লকডাউনে আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছে না তো?
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

লকডাউনে আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছে না তো?

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

লকডাউনে আপনার সন্তান অবসাদে ভুগছে না তো?
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বাড়ি থেকে বেরোনো নিষেধ। সবাই এখন লকডাউনে। লকডাউনের এই দীর্ঘ সময় একইভাবে বাড়িতে থাকতে থাকতে বড়োদের মনই বিদ্রোহ করে উঠছে। সেখানে শিশু-মনের ওপর কী প্রভাব পড়ছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই সময় আপনার সন্তান ভুগতে পারে মানসিক অবসাদে। সেই দিক্ব কিন্তু আপনাকেই নজর দিতে হবে। নয়তো এই সমস্যা নষ্ট করে দিতে পারে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ।  আসুন এই বিষয়ে জেনে নেই বিস্তারিত।

প্রায় সকল অভিভাবকই এই বিষয়ে খুবই চিন্তিত। কারণ শিশু-মনের ওপর এই পরিস্থিতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অভিভাবকরা টের পাচ্ছেন তাঁদের সন্তানরা বিরক্ত হচ্ছে, খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। তাদের ধৈর্য কমে যাচ্ছে। সর্বোপরি হতাশা আর মনমরা ভাব।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে এখন বাইরের কিছুকেই হাতিয়ার বানানোর উপায় নেই, যে একবেলা পার্কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেলা বা গল্প করা, বা সাক্ষাৎ করা যাবে বা কোথাও ঘুরতে বেড়াতে যাওয়া সম্ভব হবে। তাই যা করতে হবে বুদ্ধি করে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই। এক ঘেয়ে ঘরের মধ্যেই প্রতিদিনকে নতুন করে তুলতে হবে। তার জন্য কাজে আসতে পারে এমন বেশ কয়েকটি টিপস এখানে রইল।  

প্রথমেই সাধারণ কতগুলি বিষয় নিয়ে কথা বলা যাক।

আপনার সন্তানের পছন্দের বিষয়:

ছবি আঁকা: শিশুদের পছন্দের অনেক বিষয় থাকে। সেই বিষয়কে চিহ্নিত করে তাদের কিছু কাজ করতে দেওয়া যেতে পারে। যেমন কারো যদি ছবি আঁকা পছন্দের বিষয় হয় তা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বা তার বাইরে বহু বিষয় আছে যা তাদের আঁকতে বলা যেতে পারে। তার পর সেগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে দেওয়া যেতে পারে। আর সেই আঁকা ছবিতে কতগুলি লাইক কমেন্ট এল, কে কী মন্তব্য করল তা তাদের সঙ্গে শেয়ার করে পরের দিন আরো নতুন কোনো বিষয় দিয়ে তাদের এই কাজে উৎসাহিত করা যেতে পারে। তাতে তারা একটি কাজে যেমন মগ্ন হয়ে পড়বে, তেমনই সময়ও কাটবে, সঙ্গে একঘেয়েমিও।

নাচ: নাচ ভালো লাগলে তাদের এক একটি নতুন গানে নিজে নিজে নাচ তোলার টাস্ক দেওয়া যেতে পারে। সেই নাচ কয়েক দিন অভ্যাস করতে বলে একদিন বাড়ির সদস্যরা মিলেই ঘটা করে একটি সময় বের করে বসে সেই নাচ দেখার এবং এই কাজে, উৎসাহিত করার মতো একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান গোছের করা যেতে পারে। কিছু দিন অন্তর অন্তর এমনটা করলে ওই বিশেষ দিনটির জন্য তারা বাকি দিনগুলি এই টাস্কে মগ্ন থাকবে তাতে একঘেয়েমি কাটবে। সুযোগ পেলে অভিভাবকরাও নিজেদের মতো করে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারেন। নিজেরা যেটা জানেন বা পারেন তা করলেও ছোটোরা আরও খুশি হবে ও উৎসাহ পাবে। এই কঠিন সময়টাও আনন্দ করে কেটে যাবে। 

গান: অনেক শিশুই গান শুনতে আর গাইতে ভালোবাসে। অনেক অভিভাবকও আছেন যারা গান ভালোবাসেন। তারা যদি শিশুদের নতুন নতুন গান গাইতে আর তুলতে উৎসাহিত করেন এবং এক সঙ্গে দিনের কোনো একটি সময় বসে গলা ছেড়ে গান গান, তা হলেও শিশুরা আনন্দিত হয়।

ছাদে বেড়ানো: একটা সময় ছিল যখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাড়ির রক, বাড়ির ছাদের একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। এখন ফ্ল্যাট কালচারের দরুণ তা বর্তমানে নস্টালজিয়া। ছোটোদের জীবনে এখন আর তা নেই। তবে লকডাউনের এই সময় রক না হলেও ছাদ কালচারকে আবার কিছুটা ফিরিয়ে আনা যায়। নিয়ম করে বাড়ির সদস্যরা মিলে ছাদে উঠুন। সেখানে হাঁটা, ব্যায়াম করা, ছোটো কোনো ইন্ডোর গেম খেলা, গল্প করা ইত্যাদি করা যেতে পারে।

