দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার
কারাগারে হামলা চালিয়ে বন্দী জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেয়ার হুমকির পর দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা দেশের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠান। এরপরই দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

কারা মহাপরিদর্শকের ১৮ টি নির্দেশনাযুক্ত ওই চিঠিতে কারাগারে হামলা প্রতিহত করতে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া সকল প্রকার বন্দীর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি জঙ্গি-শীর্ষ সন্ত্রাসী, বিডিআর হত্যা মামলার আসামিসহ সংবেদনশীল সকল মামলার আসামিদের চলাচল ও গতিবিধি নজরদারি করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, ‘লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেল সুপারের কাছে হুমকি দিয়ে উড়োচিঠি ও ফোন এসেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারগুলোতে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য কারা কর্মকর্তা ও রক্ষীদের সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেন কোনো হামলা হলে দ্রুত তারা প্রতিহত করতে পারেন।’

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব কারাগারের মত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরের সকল বন্দীর প্রতি কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কারা সীমানায়ও পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোন বহিরাগতকে ও বাইরের কোন পরিবহনকে কারা সীমানায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। গেটের বাইরে ও ভেতরে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সকল কর্মকাণ্ড নজরদারি করা হচ্ছে। সংবেদনশীল মামলার আসামিদের বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। গেটে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটসহ সশস্ত্র কারারক্ষী দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। কারাবন্দীর নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

কারা মহাপরিদর্শকের ১৮ নির্দেশনাযুক্ত চিঠিতে যা রয়েছেঃ

চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু দুষ্কৃতকারী কারাগার থেকে বন্দী ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়ে চিঠি দিয়েছে ও টেলিফোন কলও করেছে। কারাগার একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দুষ্কৃতকারীদের অপতৎপরতা নস্যাৎ করে বন্দী পলায়নসহ যেকোনো দুর্ঘটনারোধ করতে তৎপর থাকা কারা কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর প্রধান ও অন্যতম দায়িত্ব।

চিঠিতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি কিছু কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই সকল কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

১৮ দফা নির্দেশনায় প্রতিটি কারাগারে জেলারের নেতৃত্বে একজন ডেপুটি জেলার, ১ জন প্রধান কারারক্ষী ও ৫ জন কারারক্ষীর নেতৃত্বে সর্বাবস্থায় দায়িত্ব পালনের জন্য একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করার কথা বলা হয়েছে। এ ফোর্স সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধ বা দাঙ্গা দমনে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। তবে পূর্বে এসব সদস্যদের কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে এমন স্টাফদেরকে এ ফোর্সে না রাখতে বলা হয়েছে। সকল কারা কর্মকর্তা- কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কারাগারের আরপি গেটে বাধ্যতামূলকভাবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেক্টরসহ কঠোরভাবে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা ও প্রয়োজনে অভ্যাগতদের সবার পরিচয় জানতে নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনীয়সংখ্যক সশস্ত্র সেন্ট্রির ডিউটির ব্যবস্থা করা, অস্ত্র ও অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজন হলে অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের মহড়া দেয়া।

এছাড়া কারা সীমানায় বহিরাগত যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা ও নিষিদ্ধ দ্রব্যের অনুপ্রবেশ রোধ করা, আরপি গেটসহ প্রধান গেটে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সিসি টিভির মনিটরিং করা। কারাগারের প্যারামিটার ওয়াল ও সীমানা দেয়াল সুরক্ষিত রাখা।

এ সকল দায়িত্ব পালনের জন্য সকল কারারক্ষীকে ব্যারাকে ও কারা এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া কারা গোয়েন্দা ইউনিটের সকল সদস্যকে সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর বাইরে যে কোন দুর্ঘটনা রোধ করতে কারাগারের ভেতরে এলার্ম সিস্টেম ব্যবস্থা সচল রাখা ও যে সকল কারাগারে জেএমবি ও জঙ্গি আসামি আটক রয়েছে সেসব কারাগার কর্তৃপক্ষকে সর্বদা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কারাগারের যে কোন প্রকার ঝুঁকি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সঙ্গেই অবগত করতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিঠিতে এসব দায়িত্ব পালনে কোন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যূনতম অবহেলা পাওয়া গেলে ও তা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফরের কাছে ডাকযোগে একটি চিঠি আসে। ওই চিঠিতে বলা হয়, কারাগারে তাদের সঙ্গী-সাথীদের তারা ছিনিয়ে নেবেন। কিছুতেই আর তাদের ঠেকানো যাবে না।

এরপর গত শনিবার একটি অচেনা মোবাইল ফোন নাম্বার থেকে ফোন আসে। তখন আবার একই হুমকি দেওয়া হয়। তবে কোন জঙ্গি সংগঠন এ হুমকি দিয়েছে বা কাদের ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সে বিষয়ে কারা অধিদপ্তর বা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন কোনো মন্তব্য করেনি। জেলা প্রশাসক বলেছেন, এ ঘটনার তদন্ত হচ্ছে।

এর আগে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে দিনে দুপুরে প্রিজন ভ্যানে গুলি চালিয়ে ও বোমা মেরে জঙ্গি মামলার তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পিএসএস

 

আরও পড়ুন

আরও