সাতক্ষীরায় প্রস্তুত ১২৭২ আশ্রয়কেন্দ্র, সরিয়ে নেয়া হচ্ছে মানুষকে
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সাতক্ষীরায় প্রস্তুত ১২৭২ আশ্রয়কেন্দ্র, সরিয়ে নেয়া হচ্ছে মানুষকে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ২:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

সাতক্ষীরায় প্রস্তুত ১২৭২ আশ্রয়কেন্দ্র, সরিয়ে নেয়া হচ্ছে মানুষকে
সাতক্ষীরায় আম্ফান মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে তিন হাজারেরও অধিক ব্যক্তিকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সমস্ত মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হবে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এ দিকে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডর কর্মকর্তারা। উপকুলীয় এলাকা সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলায় মোট আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৭২ টি। এরমধ্যে আশাশুনি উপজেলায় ১০৬ টি, দেবহাটা উপজেলায় ১০৪ টি, কলারোয়া উপজেলায় ২১৮ টি, কালিগঞ্জে ১১৬ টি, সাতক্ষীরা সদরে ৩৩৩ টি, শ্যামনগরে ৩০৩ টি ও তালায় ৯২ টি। নতুন আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে কালিগঞ্জে ৮৭টি। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৫,২২,০০০ জন।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত আশ্রিত লোকসংখ্যা ২৫৬০ জন এবং আশ্রিত গবাদি পশুর সংখ্যা ২০৫০টি। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে মাস্ক ও সাবানের ব্যবস্থা আছে এবং আইসোলেশন রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় জেলায় মোট ১৪৫টি বন্যা/ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রসহ ১৭০০ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছে। নৈশ প্রহরীকে সার্বক্ষণিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানসহ মোবাইল সচল রাখতে হবে। জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করবেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, সাতক্ষীরার অফিস কক্ষে জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। (কালেক্টরেট ভবন, কক্ষ নম্বর ২২৪, টেলিফোন নম্বর ০৪৭১-৬৩২৮১)। প্রত্যেক আশ্রয় কেন্দ্রে একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রয়োজন অনুসারে মিড ওয়াইফারী নিয়োগের বিষয়ে সিভিল সার্জন উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশের নিজস্ব কর্মী বাহিনীসহ সরঞ্জাম প্রস্তুতি রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস বিভাগকে পুলিশ বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, নৌ পুলিশ ও নৌবাহিনী, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে মানুষকে নিয়ে আসার জন্য একযোগে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ৭২০ কি.মি. বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে দেড়শ’ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুকিপূর্ণ। তবে সাতক্ষীরায় সম্পূর্ণরুপে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৪৭ টি আশ্রয়কেন্দ্র। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে হাজারেরও অধিক। এসব কেন্দ্রে ৬ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে বলে জানা গেছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবারসহ আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুজ্জামান বলেন, ১০ টি পয়েন্টে বেড়িবাধ সংস্কারের কাজ চলছে এছাড়া যে সব এলাকায় বেড়িবাধের সামান্য সমস্যা রয়েছে সেগুলো মেরামত করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজার গিফারী বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যেকোনো মুহূর্তে উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। সে জন্য উপকূলের প্রতিটি ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের আশ্রয়ের জন্য স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা খুলে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আইকে/পিএসএস

 

 

: আরও পড়ুন

আরও