এন্ডোমেট্রিওসিস থেকে সতর্ক থাকুন
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

এন্ডোমেট্রিওসিস থেকে সতর্ক থাকুন

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

এন্ডোমেট্রিওসিস থেকে সতর্ক থাকুন
পিরিয়ডের সময় অসহ্য ব্যথার অন্যতম কারণ এন্ডোমেট্রিওসিস। পৃথিবীজুড়ে পৃথিবীর ১৭ কোটি ৬০ লক্ষ মহিলা এন্ডোমেট্রিওসিসের ভয়ানক ব্যথায় ভোগেন। পিরিয়ডের দিনগুলোতে অসহ্য ব্যথা আর খারাপ লাগার এ সমস্যাটিকে অনেক নারীই লুকিয়ে রাখেন। কখনোই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লাখ নারীর এ সমস্যা রয়েছে।

পিরিয়ড শুরুর পর থেকে যেকোনো বয়সে একজন নারী এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। স্কুলগামী কিশোরী, বিবাহিতা কিংবা মেনোপোজের কাছাকাছি বয়সীদের যেকোনো সময়ই এটি হতে পারে। কিন্তু এই বিষয়ে অনেক সতর্ক হওয়া উচিৎ। নয়তো ঘটে যেতে পারে বড় বিপদ।

পিরিয়ডের সময় তীব্র ব্যথা, অত্যধিক রক্তক্ষরণ, সহবাসে ব্যথা, প্রস্রাব বা মলত্যাগে ব্যথা, পিরিয়ড চলাকালে স্কুল-কলেজ বা অফিসে অনুপস্থিতি, বন্ধ্যত্ব। বন্ধ্যাত্ব বা অন্য কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। স্টেজ -১ বা স্টেজ -২  অসুখে বেশিরভাগ সময়ে খুব সমস্যা হয় না। কিন্তু স্টেজ তিন বা স্টেজ চারে পৌঁছলে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত বেশি রক্তপাত হয়। কিছুটা রক্ত পেটের মধ্যে থেকে যায়। আর সমস্যা হয় এর থেকেই। জমা রক্ত চকোলেট সিস্ট হয়ে পিরিয়ডের সময় তো বটেই বলতে গেলে সারাক্ষণই পেটে ব্যথা করে।

এন্ডোমেট্রিওসিস  যাদের হয়ে থাকেন সেই রোগীরা বিষয়টি চেপে রাখার কারণে শনাক্ত হতেই প্রায় ৭-৮ বছর দেরি হয়ে যায়। মাসিকের সময় ও রকম একটু–আধটু ব্যথা হয়ই, এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এমনটাই শুনে থাকি আমাদের মা খালাদের কাছ থেকে। আর বেশির ভাগ নারীর এই ধারণাকেই সত্য বলে মেনে নেন।

জরায়ুর ভিতরে ছাড়াও এর বাইরের দিকে, ওভারিতে, ফ্যালোপিয়ান টিউবে এমনকি, কখনও কখনও রেক্টাম বা মলাশয়েও এন্ডোমেট্রিয়াম লাইনিং তৈরি হয়। ঋতুস্রাবের আগে হরমোনের প্রভাবে এই সব অস্বাভাবিক এন্ডোমেট্রিয়াম টিসুগুলিও ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে ও প্রচুর রক্তপাত হয়। আর এই কারণেই পেটে ভয়ানক ব্যথা ও অস্বাভাবিক পিরিয়ড হয়। 

বিবাহিতদের ক্ষেত্রে ৩৫ বছরের আগেই সন্তান নেওয়া ভালো। জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য এ সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের বেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা পিল সবচেয়ে ভালো। অনেক সময় চিকিৎসা হিসেবে ওষুধ দিয়ে মাসিক বন্ধ রাখা হয়। পরিবারের মা-বোন বা খালার সমস্যা থাকলে আপনারও থাকতে পারে।

ব্যথানাশক ওষুধ, হরমোনাল চিকিৎসা, পিল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। ব্যায়াম, খেলাধুলা করা ভালো। ফিটনেস বাড়াতে হবে। রেডমিট, কফি ও গমের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলুন। কিশোরীদের জন্য ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সবচেয়ে ভালো, সার্জারি না করাই উত্তম। বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে যদি সিস্ট থাকে, তবে অপারেশন লাগবে। তবে অবশ্যই অপারেশনের আগে ওভারিয়ান রিজার্ভ দেখে নিতে হবে। অপারেশনের পরে সিস্ট আবারও হতে পারে, সে ক্ষেত্রে রিপিট সার্জারি না করে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা উচিৎ।

এন্ডোমেট্রিওসিস ধরা পড়লে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করলে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অনেক সময় পিলের সাহায্যে অসুখ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অবিবাহিত মেয়েদের কন্ট্রাসেপটিভ পিল নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে ভয় পান। মনে রাখতে হবে, এটা নেহাতই একটি ওষুধ। বাড়াবাড়ি হলে অস্ত্রোপচার করানো দরকার। বাড়ির লোকজনের সহমর্মিতা ও দরকার হলে কাউন্সেলিং করাতে হতে পারে।

ইসি/

 

: আরও পড়ুন

আরও