ফের গ্রেফতার সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

>

ফের গ্রেফতার সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২২

ফের গ্রেফতার সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস
সুনামগঞ্জের শাল্লায় ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’র ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পুলিশের মামলায় কারাবরণকারী সেই ঝুমন দাসকে (২৬) ফের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ঝুমন দাস শাল্লার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের গোপেন্দ্র দাসের ছেলে।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঝুমন দাশকে তার নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা তাকে থানায় আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম। 

এ বিষয়ে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত রোববার বেলা ৩টার দিকে ঝুমন দাস তাঁর ‘ঝুমন দাস আপন’ ফেসবুক আইডিতে ‘মসজিদ-মন্দির’ নিয়ে একটি ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট করেন। ওই পোস্টের পর এলাকার মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঝুমন দাসকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় পোস্টটি তার করা বলে স্বীকার করেন তিনি। শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় ঝুমন দাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়। 

বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঝুমনের ভাই নুপুর দাশ বলেন, “সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাকে থানায় নিয়ে যায়। এর আগে দুই দিন ধরে তাকে ফলো করছিল পুলিশ। তার মোবাইল পুলিশ নিয়ে গেছে এবং কিছু পোস্ট মুছে দিয়েছে।”

নুপুর আরও বলেন, “সন্ধ্যায় ঝুমনের স্ত্রী থানায় গেলে তাকে জানানো হয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঝুমনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু মধ্যরাতে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাশ। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন। সে কারণে নোয়াগাঁও গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। ঝুমন দাশের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির বাড়ি, মন্দির ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close