করোনায় সতর্ক থাকুন শিশুর যত্নে
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

করোনায় সতর্ক থাকুন শিশুর যত্নে

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

করোনায় সতর্ক থাকুন শিশুর যত্নে
করোনার কথা তো নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে আমরা সবাই জানি বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের হাত  থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। এই ভাইরাসে অনেক শিশু আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছে। তাই করোনার এই ক্রান্তিকালে শিশুদের যত্ন ও পরিচর্যা করা আমাদের একান্ত দরকার। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আসুন জেনে নেই পরামর্শগুলো।

শিশুর যত্ন: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ও শিশুসন্তানের জন্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন কিংবা কর্মক্লান্তও লাগতে পারে। কিছু বিষয় অনুসরণ করলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।

ভাগাভাগি করে যত্ন নিন:  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফোন কিংবা অন্যকিছু- হাতের কাছে যা পান তাই দিয়েই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

. অন্যদের সঙ্গে পালাক্রমে শিশুর যত্ন নিন। নিজের জন্যও সময় বের করুন।

. শিশু সন্তানের সঙ্গে আপনিও ঘুমান। এতে আপনি শক্তি ফিরে পাবেন।

. শিশুর পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যান। সে যেন আপনাকে দেখতে ও শুনতে পায়, সেটা নিশ্চিত করুন। তার সঙ্গে খেলুন, গল্প করুন, গানও গাইতে পারেন।

. দু’জনে একসঙ্গে বাদ্য বাজাতে পারেন। আপনাদের বাদ্যযন্ত্র হতে পারে কোনো জগ, মগ, গ্লাসের মতো কোনো পাত্র কিংবা অন্যকিছু। আর বাড়িতে যদি বাদ্য যন্ত্র থাকে তাহলে শিশুকে সেটা বাজানো শেখান।

. শিশুর বই পড়ার অভ্যাস না থাকলে এই সময়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছবিতে কী ঘটছে, শিশুকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। শিশুকে তার সব ইন্দ্রিয় দিয়ে বইটি জানার সুযোগ দিন।

. শিশুর সঙ্গে তার অঙ্গভঙ্গি নকল করে খেলায় মেতে উঠুন।

. তাদের উচ্চারিত শব্দ উচ্চারণ করুন।

. শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় তার নাম উচ্চারণ করুন।

. শিশু যে কাজটি করছে, ভাষায় তার বর্ণনা করে তাকে শোনান।

. শিশুর সঙ্গে নম্র আচরণ করুন, নিজের সঙ্গেও নম্র থাকুন

. আজ একটা কিছু ঠিকভাবে হয়নি বলেই যে মেজাজ হারিয়ে বসতে হবে, তা কিন্তু নয়। মা-বাবা হিসেবে এমন আচরণ আপনার সঙ্গে যায় না। আজ যে কাজগুলো ভালোভাবে হয়েছে, সেগুলোরও কথা স্মরণ করুন।

. শিশুদের জন্য পরিবেশটা মজার করে তুলুন।

. শিশুরা উদ্দীপনায় সাড়া দেয়।

. শিশুকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে বিশ্বটাকে জানার সুযোগ দিন।

. সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে সাড়া দিন।

. শিশু কী কারণে কাঁদছে, তা অনুসন্ধান করুন।

. জড়িয়ে ধরলে কিংবা কোলে নিয়ে একটু দোলালেই শিশুরা শান্ত হয়ে আসে।

.  গান গাইলে কিংবা নরম সুরের কোনো গান বাজালে শিশুরা শান্ত হয়।

.  শান্ত থাকুন এবং সাময়িক বিরতি নিন। শিশু যদি বসতে না শিখে থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদ জায়গায় পিঠে হেলান দিয়ে বসিয়ে একটু হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। প্রতি ৫ থেকে ১০ মিনিট পরপর খোঁজ রাখুন।

. আপনার শিশু যদি অসুস্থ বা আহত হয়ে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন কিংবা নিকটবর্তী হাসপাতালে যান।

মোট কথা এই বন্দিদশায় এমন কিছু করবেন না, যাতে আপনার শুশুর মানসিক বিকাশে আঘাত লাগে।

কারণ আপনার নিজের  শারীরিক ও মানসিক অবস্থা কোনোটাই এখন ভালো নাই। কিন্তু শিশু তো আর সেটা বুঝবে না। তাই তার সাথে যতটা সম্ভব ভালো আচরণ করুন। যেন এই সময় আপনার শিশুই আপনার সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইসি/

 

: আরও পড়ুন

আরও