চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ২ কার্তিক ১৪২৮

চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ৬:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২১

চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
সময়মতো পরিমিত বৃষ্টি না হওয়া ও প্রকৃতির বিরূপ আবহাওয়া থাকা সত্বেও গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ৫ মিলিয়ন কেজি বেশী চা উৎপাদন হয়েছে। চা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন,এ আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছরের চা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৭৫ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে ৯০ মিলিয়নের কাছাকাছি যাবে বলে আশাবাদী তারা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড.এ.কে.এম রফিকুল হক জানান,প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চলতি মৌসুমে গত জুলাই মাস পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন হয়েছে ৩৮.৩১ মিলিয়ন কেজি। অথচ ২০২০ সালের জুলাই মাসে উৎপাদন হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন কেজি। 

তিনি জানান, দেশের সকল বাগান থেকে গত ২৪ আগস্ট পাওয়া তথ্যানুযায়ী দেখা গেছে চলতি মৌসুমের  জুলাই মাস পর্যন্ত গতবছরের উৎপাদনের চেয়ে চলমান মৌসুমে ৪ দশমিক ৩২ মিলিয়ন কেজি চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে এ বছর চা উৎপাদন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত তাদের বাগানে প্রায় ৩ পারসেন্ট চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। তিনি জানান,মৌসুমের শুরুতে এ বছর চায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়নি। গত বছরের তুলনায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। যা গত বছর জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিলো ৬০ ইঞ্চি। আর চলমান মৌসুমে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ইঞ্চি। 

রেজা জানান,চায়ের জন্য বছরে ৮০ থেকে ১০০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। মৌসুমের শুরুর দিকে চা শিল্প তীব্রখরার মূখে পড়ে। যদি পরিমিত বৃষ্টি পাওয়া যেতো,তাহলে এ বছর চায়ের উৎপাদন শত মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতো। এদিকে চলমান  বছরে বৃষ্টির মৌসুম প্রায় শেষ। আর খুব বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছরের গত জুন মাস পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে এতো কম বৃষ্টিপাত হয়েছে যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে কম বৃষ্টিপাতের জন্য রেকর্ড  হতে পারে। 

চা শিল্পের বৃহৎ চা কোম্পানী ফিনলে টি’র সিইও তাসিন আহমদ চৌধুরী জানান, বছরের শুরুর দিকে তাদের কে প্রতিকুল  আবহাওয়ার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কৃত্রিম পানি দিয়ে চা গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছে। গত দুই মাস ধরে ভালো বৃষ্টিপাত  হওয়ায় চা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের বাগান গুলোতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ পারসেন্ট চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। তবে বিগত ২০১৯ সালের চায়ের রেকর্ড বছরের চেয়ে কম। 
তিনি বলেন, মৌসুমের বাকী সময়টুকু যদি পরিমিত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে তাহলে চায়ের আশাব্যঞ্জক উৎপাদন হবে। 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান,এবছর শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলায় গত জুন মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। অন্যদিকে প্রখর রোদের পরিমাণও কম ছিলো।

বাংলাদেশ চা গবেষনা ইনষ্টিটিউট এর পরিচালক ড.মোহাম্মদ আলী বলেন,প্রকৃতির বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বছরের শুরুর দিকে চা উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া চায়ের জন্য পরোপুরি অনকুলে। বাগানগুলোতে পোকা মাকড়ের উপদ্রবও কম। এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ৭৫ মিলিয়ন কেজি  ছাড়িয়ে ৯০ মিলিয়নের কাছাকাছি যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

এসবিসি 
 

আরও পড়ুন

আরও