দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব মারা গেছেন
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২ | ২ ভাদ্র ১৪২৯

>

দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব মারা গেছেন

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২২

দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব মারা গেছেন
দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক, প্রখ্যাত সাংবাদিক অমিত হাবিব আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) রাত ১১টায় রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা মামুন।

তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় গত তিন দিন আগে তাকে বিআরবি হাসপাতাল থেকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও অবস্থা খারাপ হতেই থাকে। অবশেষে তিনি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

গত ২১ জুলাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অমিত হাবিবকে। অফিস চলাকালে তিনি স্ট্রোক করেন। শুনেছি আগেও তিনি একবার স্ট্রোক করেছিলেন।

এ বিষয়ে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের যুগ্ম-পরিচালক ডা. বদরুল আলম মন্ডল বলেন, উনি তো ব্রেনস্ট্রোক করেছিলেন, যেটাকে আমরা বড় স্ট্রোক বলেই মনে করি। যাকে আমরা বলি, ব্রেনস্টেন হেমারেজ। সেখানে প্রচণ্ড মাত্রায় রক্তক্ষরণ হয়েছিল। 

তিনি বলেন, তাকে যখন আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। অধ্যাপক ডা. মালিহা হাকিমের অধীনে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির সময় তার জ্ঞানের মাত্রা ছিল ৫/৬। যার স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১৫। কিন্তু ৮-এর নিচে নেমে এলেই আমরা ক্রিটিক্যাল বলি।

ডা. বদরুল আলম বলেন, প্রথম থেকেই আমাদের ধারণা ছিল আল্লাহ হয়তো ওনাকে বাঁচিয়ে রাখবেন না। কারণ এ ধরনের রোগীকে সাধারণত সেভ করা যায় না। কারণ অপারেশনেরও কোনো সুযোগ নেই। ব্রেনের এ জায়গাটাতে মূলত অপারেশন চলে না। তারপরও আমাদের চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ রাত ১১টার দিকে আমাকে জানানো হয়েছে তিনি আর নেই।

অমিত হাবিব ১৯৬৩ সালের ২৩ অক্টোবর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজির বেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৃত খন্দকার ওয়াহেদুল হক, মা মৃত শামসুন নাহার বকুল। তার বাবা মহেশপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওয়াহেদুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে অমিত হাবিব ছিলেন সবার বড়। তার অপর দু ভাই ফয়জুল হাবিব ও মেহেদি হাসান।   

যশোর এমএম কলেজ থেকে ১৯৮০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন তিনি।

তখন থেকে লেখালেখিতে যুক্ত হন। সেসময় বিচিন্তা, পূর্বাভাস, প্রিয় প্রজন্ম পত্রিকায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক, অনুষ্ঠানের সমালোচনা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখে বেশ জনপ্রিয়তা পান।

১৯৮৭ সালে খবর গ্রুপ অব পাবলিকেশন্সে একই সঙ্গে রিপোর্টার ও সাব-এডিটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অমিত হাবিব। পরে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকায় সাব-এডিটর পদে যোগ দেন তিনি। পরে ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকায় সিনিয়র সাব-এডিটর হয়ে যোগ দেন। এর পরের বছর একই পদে যোগ দেন দৈনিক ভোরের কাগজে। অল্প দিনের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও পরে বার্তা সম্পাদক হন তিনি।

২০০৩ সালে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। তবে পত্রিকাটি বাজারে আসে ২০০৬ সালে। চীনের আন্তর্জাতিক বেতারে বিদেশি বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দিয়ে দেশীয় সাংবাদিকতার সঙ্গে দূরত্বের কথা বিবেচনায় তা ছেড়ে ২০০৭ সালে দেশে ফিরে আসেন।

পরের বছর দৈনিক সমকালে প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। দৈনিক সমকালের প্রধান বার্তা সম্পাদকের পদ ছেড়ে ২০০৯ সালে কালের কণ্ঠে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০১৩ সাল থেকে উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন অমিত হাবিব। সবশেষ ২০১৭ সালে দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অমিত হাবিব।

এএইচএ
 

আরও পড়ুন

আরও
               
         
close