নাৎসি ডেথ ক্যাম্পে মুসলিম-ইহুদী নেতারা
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

নাৎসি ডেথ ক্যাম্পে মুসলিম-ইহুদী নেতারা

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৬, ২০২০

নাৎসি ডেথ ক্যাম্পে মুসলিম-ইহুদী নেতারা
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মহাসচিব মোহাম্মদ বিন আবদুলকারিম আল-ইসা ও আমেরিকান জিউইশ কমিটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড হ্যারিসের নেতৃত্বে বিশ্বের মুসলিম ও ইহুদি নেতাদের একটি দল পোল্যান্ডের নাৎসি কনসেনট্রেশন ক্যাম্প সফর করেছেন।

বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের আউশভিৎস কনসেনট্রেশন ক্যাম্প সফর করেন তারা। নাৎসি ডেথক্যাম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল এটি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি অধিকৃত পোল্যান্ডে নাৎসিরা ইহুদিদের নির্যাতন ও হত্যার জন্য এই ক্যাম্পগুলো ব্যবহার করত। আউশভিৎসের ক্যাম্পটিতে প্রায় ১১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই ছিলেন ইউরোপ মহাদেশের ইহুদি।

১৯৪৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সোভিয়েত বাহিনী ক্যাম্পটি মুক্ত করে। এর ৭৫ বছর পূ্র্তি উপলক্ষে এই সফরের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কা থেকে আসা মুসলিম নেতা আল-ইসা সঙ্গে ২৮টি দেশ থেকে আরো ৬১ জন মুসলিম প্রতিনিধি নিয়ে এই সফরে এসেছেন। এদের ২৫ জন মুসলিম বিশ্বে বেশ সুপরিচিত নেতা।

তাঁদের এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছে অ্যামেরিকান জিউইশ কমিটি বা এজেসি। ইউরোপীয় ইহুদিদের নিধন চালানো এই ক্যাম্পটিতে মুসলিম ও ইহুদিরা একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। ইহুদি প্রতিনিধিদের মধ্যে এজেসির সদস্যরা ছাড়াও হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়াদের সন্তানরা ছিলেন।

সৌদি আরবের মুসলিম নেতা আল ইসা বলেন, হলোকস্ট থেকে বেঁচে যাওয়াদের সন্তানরা এবং ইহুদি ও মুসলিম গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে এখানে উপস্থিত হতে পারাকে আমি পবিত্র কর্তব্য পালন এবং বিশেষ সম্মানের বলে করছি।

তিনি আরও বলেন, এই স্থান যে বিবেকবর্জিত অপরাধের সাক্ষী, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এটি আমাদের সবার বিরুদ্ধে ঘটেছে, সৃষ্টিকর্তার সম্মানিত সৃষ্টি সকল মানুষের বিরুদ্ধে।”

শুক্রবার সফরকারী দলটি ওয়ারশতে পোলিশ ইহুদিদের ইতিহাস সম্বলিত পোলিন মিউজিয়ামে যান।

দুবছর আগে আল-ইসা ওয়াশিংটনের ইউনাইটেড স্টেটস হলোকস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে হলোকাস্টের শিকার মানুষদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি এবং উল্লেখ করেন এই ঘটনা ‘মানবতার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে’।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলাম এমন অপরাধের বিপক্ষে এবং হলোকস্ট বা এর প্রভাব অস্বীকার করাকে আমরা ইতিহাস বিকৃতি বলে মনে করি এবং যেসব নিরপরাধ আত্মা এর শিকার হয়েছে তাদের প্রতি অপমান বলে মনে করি।”

২০১৮ সালের মে মাসে জাদুঘরটি সফরের পর আল-ইসা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে একটি উপ-সম্পাদকীয় লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে ভিডিও, ছবি, প্ল্যাকার্ড, সাক্ষাৎকার ও স্মারক দেখেছি, এর সবই হলোকস্টের সাক্ষ্য প্রমাণ বহন করে।

তিনি আরও বলেন, “হলোকস্টের বিশালতা বুঝতে কারো জাদুঘরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু জাদুঘরটিতে যারা যাননি তাদের পক্ষে এটি ঘটেনি, এমন কথা বলা অসম্ভব।”

লেখাটিতে তিনি সকল মুসলিমকে হলোকস্টের ইতিহাস জানা, স্মৃতিস্মারক এবং জাদুঘরগুলো ভ্রমণ করার আহ্বান জানান।

এমএফ/

 

: আরও পড়ুন

আরও