শব্দদূষণে বিপর্যস্ত নগরবাসী
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

শব্দদূষণে বিপর্যস্ত নগরবাসী

মোশারফ হোসেন ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

শব্দদূষণে বিপর্যস্ত নগরবাসী

পরিবেশ দূষণ সমস্যা নিয়ে পুরো পৃথিবী চিন্তিত। সভ্যতার অস্তিত্বই এক মহাসংকটের মুখোমুখি। বর্তমানে ঢাকায় শব্দদূষণ ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে শহরটি বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা শহরের মানুষের সুন্দর ও নিরাপদে বসবাস করার বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। নগরায়ণের ফলে শব্দের দৌরাত্ম তথা শব্দদূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শব্দদূষণকে শব্দদানব বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি লোকের বসবাস রাজধানী ঢাকা শহরে এবং প্রায় ৯.৫ লাখেরও বেশি যানবাহন সেই সঙ্গে অসংখ্য কলকারখানা।

সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দের কারণে নগরবাসী পরিশ্রান্ত, বিরক্ত, অবসাদগ্রস্ত। বিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে দেখা যায়, পৃথিবীতে প্রতি বছর শব্দের পরিমাণ গড়ে এক ডেসিবেল করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শব্দের সমস্যা হ্রাস পাওয়া তো দূরে থাকুক, হররোজ সেটা প্রকট আকার ধারণ করছে। গাড়ির হাইড্রোলিক হর্ণ, কলকারখানা শব্দ, ঢাকঢোলের আওয়াজ, মিছিল মিটিংয়ের শব্দ, মাইক্রোফোনের আওয়াজ, জেনারেটর, রেডিও-টেলিভিশন, নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি স্থাপনা ভাঙার শব্দ, বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানসহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানের শব্দযন্ত্রের ব্যবহার। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, লটারি, টিকিট বিক্রি, পণ্যের প্রচারণা, রাজনৈতিক সভা-বক্তব্য, বিমানের শব্দ, রেলের শব্দ, পুরনো কলকারখানার যন্ত্রপাতি শব্দ, লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের শব্দ, গোষ্ঠীগত কার্যকলাপ, বিভিন্ন হট্টগোল ইত্যাদি।

শব্দ সম্পর্কে পিথাগোরাসের গবেষণাই সবচেয়ে প্রাচীন। পরিমিত শব্দ যেমন মধুর গানের সৃষ্টি করে, মানবহৃদয়কে অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে দেয়। শব্দ ছন্দের তালে মনপ্রাণ নেচে ওঠে। হৃদয় ভাবাবেগের পুলকে পুলকিত হয়। বিমূর্ত মনে দোলা দেয়। জীবনকে প্রাণ প্রাচুর্যে ভরিয়ে দেয়। শব্দ প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাভাবিক শব্দ আমাদের শরীর এবং মনের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। শ্রবণশক্তি একটি আশীর্বাদ, শ্রুতিসীমার বাইরে অবাঞ্ছিত শব্দ মাত্রাতিরিক্ত তীব্রতা, তীক্ষè কর্কশ, বেসুরো, বিরক্তিকর আওয়াজকে শব্দদূষণ বলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শব্দদূষণের জন্য দায়ী মর্ত্যরে মানুষ। এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কারণও কিয়দংশে দায়ী। শব্দদূষণ পরিমাপের একক ডেসিবল বিজ্ঞানী গ্রাহাম বেলের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে।

এশিয়ার মধ্যে ঢাকা শহরের শব্দদূষণের অবস্থান শীর্ষে। প্রতি বছর ঢাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি করে। যানজটের কারণে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেই সঙ্গে অহেতুক শব্দদূষণের শিকার হচ্ছে নগরবাসী। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে শব্দদানবের কবলে মন মেজাজ খিটখিটে হচ্ছে যার বাস্তব প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে।

একটু গভীরভাবে খেয়াল করলে ব্যক্তির উৎপাদন ক্ষমতা, স্বাভাবিক মানসিক লেভেল, সামাজিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সমস্যা সংকুলতার দিকে যাচ্ছে। ব্যক্তি, পরিবার তথা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যয় বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষ্যানুযায়ী শতকরা ৫০ ভাগ রোগের সৃষ্টি হয় শব্দদূষণ থেকে। শুধু মানবদেহের নয়, অন্যান্য প্রাণীও শব্দের দ্বারা প্রভাবিত হয়। শব্দদূষণের ফলে পশুপাখি, কীটপঙ্গের বাসস্থানের পরিবর্তন ঘটে। এতে বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শেষ পরিণতিতে পরিবেশের ভারসম্যহীনতা দেখা দেয়। রাজধানীতে বিভিন্ন ব্রান্ডের দামি গাড়িতে সাইরেন বাহুটারের শব্দ। উচ্চ সাইরেনযুক্ত যানবাহন। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারের বিভ্রান্তিকর উৎকন্ঠ শব্দ সাধারণ জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। পূর্বে সাইরেন বাজানো হতো রাষ্ট্রের জরুরি কাজে, সরকারি গাড়িতে, রোগীর অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে, পুলিশের গাড়িতে। কিন্তু বর্তমানে তা ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমীক্ষা থেকে জানা যায়, ঢাকা শহরের যানবাহন প্রতি ঘণ্টায় গতিসীমা সর্বোচ্চ ৭ কিলোমিটারেরও বেশি না হওয়া সত্ত্বেও হালের চালকদের মাঝে অকারণে যত্রতত্র উচ্চমাত্রায় হর্ণ বাজানোর প্রবণতা লক্ষণীয়। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগরীর প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ মানুষের স্বাভাবিক শব্দ শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পাবে। মানুষ শব্দযন্ত্রণায় রীতিমতো জর্জরিত, নিষ্পেষিত।

