৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় শোনা গেলো আজান
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় শোনা গেলো আজান

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

৮৬ বছর পর আয়া সোফিয়ায় শোনা গেলো আজান
তুরস্কের শীর্ষ প্রশাসনিক আদালতের রায়ের পর ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়ায় আজান দেয়া হয়েছে। এর আগে সাবেক এই মসজিদকে জাদুঘরে পরিণত করা ঠিক ছিল না বলে রায় দিয়েছে তুর্কী আদালত।

এরপরেই তুরস্কের ইসলামপন্থী সরকারের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এটিকে  পুনরায় মসজিদ বানানোর আদেশে সই করেছেন বলে জানায় বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।

দেড় হাজার বছরের পুরনো আয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা, পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, তারও পর একে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

রজব তাইয়েব এরদোয়ান বলছেন, আদালতের রায়ের পর নামায পড়ার জন্য আয়া সোফিয়াকে খুলে দেয়া হবে।

টুইটারে এক পোস্টে এরদোয়ান জানান, আয়া সোফিয়ার সম্পত্তি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক দফতর ‘দিয়ানাত ফাউন্ডেশনের’ হাতে সোপর্দ করা হবে।

এরপরই আয়া সোফিয়াতে প্রথমবারের মত আজান দেয়া হয়। তুরস্কের সব টেলিভিশন চ্যানেলে এই দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়।

আয়া সোফিয়ার ইতিহাস:

আয়া সোফিয়ার ইতিহাসের সূচনা ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে যখন বাইজান্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন হর্ন নামে এক জায়গায় একটি বিশাল গির্জা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।

সে সময় বিশাল গম্বুজের এই গির্জাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা এবং দালান বলে মনে করা হতো।

১২০৪ সালে ক্রুসেডারদের হামলার ঘটনা বাদে কয়েক শতাব্দী ধরে আয়া সোফিয়া বাইজান্টাইনদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

অটোমান (ওসমান) বংশীয় সুলতান তৃতীয় মুহাম্মাদ ১৪৫৩ সালে বাইজান্টাইন শাসকদের হাত থেকে ইস্তাম্বুল দখল করে নেন। তার আগ পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল।

ইস্তাম্বুল দখলের পর বিজয়ী মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো গির্জার ভেতরে নামায আদায় করে। অটোমান শাসকেরা এরপর আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন। মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার তৈরি করেন।

গির্জার সব খ্রিস্টান প্রতিকৃতি এবং সোনালি মোজাইকগুলো কোরানের বাণী দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এর পরের কয়েকশো বছর ধরে আয়া সোফিয়া ছিল অটোমান মুসলমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।

১৯৩৪ সালে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করার প্রক্রিয়ায় মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। আয়া সোফিয়া এখন তুরস্কের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান বলে স্বীকৃত। প্রতিবছর ৩৭ লক্ষ পর্যটক এটি দেখতে আসেন। সূত্র: বিবিসি।

এমএফ/

 

আরও পড়ুন

আরও