মুন্সিগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই শিশুর পর চলে গেলেন বাবাও
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২ | ১০ মাঘ ১৪২৮

মুন্সিগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই শিশুর পর চলে গেলেন বাবাও

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ৯:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০২১

মুন্সিগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই শিশুর পর চলে গেলেন বাবাও
মুন্সিগঞ্জে ভবনে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে দুই শিশুর মৃত্যুর পর এবার তাদের বাবাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সন্তানের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাদের বাবাকেও।

নিহতদের কিশোরগঞ্জের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশ। এদিকে, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অগ্নিদগ্ধ গৃহবধূ শান্তা খানম। 

শনিবার (০৪ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ কিশোরগঞ্জের কাওসার খান (৩৭)।

এর আগে বৃহস্পতিবার (০২ ডিসেম্বর) রাতে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাওসারের ছেলে ইয়াসিন খান (০৬) ও ফাতেমা নোহরা খানমের (০৩) মৃত্যু হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় কাওসার খানের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরের বোয়ালিয়া এলাকায় তার মরদেহ আনা হলে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আগের দিন আনা হয় তার দুই সন্তানের মরদেহ। খানবাড়ি গোরস্তানে তাদের পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়। তাদের বাড়িতে এখন চলছে শোকের মাতম। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

আবুল খায়ের গ্রুপের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি স্বজন ও এলাকাবাসীর।

নিহত কাওসারের স্বজনরা জানান, মুন্সিগঞ্জে আবুল খায়ের গ্রুপে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন কাওসার খান। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন মুক্তারপুর এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বৃহস্পতিবার ভোরে মুন্সিগঞ্জের চর মুক্তারপুরের শাহ সিমেন্ট রোডে জয়নাল মিয়ার ওই চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কাওসারের পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন।

এ ঘটনায় কাওসারের স্ত্রী শান্তা খানম (২৭) শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।  এছাড়া দগ্ধ অন্যজন তাদের প্রতিবেশী হৃতিকা পালকে (৪) স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শান্তা খানমের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরেরও ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। 


নিহত কাওসার খান কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের বয়লা খাঁন বাড়ির বাসিন্দা আব্দুস সালাম খানের ছেলে। তিনি মুন্সীগঞ্জের আবুল খায়ের গ্রুপে ওয়েল্ডার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

কাওসারের ছোট ভাই কাইয়ুম খান জানান, ‘এ শোক আমরা কিভাবে বইবো। পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা এখন কী করবো।’

স্বজনরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে কাওসার খান মুন্সিগঞ্জে থাকতেন। মাঝে মাঝে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে বেড়াতে আসতেন। এ ঘটনায় সরকারের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন তারা।

ওএস/এসবিসি 
 

আরও পড়ুন

আরও