ঐতিহ্যবাহী শহর ঢাকা। কালের বিবর্তনে এ নগরী শব্দদূষণে বিপর্যস্ত, রুগ্ন-অসুস্থ ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের মানুষগুলোর মধ্যে উন্নত জীবনবোধের অভাব, সঠিক শিক্ষার হারের ঘাটতি, দেশপ্রেম না থাকা, দায়িত্বে অবহেলা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা, অদূরদর্র্শিতা, অসচেতনতা ইত্যাদি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী। গাড়ির হর্ন বাজানোর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোনো সঠিক নির্দেশনা, ট্রাফিক আইন না থাকায় শহরের অনেক অংশে শব্দদূষণ প্রকট আকার ধারণ করছে প্রতিনিয়ত। আকস্মিক শব্দের কারণে অনেক সময় সড়কে দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হচ্ছে ৬০ ডেসিবল। সেখানে ঢাকা শহরের বেশিরভাগ এলাকায় সার্বক্ষণিক গড়মাত্রা ১০০ ডেসিবল বা তারও বেশি। সময়ের পরিক্রমায় ক্রমাগতভাবে নতুন নতুন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে শব্দদূষণ। এ শব্দদূষণকে শব্দসন্ত্রাস বললেও ভুল হবে না। গবেষণা থেকে জানা যায়, এভাবে শব্দদূষণ অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের মোট জনসংখ্যা তিন ভাগের এক ভাগ শ্রবণ ক্ষমতা লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাবে।

বর্তমানে নগরজীবনের মারাত্মক সমস্যার নাম শব্দদূষণ। শব্দদূষণ আমাদের নাগরিক জীবনকে করে তুলেছে বিপন্ন। পরিবেশের ভারসাম্যের অন্যতম প্রতিবন্ধক শব্দদূষণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী- পনেরো বয়সের নিচে জনসংখ্যার মধ্যে শ্রুতি প্রতিবন্ধীর মাত্রা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ২.৫ শতাংশ বেশি। শব্দ দূষণের মাত্রা অব্যাহত থাকলে শিশুদের মধ্যে বধিরতার হার ক্রমাগত বাড়তে থাকবে এবং আগামী দিনের কর্ণধার শিশু লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও মানসিক বিকাশের পথ পরিক্রমা বন্ধ হয়ে বিকারগ্রস্ত হবে। প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড সি হিউজের মতে, অপ্রীতিকর শব্দ এমনকি সজোরে প্রীতিকর শব্দ যদি কর্মক্লান্ত প্রহর শেষে কাউকে দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রণা দিতে থাকে তাহলে মারাত্মক রকমের মানসিক সমস্যায় নিপতিত হবে। ব্যক্তি এমনকি আক্রমণাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে। ঘুম না হওয়ার কারণে কর্মক্ষমতা, সৃজনশীল প্রতিভার ব্যাঘাত ঘটে থাকে। আমদের নগরের প্রায় সকলকেই কোনো না কোনোভাবে শব্দদূষণ বিপর্যয়ের সম্মুখীন করছে। শরীর ও মন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। মানসিক অবসাদ, উদ্বিগ্নতা, আবেগ, স্মৃতিশক্তি ও বিচার বিবেচনায় নেতিবাচক পরিবর্তনে স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বাড়ছে মানসিক রোগ। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি পাঁচ জনের একজন কোনো না কোনোভাবে মানসিক সমস্যায় ভোগেন।

