করোনায় হজ বাতিলের সম্ভাবনা সৌদির
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

করোনায় হজ বাতিলের সম্ভাবনা সৌদির

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

করোনায় হজ বাতিলের সম্ভাবনা সৌদির
করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো হজ বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে সৌদি আরব।

শুক্রবার দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে, বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজ প্রতি বছর পালন করা হয়। এবার চাঁদ দেখার ভিত্তিতে জুলাই মাসের শেষের দিকে হজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি বছর হজে অংশগ্রহণ করতে বিশ্বের প্রায় ২০ লাখ মানুষ সৌদি আরব গমন করেন।

কিন্তু মহামারিতে টোকিও অলিম্পিক গেমসের মতো আয়োজন পেছানো বা বাতিল করার ফলে হজ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সৌদি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।

এবারের হজ নিয়ে যে দুটি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে একটি হলো, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা মেনে সীমিত সংখ্যায় স্থানীয়দের হজ পালনের অনুমতি দেওয়া। আরেকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হলো, এই বছরের হজ একেবারেই বাতিল করা।

সৌদি কর্মকর্তা বলেন, সব প্রস্তাবই বিবেচনায় রয়েছে। তবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ৮ জুন ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সীমিত পরিসরে হজ আয়োজন হতে পারে বলে জানা যায়। সৌদি আরবের হজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় এবার হজের পরিসর সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়হজ পালনের জন্য প্রত্যেক দেশের যে নির্ধারিত কোটা আছে তার ২০ শতাংশ এবার হজে যেতে পারবেন। সেই হিসেবে প্রতিবারের তুলনায় এবার হজের পরিসর হবে ৫ ভাগের এক ভাগ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ‘প্রতীকী সংখ্যক’ মুসল্লিদের হজের অনুমতি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রতি বছর যেখানে সাধারণত ২৫ লাখ মুসল্লি হজ পালন করেন, এবার হয়ত মাত্র ৫ লাখ মুসল্লি হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

এর আগে ইবোলা ও সার্স সংক্রমণের সময়ে সৌদি আরব হজ আয়োজন করতে পেরেছিল। তবে করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি অনেক বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে।

২ মার্চ প্রথম করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর সৌদি সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুতই বিধি-নিষেধ জারি করে। এর মধ্যে ছিল দুই মাসব্যাপী দেশজুড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কারফিউ।

কিন্তু মে মাসের শেষ দিকে লকডাউন শিথিল করলে দেশটিতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। টানা ছয় দিন তিন হাজারের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৪১ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৭২ জনের।

ওএস/এমএফ

 

: আরও পড়ুন

আরও