খুলনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগ ৭ মেম্বারের
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খুলনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগ ৭ মেম্বারের

খুলনা ব্যুরো ১০:১২ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

খুলনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগ ৭ মেম্বারের
খুলনার দিঘলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ মোল্লার বিরুদ্ধে ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে আবারও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা লঙ্ঘণ করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে চাল কম দেয়া, তালিকায় অনিয়ম সর্বপরি ইউপি সদস্যদের দেয়া তালিকা আমলে না নিয়ে নিজস্ব সমিতির লোকদের দিয়ে তালিকা প্রণয়ন করছেন। এতে করে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

উল্লিখিত অভিযোগ তুলে ইউপি’র ৭জন মেম্বর (ইউপি সদস্য) এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী’র ঘোষণা অনুযায়ী ‘ঘরে ঘরে ত্রাণ’ পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নিতে সোমবার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগকারীরা হলেন, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম আতিকুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আজিজুর রহমান, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মোল্লা হারুন-অর-রশীদ, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য খান বিপ্লব হোসেন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজা খাতুন ও রিনা পারভীন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান ফিরোজ মোল্লার বিরুদ্ধে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এনে এর আগে গত ৬ এপ্রিল তারা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি তদন্ত পূর্বক অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ এবং ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে তালিকা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়। সে মোতাবেক পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইউপি সদস্যদের নিয়ে মিটিং করে চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এরপর ২৬ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদে জিআর’র চাল, ডাল ও আলু বিতরণের জন্য স্লিপ বিতরণ করা হয়। কিন্তু ১১ কেজির পরিবর্তে উপকারভোগীদের ৬-৭ কেজি করে দেয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে ত্রাণের কার্ড বিতরণের জন্য ৩ মে ইউপি অডিটোরিয়ামে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাসহ ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ওয়ার্ড মানবিক সহায়তা কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে ইউপি সদস্যরা তালিকা করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ওই তালিকা আমলে না নিয়ে তার নিজস্ব সমিতির মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করেন। যে তালিকায় ধণাঢ্য ব্যক্তি, পরিবার এবং ভিজিডি ও রেশন কার্ডধারীরাও রয়েছে।

এ কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউপি সদস্য এবিএম আতিকুল ইসলাম, শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. আজিজুর রহমান ও মোল্লা হারুন-অর-রশীদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান নিজস্ব লোকদিয়ে গঠিত ‘গ্রাম উন্নয়ন সমিতি’র সদস্যদের দিয়ে তালিকা প্রণয়ন এবং ত্রাণ বিতরণ করছেন। তিনি নির্বাচিত সদস্যদের না জানিয়ে একক সিদ্ধান্তেই এসব অনিয়ম করছেন। এমনকি জেলা প্রশাসক কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তও তিনি মানছেন না।

একই সঙ্গে বিগত তিন বছর ধরে পরিষদের অংশ থেকে তাদেরকে কোন ধরণের সম্মানি প্রদান করা হয় না বলেও উল্লেখ করে এ বিষয়ে তারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী’র ঘোষণা অনুযায়ী ‘ঘরে ঘরে ত্রাণ’ পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা ফিরোজ বলেন, সরকারি চালের বরাদ্দ তিনি নীতিমালা অনুযায়ী বিতরণ করেন। ইউপি সদস্যদেরও দেন। কিন্তু তার ব্যক্তিগত অর্থে কেনা চালের বিষয়েও সদস্যরা অভিযোগ করছে বলে পাল্টা দাবি করেন তিনি।

জেএইচ/এসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও