যে কারণে আইভীর গলায় জয়ের মালা
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২০ | ২১ চৈত্র ১৪২৬

যে কারণে আইভীর গলায় জয়ের মালা

আবদুস সালাম, নারায়ণগঞ্জ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬

যে কারণে আইভীর গলায় জয়ের মালা

টানা তেরো বছর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বে থাকার পরেও কেন আবারো নারায়ণগঞ্জবাসী বেছে নিলো আইভীকে? মূলত সন্ত্রাসী-গডফাদারদের কাছে মাথা নত না করার করাই আইভীকে বিশাল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। পাশাপাশি কাজ করেছে তার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এছাড়াও রয়েছে তার ব্যক্তিগত সততা ও পারিবারিক ঐতিহ্য।

নারায়ণগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে মেয়র আইভী প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে প্রতিপক্ষ বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খানকে পরাজিত করেছেন। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট। এর আগে প্রথম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের শামীম ওসমানকে লক্ষাধিক ভোটে পরাজিত করেছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান আইভীর বিজয়ের কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘২২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আইভী শুধু বিএনপির প্রার্থীকেই পরাজিত করেননি, এই জয়ের জন্য তাকে লড়তে হয়েছে নিজ দলের একটি অপশক্তির বিরুদ্ধে। অনেক চাপ এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আইভি আজ জয়ী। অতীতেও তাকে এই এই অপশক্তিগুলোকে মোকাবেলা করতে হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইভী বিজয়ী হওয়ার মূল কারণ হচ্ছে সে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাস, গডফাদারদের বিরুদ্ধে আপসহীন। তার কারণে এ গডফাদার চক্র যা ইচ্ছে তা-ই করতে পারে না। এদের অপকর্মে আইভী বাধা হয়ে দাঁড়ান। তার এ ভূমিকার কারণে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেছে নারায়ণগঞ্জে শান্তি বজায় রাখতে, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে, নিজের সন্তানকে নিরাপদ রাখতে হলে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দরকার।’

আইভীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিশাল ব্যবধানের কারণ তার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বলে মনে করেন কবি আরিফ বুলবুল। তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪৪ কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে বন্দরে ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা, হাতির ঝিলের আদলে নগরীর বাবুরাইলে বেগম ফজিলাতুন্নেসা পার্ক প্রকল্প, পঞ্চবটীতে অ্যাডভেঞ্চার ল্যান্ড পার্ক, শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদী পর্যন্ত খাল উদ্ধার ও সংস্কার, বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনসহ বর্ধিত ও নতুন রাস্তা, মাতৃসদন নির্মাণ ইত্যাদি।’

তিনি বলেন ‘ডা. আইভী এর আগে পৌরসভার সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে দিয়েছেন। আর গত সিটি কর্পোরেশনের সময়ে তিনি বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। এর জের ধরে মানুষ তাকে ব্যাপকভাবে ভোট দিয়েছে।’

এ নির্বাচনের লাইনে নারী ও তরুণ ভোটারদের আধিক্য দেখা গেছে। তুলনামূলক কম ছিলেন পুরুষ ভোটার। আইভী তরুণ ভোটারদের ভোট একচেটিয়া পেয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। সিটি কর্পোরেশনের ভোটারদের ৭০ হাজারই ছিল নতুন ভোটার।

নগরীর ১২৪ বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও আউট সোর্সিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েব সলিউশন’ এর মালিক আবু ফাহিম বলেন, ‘এদেশের রাজনীতিবিদদের চরিত্র নিয়ে নতুন প্রজন্ম হতাশ। এর মধ্যে ব্যতিক্রম আইভী। সে মুখে যা বলে কাজে তাই করে। সে সন্ত্রাসের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা একজন অত্যন্ত সৎ নেতা। তাই নতুন প্রজন্ম তাকে আইডল মনে করে। এ কারণে তরুণ ভোটাররা তাকে ভোট দিয়েছে।’

আলী আহম্মদ চুনকার মেয়ে হিসাবে আইভীর পারিবারিক একটি ঐতিহ্য রয়েছে। আলী আহম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার পরপর দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধকও। তার বিপুল পরিমাণ নেতা-কর্মী ও অনুসারী রয়েছেন। এটিও তার বিজয়ে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

আইভীর বিজয়ের পেছনে নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান-আরা-আকসীর। তিনি বলেন, আইভী বিজয়ের নেপথ্যে জটিল কোনো অঙ্ক কষতে হবে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটা মজবুত সেটা এই নির্বাচন দেখলেই বোঝা যায়। আইভী বড় ধরনের কোনো ভুল নাই, সে মানুষের অধিকারের কথা বলে। আইভীর কাছে গিয়ে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়। এমন একজন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের কাছে আমরা নারী সমাজ আমাদের মনের কথা খুলে বলতে পারি। বিগত দিনে আইভীর প্রতিটা পদক্ষেপ ছিল সাহসী। কোন ধরনের সন্ত্রাস, অন্যায় অবিচারকে তিনি প্রশ্রয় দেননি। তার এই ভূমিকাই তাকে আজ এই বিজয় উপহার দিয়েছে।

এএস/জেআই/একে

 

বিশেষ আয়োজন: আরও পড়ুন

আরও