ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না: কৃষিমন্ত্রী
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

>

ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না: কৃষিমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৪, ২০২২

ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধি কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমাতেই দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজেই ইউরিয়া সারের কেজিতে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনে তা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সারের দাম বৃদ্ধি, মজুদ-সহ সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। 

সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুদের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারে সরকার নিবিড়ভাবে মনিটর করছে। কেউ সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ফসলের জমিতে সুষম সার প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে শতকরা ২০ ভাগ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে হবে। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একইসাথে কৃষকের খরচও কমবে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এছাড়া নন ইউরিয়া সার (টিএসপি, ডিএপি, এমওপি) বছরে ব্যবহার হয় ৩২ লাখ টনের বেশি। এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৪ গুণ বেড়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। কাজেই ইউরিয়া সারের কেজিতে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদনে তা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

সারের দাম বাড়ায় বিএনপি-সহ কিছু বাম দলের উদ্বেগ প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির শাসন আমলে সার-সহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল। বিপরীতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সারের উৎপাদন ও আমদানি অব্যাহত রেখেছে।

বিএনপির শাসন আমলে (২০০৫-০৬ অর্থ বছরে) সারে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরের তুলনায় বর্তমানে ২৮ গুণ বেশি বা ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে। যার ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকগণ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, কোভিড পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী সারের মূল্য অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ০৩ থেকে ০৪ গুণ। বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়ার আমদানি ব্যয় ৮১ টাকা, টিএসপি ১০৮ টাকা, এমওপি ১০৬ টাকা এবং ডিএপিতে ১২৩ টাকা। এর ফলে বর্তমানে ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ইউরিয়া ৫৯ টাকা, টিএসপি ৮৬ টাকা, এমওপি ৯১ টাকা এবং ডিএপিতে ১০৭ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ভর্তুকিতে লেগেছিল ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে লেগেছে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

এসবি

 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close