করোনাকালে যত্ন নিন গর্ভবতী মায়ের
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

করোনাকালে যত্ন নিন গর্ভবতী মায়ের

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

করোনাকালে যত্ন নিন গর্ভবতী মায়ের
করানা ভাইরাসের জন্য সারা বিশ্বের মানুষ কি পরিমান স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছে সেটা নতুন করে বলার কিছু নাই। তবে আমরা যারা স্বাভাবিক আছি তারা কিন্তু যেকোনো বিপদ মোকাবেলা করাটা সহজ হয়। কিন্তু এই অবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কীভাবে নিজের ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা যায় ? কোভিড-১৯ নিয়ে এখনও খুব বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ মেলেনি। কবে এর প্রতিষেধক আসবে তা ও জানা নেই। তবু এখনও পর্যন্ত যেটুকু জানা গিয়েছে, তাতে গর্ভবতীদের শরীরে এই ভাইরাসের প্রভাব নিয়ে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে।  যেমন,আর পাঁচটা মানুষের মতোই এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে গর্ভবতীদেরও জ্বর, হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, নিউমোনিয়া তাদেরও হতে পারে।

মায়ের শরীর থেকে গর্ভস্থ সন্তানের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ (ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশন)হয় কি না তা এখনও ঠিকভাবে জানা যায়নি। তাই এই ব্যাবপারে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আসুন আজ জেনে নেই এই অবস্থায় আমাদের কি করণীয়। 

গর্ভাবস্থায় করোনার প্রভাব

খুব ভরসাযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের অভাব থাকলেও কিছু কিছু মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, অনেক সময়ই প্রত্যাশিত দিনের আগেই ডেলিভারি হয়ে যেতে পারে এই রোগের সংক্রমণে। তাছাড়াও গর্ভপাত, গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া কমে যাওয়া, মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।’

শরীরের পাশাপাশি ভাবী মায়ের মনকেও এই ভাইরাস ছেড়ে কথা বলে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শুদ্ধেন্দু চক্রবর্তীর কথায়, অত্যাধিক মানসিক চাপ,হতাশা,বা মৃত্যু ভয় থেকে গর্ভপাতের শঙ্কাও অমূলক নয়।

তাই মানতে হবে যে সব বিষয়:

আর পাঁচ জনের মতোই হ্যান্ড হাইজিন বা কাফ এটিকেট খুব ভালো করে মানতে হবে।

হাঁচি, কাশি, জ্বর হয়েছে এমন মানুষের থেকে দূরে থাকাও বাধ্যতামূলক।

পুষ্টিকর খাবার, যেমন শাকসব্জি, প্রোটিন বেশি করে পাতে রাখুন।

দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমনো ভীষণ দরকারি।

অযথা দুশ্চিন্তা না করে পছন্দের কাজে সময় দিন।

হালকা ঘরের কাজ অবশ্যই করবেন। উবু হয়ে বসে করতে হয় এমন কাজ এড়িয়ে চলাই ভালো।

এই লকডাউনের ফলে যারা নতুন মা হলেন, তারা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে যেতে পারছেন না। এমন এক পরিস্থিতিতে মূল সাবধানতাগুলো মেনে চলুন।

সবে সবে যারা গর্ভবতী হলেন, তারা আগে চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে খুব দরকার পড়লে তবেই ক্লিনিকে যান।

গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ দেখা খুব জরুরি। সে ক্ষেত্রে নিজেরাই ডিজিটাল মেশিনের সাহায্যে দেখে পর্য়োজনে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিতে পারেন। ইউএসজি স্ক্যান আর কিছু রক্তপরীক্ষা করে নিতে তো হবেই। সেটা একটু অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবস্থা বুঝে করাই ভালো।

করোনা সংক্রমিত কোনো রোগীর যদি কোনো কারণে সিজারিয়ান সেকশান করতেই হয় তবে সে ক্ষেত্রে স্পাইনাল অ্যানেস্থেসিয়াতেই করা উচিত। কারণ জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার ফলে অনেক ড্রপলেট তৈরি হয় যা পুরো অপারেশন থিয়েটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনায় আক্রান্ত মা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর যদি বুকের দুধ খাওয়ানোর অবস্থায় থাকেন, তা হলে সাবধানতা নিয়ে তা খাওয়াতেই পারেন। কিন্তু বেশি অসুস্থ থাকলে, দুর্বল থাকার কারণে বুকের দুধ এক্সপ্রেস করেও অন্য কাউকে দিয়েও শিশুটিকে খাওয়াতে পারেন।

ফর্মুলা ফিড দেওয়ার চেয়ে এটাই ভালো। এটি শিশুর শরীরে ইমিউনিটি বাড়িয়ে করোনা প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

ইসি/ 

 

 

: আরও পড়ুন

আরও