ক্রোধান্বিত ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ক্রোধান্বিত ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

ইমাম ইবনুল জাওযি রহ. ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

ক্রোধান্বিত ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ কেমন হওয়া উচিত?

রাগ বা ক্রোধ মানুষের ক্ষোভের অনুভুতির বহিরপ্রকাশ। যা থেকে সে কখনো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং তার কাছে থাকা কোন ব্যক্তি বা বস্তুর উপর সহিংস প্রভাব ফেলে।

যে কোন মানুষই রাগ অনুভব করতে পারেন। যখন আপনি দেখেন আপনার কোন সঙ্গী রেগে গেছে এবং অন্যায় কথা বলা শুরু করেছে, তখন আপনার উচিত হবে, তার বলা কথাগুলোকে কনিষ্ঠ আঙ্গুল পরিমাণও বিশ্বাস না করা। এবং এ কারণে তাকে পাকড়াও না করা। কারণ এখন তার অবস্থা হল বেহুঁশি অবস্থা। কী বলছে তা সে নিজেই জানে না। আপনি বরং তার আকস্মিক এই বিষয়টিতে ধৈর্যধারণ করুন। তার উপর কঠোর হবেন না। কারণ, শয়তান তার উপর এখন প্রভাব ফেলছে। তার মেজাজ বিগড়ে গেছে এবং বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।

এখন যদি আপনি তার এই আচরণের জন্য নিজের মনে কোন বিদ্বেষ পুষে রাখেন কিংবা তার অসৌজন্য আচরণের মোকাবেলায় আপনিও কঠোরতা অবলম্বন করেন, তাহলে এটা উচিত হবে না। কারণ, এই মুহূর্তটির জন্য আপনি যেন এক বুদ্ধিমান ব্যক্তি একজন বুদ্ধিবিলুপ্ত মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন। যেন সচেতন এক ব্যক্তি এক বেহুঁশ পাগলের মুখোমুখি হয়েছেন। সুতরাং এখন আপনার অসৌজন্যমূলক আচরণটাই হবে; তার নয়। আপনি বরং এ সময় তাঁকে সহানুভুতির দৃষ্টিতে দেখতে থাকুন। তার প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করতে থাকুন এবং তার প্রতি সদাচারণ প্রদর্শন করুন।

জেনে রাখুন, যখন তার রাগ পড়ে যাবে এবং সে স্বাভাবিক হবে, তখন তার আচরণের জন্য অনুতপ্ত হবে এবং আপনার ধৈর্যের কোথাও সে স্বীকার করবে। আপনার প্রতি তার ধারণা অনেক উঁচু হবে। আপনার প্রতি তার হৃদয় কোমল হবে। আর কিছুই যদি নাও হয়, তবুও এতোটুকু তো সে বুঝতে পারবে, তার রাগের সময়ের কর্মকাণ্ডে আপনি তার প্রতি রূঢ় আচরণ করেননি।

মানুষের স্বভাবে এটি রাগের এমন এক অবস্থা, যেটাকে পাশের মানুষের সয়ে নিতে হয়। পিতার রাগের সময় সন্তানকে। স্বামীর রাগের সময় স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর রাগের সময় স্বামীকে। এভাবে প্রতিটি পাশের মানুষকেই অন্যের রাগের সময় সয়ে নিতে হয়। যাতে রাগান্বিত ব্যক্তি তার কথাগুলো বলে স্বস্তি পায় ও শান্ত হয়। তার রাগ প্রশমিত হয়। এ সময় আপনি কিছুতেই তার উপর চড়াও হবেন না। আপনি কড়া কথা বলবেন না। তাহলে দেখা যাবে, রাগ প্রশমিত হলে সে নিজেই অনুতপ্ত হবে এবং নিজের বাড়াবাড়ির জন্য লজ্জিত হবে।

এভাবে যদি কারও ক্রোধান্বিত অবস্থার আচরণ ও কথাগুলো সয়ে যাওয়া হয়, তাহলে আপনি দেখবেন কোথাও আর শত্রুতা থাকবে না। এবং তার রাগের অবস্থায় তার সাথে সে আচরণ করা হয়েছে, স্বাভাবিক হয়ে সে এর সুন্দর বদলা প্রদানের চেষ্টা করবে।

কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এই পদ্ধতি অনুসরণ করে না। বরং তারা যখন কাউকে রাগান্বিত হতে দেখে, তারা নিজেরাও রাগান্বিত হয়ে ওঠে। রাগান্বিত ব্যক্তির মোকাবেলা করে কঠিন কথা বলে ও কঠোর আচরণের মাধ্যমে। এটা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ নয়। বরং প্রজ্ঞাপূর্ণ কাজ সেটাই, যা আমি এতক্ষণ বর্ণনা করলাম। তবে জ্ঞানীরাই শুধু এগুলো অনুধাবন করে ও কাজে পরিণত করে।

(ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.-এর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সইদুল খাতির’ থেকে উদ্ধৃত।)

এমএফ/

 

: আরও পড়ুন

আরও