জীবনের জয়গান গাইছেন শেখ হাসিনা। 

বাংলার মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা হচ্ছে শক্তি আর নেপথ্যে তার সততা, দূরদর্শিতা, মেধা, নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা, উদারতা আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। দূরদর্শিতা তাকে আজ রাজনীতির অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান তিনি। শিশুকাল থেকেই মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মানবিক শিক্ষা আলোকিত হন শেখ হাসিনা। বাল্যশিক্ষা গ্রহণ করেন টুঙ্গিপাড়ায়। ১৯৫৬ সালে টিকাটুলীর নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৭ সালে গভর্মেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমানে ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে।

ছাত্র জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। নির্বাচিত হন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ছাত্রলীগ রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা। অংশগ্রহণ করেন সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে।

বিয়ের কারণে শিক্ষা জীবনে ছেদ পড়ে বঙ্গবন্ধুরকন্যার। অনার্সের পরিবর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করে স্মাতক ডিগ্রি। বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার সাথে। শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয় একজন খ্যাতিসম্পন্ন প্রযুক্তি বিশারদ। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ তারই অবদান। একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ পুতুল একজন মনোবিজ্ঞানী। কাজ করেছেন অটিজম শিশুদের কল্যাণে। মায়ের মতো মানবিক কল্যাণে তিনিও আজ বিশ্ব প্রসংশিত।

চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনবার।  সরকার পরিচালনায় দক্ষতার সাথে সাফল্যের পাল্লা ভারী করছেন প্রতিনিয়ত। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণসহ সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় বয়স্ক ও বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাসসহ নানাবিধ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে উদ্যোগ নেন ইনডেমিনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রম শুরু করার। জাতিকে কলংকমুক্ত করার জন্য শুরু করেন জাতীয় চারনেতা হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার আলো বিস্তারের মতো উদ্যোগ নেন বিদ্যুতের আলোতেও দেশকে আলোকিত করতে। বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩,২৬০ মেগাওয়াটে উন্নতিকরণ, গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ৫ কোটি মানুষকে মধ্যবিত্তে উন্নীতকরণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নকে ডিজিটাল সেন্টারের আওতায় আনা, মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড, ১০ টাকায় তাদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়া, স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনসহ জনগণের জীবন মান উন্নয়নে গ্রহণ করেন বহুমুখী জনবান্ধব কর্মসূচি। শুধু উদ্যোগ গ্রহণ নয় তার শতভাগ বাস্তবায়নেও চেষ্টা চালায় তার সরকার।

এই সাফল্যের ধারবাহিকতায় বাংলার জনগণ আবারো বেছে নেয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে বাংলাদেশ উন্নীত হয় মধ্যম আয়ের দেশে। ভারতের পার্লামেন্ট কর্তৃক স্থলসীমানা চুক্তির অনুমোদন এবং দুই দেশ কর্তৃক অনুসমর্থনের ফলে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান ঘটে। নিজস্ব অর্থায়নে বহুল আলোচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় এই আমলে, যা আজ স্বপ্ন নয় দৃশ্যমান বাস্তবতা।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, মাই টিভি

 

আরও পড়ুন

আরও