ব্যায়াম: ব্যস্ততাময় জীবনে শরীরচর্চার সময় কারো নেই। তা ছোটো, বড়ো সকলের ক্ষেত্রেই সমান  প্রযোজ্য। আর ব্যায়ামও সকলের জন্যই উপকারী, তাই লকডাউনের এই একঘেয়েমি ভরা জীবনকে একটু অন্য রকম স্বাদ দিতে শরীরচর্চায় নিজের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদেরও একাত্ম করা যায়। এতে শরীর আর মন, দুই চাঙ্গা হয়। পাশাপাশি সকলে এক সঙ্গে ব্যায়াম করলে সময়ও কাটে এবং একটা অন্য রকম ভালো লাগাও তৈরি হয় এবং লকডাউন উঠে যাওয়ার পরেও এই সুঅভ্যাসটা ক্যারিফরোয়ার্ড করা যায়।  

নাটক: ছোটোদের নাটক বাছাই করে বাড়ির সদস্যরা কয়েক দিন রিহার্সাল করে একদিন ঘরের ভেতরই সেটি অভিনয় করা যেতে পারে। তাতে খুদে সদস্যটিকে মূল ভূমিকা দেওয়া যেতে পারে। এতেও বেশ মজায় কিছুটা সময় কেটে যাবে।

পুরোনো দিনের ছবি গল্প: দারুণ ফাস্ট লাইফ আমরা লিড করি। বড়োদের পাশাপাশি ছোটোরাও সময় দেখতে পায় না। ফলে পরিবারের ইতিহাস, পরিবারের সদস্যদের বিশেষত বাবা-মায়ের ছোটোবেলা, এমনকি তার নিজের বাচ্চাবেলার গল্পও তাদের শোনা হয় না। তাই এই ভয়ংকর একঘেয়ে সময়টাকে মধুর করে তুলতে আর ছোটোদের মন খারাপ কাটাতে কাজে আসতে পারে পুরোনো স্মৃতি। আলমারির কোণা থেকে বের করে আনুন পুরোনো ছবির অ্যালবাম। এক এক দিন এক একটি নিয়ে বসুন ছোটোদের দেখান। কোনটা কে তাদের খুঁজে বের করতে বলুন। সদস্যদের ছোটোবেলার গল্প বলুন। নিজেদের ছোটোবেলায় কে কেমন ছিলেন, কী করতেন সেই সুন্দর মুহূর্তগুলোকে তুলে ধরুন। আবার খুদে সদস্যটির বাচ্চাবেলার গল্প বলেও তাকে আনন্দ দেওয়া যেতে পারে।

রান্নাবান্না: মানুষ মাত্রেই খাওয়াদাওয়ার একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে। সব বয়সের মানুষের কাছেই বিশেষ মেনুর একটু বেশি কদর আছে। তেমনই এই লম্বা ছুটিকেও বিশেষ করা যেতে পারে, ঘরে থাকা খুব সাধারণ খাদ্যদ্রব্যকেই নতুন নতুনভাবে এক্সপেরিমেন্ট করে, রান্না করে। সেই কাজে ছোটোদেরও ইনভল্ভ করা যেতে পারে। কোনো কিছু ছাড়িয়ে দেওয়া, কেটে দেওয়া, ধুয়ে দেওয়া এই সব কাজ ছোটোদের করতে দিলে নতুন রকমের কাজ করতে পেরে তারা বেশ খুশি হয়, উৎসাহও পায় সেই কাজে। এইভাবে একটি নতুন কাজও শেখা হয়ে যাবে তাদের, যা জীবনের পরবর্তীতে কাজে এসে যাবে, কি তাই না?   

কোনো কিছু বানানো: আজকাল ডিআইওয়াই-এর খুব চল হয়েছে। ঘরে থাকা সংসারের হাজারও ফেলে দেওয়া সামগ্রী আছে যেগুলোকে ব্যবহার করে নতুন কিছু তৈরি করাই যায়। তেমন কিছু জিনিস খুঁজে বের করে ছোটদের হাতে তুলে দিন। দেখুন ছোটো মাথা কত নতুন কিছু আবিষ্কার করছে, তৈরি করছে। তাদের উৎসাহিত করতে সেগুলি ঘরের বিভিন্ন স্থানে সাজিয়ে রাখুন, ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করুন। দেখবেন শিশুমনে আনন্দের ঝলক ফুটে উঠবে।

এগুলি ছাড়া ফোনে বন্ধু, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গল্প করা, লেখাপড়া ইত্যাদি তো আছেই। তা হলে আর ভাবনা কী? কাল থেকেই এই টিপসগুলি অনুসরণ করা শুরু করে দিন। দেখবেন আপনার সন্তান একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসছে। আনন্দে থাকছে। 

ওএস/ইসি

 

: আরও পড়ুন

আরও