সিলেটে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১ | ২ কার্তিক ১৪২৮

সিলেটে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা

সিলেট প্রতিনিধি ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২১

সিলেটে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার তরুণীর আত্মহত্যার চেষ্টা
সিলেটে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তারা কেন্দ্রের জানালার কাঁচ ভেঙে হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

পরে চার তরুণীকে রক্তাক্ত অবস্থায় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুুনর্বাসন কেন্দ্রের স্টোরের দায়িত্বে থাকা প্রশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ও অফিস সহকারী আনোয়ারা বেগমের নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে তারা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তারা।

ওসমানীতে চিকিৎসাধীন চারজন অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষক দেলোয়ার ও অফিস সহকারী আনোয়ারা তাদের নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। আনোয়ারা বিভিন্ন সময় তাদের জুতা পেটাও করেছেন। 

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেলোয়ার তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন; অশ্লীল কথাবার্তা বলেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুইজনের নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পেরে তারা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে জানান। 

আত্মহত্যা চেষ্টাকারী চারজন জানান, বর্তমানে কেন্দ্রে ৪০ জন বাসিন্দার মধ্যে দুইজন শিশু ছাড়া বাকি সকলে কিশোরী-তরুণী। সম্প্রতি কেন্দ্রের বাসিন্দা এক তরুণী বিষপানে আত্মহত্যা করেন; যার জন্য শুক্রবার শিরণী অনুষ্ঠান হবে। বৃহস্পতিবার এ শিরনী নিয়ে দেলোয়ারের খারাপ ব্যবহারের পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন চারজন।

তবে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, ওই প্রশিক্ষণার্থীরা সামান্য কিছু হলেই হাত কেঁটে ফেলে। একাধিকবার তারা এমন করেছে। তিনি বলেন, শিরণীর অনুষ্ঠানের জন্য তারা বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছিল। স্টোরে অতিরিক্ত বরাদ্দ না থাকার কথা বললে তারা শুনতে চায়নি। 

অপর অভিযুক্ত আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী ব্যবস্থাপক লুৎফুর রহমানও ফোন ধরেননি। 

এদিকে, গত ২২ জুলাই নগরীর বাগবাড়িতে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত ছোটমণি নিবাসে দুই মাস ১১ দিন বয়সী এক শিশুকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে ১২ আগষ্ট নিবাসের আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

অবুঝ শিশুর কান্নায় অতিষ্ট হয়ে আয়া সুলতানা প্রথমে বিছানায় আছাড় মেরে ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর সংশ্লিষ্টরা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় নিবাসের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে। আয়া সুলতানা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও ঘটনা ধামাচাপার কোন ব্যবস্থা হয়নি।

শিশু হত্যা নিয়ে তোলপাড়ের মধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আরেক প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসকসহ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এই সময় কেন্দ্রের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও সমাজসেবা অধিদপ্তর, সিলেটের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ সমকালকে বলেন, তারা অবস্থানকালে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস তারা দিয়ে এসেছিলেন।

ওএস/এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও