দিগন্তজুড়ে সবুজের ফাঁকে হলুদের সমারোহ
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৫ মে ২০২২ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

>

দিগন্তজুড়ে সবুজের ফাঁকে হলুদের সমারোহ

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০২২

দিগন্তজুড়ে সবুজের ফাঁকে হলুদের সমারোহ
টাঙ্গাইলে এখন সবত্রই মাঠ জুড়ে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আর এতে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সরিষা গাছের হলুদ ফুলের সমারোহ। দেখলেই সবারই মন ও চোখ জুড়িয়ে যাবে।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে কৃষকরা এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর জেলায় সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে তাকালে যেন সবুজের ফাঁকে হলুদের সমাহার। মাঠের চারিদিক যেন হলুদে হলুদে পরিপূর্ণ। কখনো কখনো সরিষার ক্ষেতে বসছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক। 

শীতের কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চাষীরা সরিষা ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। প্রায় সবারই সরিষা আবাদ করা শেষ। এখন অপেক্ষা ঘরে তোলার। রাস্তার দু’পাশের জমি গুলোতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। আর যখন যানবাহন করে রাস্তা দিয়ে যাওয়া হয় তখন সবারই চোখ জুড়িয়ে যায়। বাতাসে দুলে এসব সরিষার ফুল। আর এই দোল খাওয়া সবার মন কেড়ে নেয়। সরিষা ফুলের শোভা আরো বাড়িয়ে তুলেছে অসংখ্য মৌমাছির দল গুণগুনিয়ে মধু আহরণে ব্যস্ততায়।

সরিষার ফুলে ফুলে হলুদ বর্ণের বর্ণিল জমি গুলোতে আশে পাশে দুর-দুরান্ত থেকে সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকরা বেড়াতে আসছেন। আবার সরিষার ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার জন্য অনেক তরুণ-তরুণীরা ক্যামারা ও ভিডিও’র মাধ্যমে নিজের ছবির সাথে সরিষার ফুলের ছবি ধরে রাখছেন।

এদিকে সরিষার সাথে সাথে মাঠে বোরো ধানের বীজতলা করা হয়েছে। এর ফলে মাঠে মাঠে হলুদের সাথে সবুজের সমাহার হয়েছে।

কৃষকরা বলেন, বৃষ্টির এবং ‘কাটুই’ পোকার কারণে প্রথম দিকে সরিষার কিছুটা ক্ষতি হলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষকরা। আমন ধান ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই শাক-সবজির পাশাপাশি সরিষার আবাদ করে থাকি। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫ মণ সরিষা উৎপাদন হয়।

সদর উপজেলার চর পাকুল্লা গ্রামের সরিষা চাষী আব্দুল হালিম মোল্লা বলেন, এবার আমি প্রায় ৫ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। এতে আমার বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব কিছু দাম বেশি থাকায় আগের তুলনায় এবার বিঘা প্রতি সরিষা আবাদে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার টাকা খবর বেড়েছে। আশা করছি এবার ভালো ফলন পাবো।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। দাম বেশি থাকায় গত বছর সরিষা আবাদ করে লাভবান হয়েছিলাম। তাই এ বছর লাভের আশায় সরিষা আবাদ করেছি।

একই গ্রামের আব্দুল খালেক মোল্লা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়ার পড়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে ফলন ভালো হবে। কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। বাজারে দাম ভালো, সরিষার খৈল ও সরিষা ভূষি গরুর ভালো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া সরিষার নাড়া জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলায় বারি ১৪, ১৫, ১৭ এবং টরি ৭ ইত্যাদি জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলায় এ বছর সরিষার লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৪৫ হাজার ৭শ’ হেক্টর। কিন্তু আবাদ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৮৮ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে। অপরদিকে গত বছর ৪৫ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিলো। যা গত বছরের চেয়ে চলতি বছর বেশি জমিতে আবাদ করা হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল বাশার বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ৫ হাজার হেক্টের জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। একই সাথে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ করা হয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে ২৪ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে প্রনোদনার আওতায় এনে সহায়তা করা হয়েছিলো। যার ফলে এসব কৃষকরা সরিষার আবাদ করেছে। এ বছর বন্যার কারণে কিছু জমিতে আমান ধান ডুবে গিয়েছিলো। যার ফলে পরবর্তীতে ওইসব জমিতে কৃষকরা অন্য কিছু করতে পারেনি। জমি খালি থাকায় কৃষকরা সরিষার আবাদ করে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা সরিষা আবাদে ঝুকেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার টাঙ্গাইল জেলায় সরিষার ভালো ফলন হবে। সরিষা চাষে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আশা করছি গত বছরের চেয়ে এবার ফলন ভালো হবে।

কৃষি অফিসার বলেন, ‘জেলায় এবার সরিষার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ৯৮৫টি মৌ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। মৌমাছি থাকার ফলে ২০ ভাগ পরাগায়ন বেড়ে যায়। আর এতে কৃষকের ফলনও ভালো হয় বলে তিনি জানান।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close