সুস্থ দেহ সুস্থ মন, কর্মব্যস্ত সুখী জীবন। কথাটির রেশ ধরে বলা যায় চিত্তের সুখ দেহের সুস্থতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শব্দযন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে অনেকে নেশার ওষুধ গ্রহণ করেন। প্রশান্তিদায়ক ও ঘুমের ওষুধ গ্রহণ, অতিরিক্ত মদ্যপানের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
৯০ ডেসিবেলের অধিক শব্দ কার্র্যক্ষমতা হ্রাস, শ্রুতিশক্তিহানি, রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, হাঁপানি, ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুসের সমস্যা, স্মৃতিশক্তি লোপ, স্নায়ুবিক সমস্যা। পেপটিক আলসার, বধির হওয়া, একজিমা, চর্মরোগ, হজমে গোলযোগ, খিটখিটে মেজাজ, বমি ভাব, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ, অনিদ্রা, ডায়রিয়া, অকাল গর্ভপাত, সুস্থ-সুন্দর চিন্তায় বাধার সৃষ্টি, সর্বোপরি জীবনশক্তি লোপ পাওয়ার মতো দুরারোগ্য রোগ হওয়ার সমূহ আশঙ্কা থেকেই যায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ ক্ষেত্রে ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই ভুক্তভোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদিত গ্রহণযোগ্য মাত্রার তুলনায় ঢাকা শহরে গড়ে শব্দের মাত্রা এখন প্রায় দ্বিগুণ। বিজ্ঞানীদের ধারণানুযায়ী দৈনন্দিন শব্দদানবের অত্যাচারে মানবকুল ছাড়াও বিভিন্ন ইতর প্রাণী, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি উৎপাদনে, উচ্চ মাত্রার শব্দের ভারি যানবাহন, রেলগাড়ি বা আকাশে বিমানের শব্দ উৎপাদন ব্যাঘাত ঘটায়। শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে নানা মহল এ ব্যাপারে সোচ্চার হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন দেশ ও দশের কথা ভেবে সচেতনতার নানা কর্মকাণ্ড আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন প্রচার প্রচারণায়। আমি হর্ন বাজাই না বন্ধু। (www.facebook.com/hornFree Bangladesh) জনসচেতনতায় : স্বপ্নময়। এদের বিভিন্ন প্রতিপাদ্য চোখে পড়ে। যেমন- ‘হর্নমুক্ত বাংলাদেশ, আরও সুস্থ বাংলাদেশ’, ‘আপনার দেওয়া হর্নে, ব্যথা পাই কর্ণে’, ‘ভালো ড্রাইভার হর্ন দেয় না’, ‘চাপ, বাপ! হর্নে দিস না চাপ’।

রাজধানীর ২০টি স্থানে মাত্রা দূষণের জরিপে উঠে এসেছে। অধিকাংশ জায়গায় সরকারের দেওয়া মানমাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ লক্ষ করা গেছে। মাইক ও সাউন্ড বক্স থেকে সৃষ্ট শব্দদূষণ। ধানমন্ডি, জিগাতলা, কাজিপাড়া, মুগদাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে শব্দ মাপার যন্ত্র দিয়ে ২০টি স্থানের মধ্যে ১৪টি স্থানে ১২০ ডেসিবেলের চেয়ে অধিক মাত্রায় শব্দ ধরা পড়েছে।

খুব লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে এ মাত্রার শব্দ যদি ঘণ্টাখানেক কোনো ব্যক্তি শোনে তাহলে তার স্থায়ীভাবে বধির হওয়ার আশঙ্কার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলায় ৫৫ ডেসিবল, রাতে ৪৫ ডেসিবল, হওয়া বাঞ্ছনীয়। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলায় ৬৫ ডেসিবল, রাতে ৫৫ ডেসিবল। নীরব জোনে দিনে ৫০ ডেসিবল, আর রাতে ৪০ ডেসিবল হওয়া উচিত। শঙ্কিত হওয়ার বিষয় হচ্ছে রোগীর অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির শব্দের মাত্রা বাজানোর সময় ১২০ ডেসিবলের ওপরে থাকে।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর সচিবালয়ের চারপাশে জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, সচিবালয়, লিংক রোড থেকে জিরো পয়েন্ট এলাকায় নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সহনীয় মাত্রা অর্থাৎ মান মাত্রাকে ৫০ ডেসিবল, সেখানে ওই এলাকায় বিরাজমান শব্দের মাত্রা প্রায় ৮০-১০০ ডেসিবল পর্যন্ত।

শব্দদূষণ রোধকল্পের কিছু সুপারিশ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো। হাসপাতাল, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ড মূল রাস্তা থেকে একটু দূরে স্থাপন করতে হবে। পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য পরিবেশবাদী সংগঠন, সরকারি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট অধিদফতর, পরিদফতর, আন্তঃমন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সরকারি,আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্ব মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। দিবস পালন, র‌্যালি, ক্যাম্পেইন কর্মসূচি, বিভিন্ন মিডিয়া, সরকারি দল ও বিরোধী দলের কর্মসূচি, বিষয়টিকে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্তকরণ, বছরব্যাপী এ বিষয়ে গবেষণা, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ, সচেতনতামূলক পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি এ সম্পর্কে আইন হালনাগাদ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। কারখানার পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করতে হবে। যেমন- ধোঁয়া বের হওয়ার সাইলেন্সার নতুন করে স্থাপন করতে হবে, যাতে বিকট শব্দ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। রাস্তার পাশে, কলকারখানা, অফিস আদালত সংলগ্ন স্থানে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। যাতে শব্দ শোষিত হয়, পরিবেশ স্বাভাবিক থাকে।

সর্বোপরি দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কার্যকরী ভূমিকা রাখা উচিত। প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ববোধই পারে বিপর্যস্ত নগরীকে রক্ষা করতে।

মোশারফ হোসেন : লেখক ও গবেষক; প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি ইস্পাহানী কলেজ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
mamun86cu@gmail.com

 

মতান্তর: আরও পড়ুন

আরও