টাঙ্গাইলে দুধ দিচ্ছে ১৩ মাস বয়সী বকনা বাছুর!
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১ আশ্বিন ১৪২৮

টাঙ্গাইলে দুধ দিচ্ছে ১৩ মাস বয়সী বকনা বাছুর!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২১

টাঙ্গাইলে দুধ দিচ্ছে ১৩ মাস বয়সী বকনা বাছুর!
গাভি দুধ দেয়, এটা সবার জানা। কিš‘ বা”চা প্রসব ছাড়াই বকনা বাছুর দুধ দেয় এমন ঘটনা বিরল।
এবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১৩ মাস বয়সী এক বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে। আর সেই দুধ খেয়ে বড় হচ্ছে ১ মাস বয়সী বাছুর। 

সখীপুর উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে।

বকনা বাছুরের মালিক খোরশেদ আলম দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে। ওই দুধ পরিবারের কেউ খেতে চায় না। বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন তাও মনে বাধ সাধে। বাধ্য হয়ে ওই দুধ বকনার ওলান থেকে সংগ্রহ করে ফেলে দিতে হয়েছে। কোনো সময় কুকুর-বিড়ালকেও খেতে দিতে হয়েছে।

জানা যায়, বাছুর প্রসব করে মা গাভি মারা গেছে অথবা গাভি অসু¯’ তাই বাছুর দুধ পাচ্ছেনা- এমন এক বাছুরের সন্ধানে নামেন খোরশেদ আলম। 

গত ১৫-২০ দিন আগে পাশের কোকিলাপাবর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ১৫ দিন বয়সী এক বাছুরের সন্ধান পান খোরশেদ আলম। মোহাম্মদ আলীর একটি গাভি বাছুর প্রসব করেই মা গাভিটি অসু¯’ হয়ে পড়ে। গাভির ওলানের দুধ শুকিয়ে যায়। বাছুর দুধ খেতে গেলে অসু¯’ গাভি লাথি মেরে ফেলে দেয়। দুধের অভাবে ওই বাছুরটি দুর্বল হয়ে পড়ে। 

খোরশেদ আট হাজার টাকায় ওই বাছুরটি কিনে তার ১৩ মাস বয়সী বকনা বাছুরের কাছে নিয়ে যান। ছোট বাছুরটিকে ওই বকনা বাছুরটি সন্তানের মতো গ্রহণ করে। 

গত ১৫ দিন ধরে ১৩ মাস বয়সী বকনা বাছুরের দুধ খেয়ে বড় হচ্ছে বাছুরটি।

খোরশেদ আলম বলেন, আমিও বকনার ওই দুধ নিয়ে বিপদে পড়েছিলাম।

অন্যদিকে পাশের গ্রামের মোহাম্মদ আলীরও ওই ১৫ দিন বয়সী বাছুর দুধ না পেয়ে তার বাছুরটি কাহিল হয়ে পড়েছিল। সেও চিন্তায় পড়েছিল তার বাছুরকে নিয়ে। এ অবস্থায় দুই জনেরই উপকার হয়েছে। 

আমার কেনা বাছুরটি আগামী ৬ মাস দুধ খেতে পারলে ওই বাছুরের মূল্য হবে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

খোরশেদ আলমের স্ত্রী মর্জিনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাভি পালন করছেন। ১৩ মাস আগে তার পালিত বিদেশি জাতের গাভিটির বাছুর হয়। আর সেই বাছুরকে লালন-পালন করে আসছেন তিনি। গত তিন মাস আগে ১০ মাস বয়সী বাছুরকে গোসল করাতে গেলে গরুটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন, এর ওলানে দুধ জমেছে। 

তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পাওয়া যায়। এরপর দুধের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ওই সময় আমার এ বকনা বাছুরটিকে দেখতে মানুষের ভিড় লেগে যায়।

এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল জলিল বলেন, হরমোনের কারণে এমনটা হয়। তবে এমন ঘটনাও বিরল। একটি বকনা বাছুর প্রসব ছাড়াই আপনা আপনিই দুধ দিচ্ছে। অন্যদিকে আরেক বাছুর জন্ম নিয়েও মায়ের দুধ পাচ্ছে না। খোরশেদ আলম একটি ভালো কাজই করেছেন। দুই বাছুরেই উপকার হয়েছে। এটাও একটা মহৎ কাজ। সবই সৃষ্টির রহস্য।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও