মাস্ক ব্যবহার করে সংক্রমণ ১% এর নিচে নামানো সম্ভব! (ভিডিও)
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

মাস্ক ব্যবহার করে সংক্রমণ ১% এর নিচে নামানো সম্ভব! (ভিডিও)

প্রীতম সাহা সুদীপ ১২:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে করোনার বিস্তাররোধের চেষ্টা চলছে।

তবে হেলদি লিভিং ট্রাস্টের সেক্রেটারী জেনারেল ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ ফজলেরাব্বী খানের মতে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার সকলে যদি আজ থেকে মাস্ক ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে ১৪-১৫ দিন পর করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ১% এর নিচে নেমে আসবে, যেটা এখন ২২-২৩ % এ আছে।

করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ভূমিকা নিয়ে পরিবর্তন ডটকমকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এমন মত প্রকাশ করেন।

ডা. ফজলেরাব্বী বলেন, 'করোনা প্রতিরোধে মাস্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। করোনা প্রতিরোধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক অনেক নির্দেশনা আছে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যদি আমরা তিনটা ফান্ডামেন্টাল বিষয়কে ধরি, যেটাকে আমেরিকান সিডিসি রিকমান্ড করেছে। এই তিনটা ফান্ডামেন্টালের মধ্যে এক হলো হাত ধোয়া, দুই- মাস্ক ব্যবহার করা ও তিন- একে অপরের কাছ থেকে এক মিটার দূরত্বে থাকা।'

তিনি বলেন, 'মাস্ক কতোটা গুরুত্বপূর্ণ আমি একটু উদাহারণ দেই। এখন থেকে যদি আমরা সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ মাস্ক ব্যবহার করি, ঠিক ১৪-১৫ দিন পরে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ১% এর নিচে নেমে আসবে, যেটা এখন ২২-২৩ % এ আছে।'

বাজারে তো অনেক ধরণের মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে, এক্ষেত্রে কোন কোয়ালিটির মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে এমন প্রশ্নে এই চিকিৎসক বলেন, 'বাজারে অনেক কোয়ালিটির মাস্ক পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভাল হলো এন-৯৫ মাস্ক। বলা হয়ে থাকে এই মাস্কটি ৯৫% জীবানু প্রতিরোধ করে। এরকম আরও অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ডের মাস্কই কিন্তু বাজারে আছে। তবে করোনা প্রতিরোধে এগুলোর কোনটাই লাগবে না। আমরা যদি সাধারণ মানুষেরা শুধু কাপড়ের মাস্কই ব্যবহার করি, যেটাতে তিনটা লেয়ার থাকবে; সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।'

'এছাড়া আমরা সার্জিকেল মাস্কও পড়তে পারি, যেটাতে তিনটা লেয়ার থাকে। যে কোন মাস্কেই কিন্তু করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু মাত্র হাসপাতালে যেসব চিকিৎসকরা কোভিড সংক্রমিত রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন, তাদের আমরা বলি প্রোপার প্রোটেকশন অর্থাৎ পিপিই, মাস্ক, ফেসশিল্ড, গগোজ এসব ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করা উচিত। ননকোভিড সাধারণ রোগীদেরও কিন্তু চিকিৎসকরা শুধু মাত্র সার্জিকেল মাস্ক পড়েই সেবা দিতে পারে।'

'সাধারণ মানুষ যারা আছেন তাদের প্রত্যেকেই যদি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করেন এতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা না কারণ আমরা শুধু ড্রপলেটটা প্রতিরোধ করবো। ড্রপলেটটা যাতে আমার মুখ থেকে অন্য কারো মুখে না যায়'।

'মাস্ক ব্যবহারের জন্য আমরা কি কি নিয়ম অনুসরণ করতে হবে এমন প্রশ্নে ফজলেরাব্বী খান বলেন, মাস্ক আমরা ব্যবহার করি যাতে জীবাণু সরাসরি আমাদের মুখে এসে না পড়ে, জীবাণু পড়লে সেটা মাস্কের বাইরে পড়বে। ধরুন আমার মাস্কের বাইরের অংশে জীবাণু এসে পড়ে থাকলো, আমার যেটা করতে হবে মাস্ক খোলার সময় এবং পড়ার সময় খুব সচেতনভাবে খুলতে ও পড়তে হবে। পড়ার সময় হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে হাতটা ভাল করে পরিস্কার করে মাস্কের ফিতাটা ধরবো এবং দুই দিকের ফিতার অংশ ধরে মাস্কটি পড়বো। খেয়াল রাখতে হবে হাত যাতে মাস্কের উপরের অংশে না পড়ে।'

'তেমনিভাবে মাস্ক খোলার সময় দুই পাশের ফিতার ফাঁকে আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে খুলতে হবে। কোনভাবেই মাস্কের উপরের অংশে হাত দেয়া চলবে না। খোলার পর মাস্কটা আলাদা ভাবে ডিজপোজ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোন একটা পলিথিনের প্যাকেট রাখা যেতে পারে যেটিতে আমরা ঢুকিয়ে রাখবে। অথবা রোদে, সূর্যের তাপে রাখা যেতে পারে, এতে মাস্কটাও শুকিয়ে যাবে এবং অটোমেটিক ডিজইনফেক্টেড হয়ে যাবে। এগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে।'

'মাস্ক রিইউজ কিভাবে করা যেতে পারে, জানতে চাইলে ডা. ফজলেরাব্বী বলেন, এটা আসলে আমাদের খুব ভাল করে জানতে হবে কারণ এই ভাইরাসের প্রবণতা কতদিন থাকবে সেটা আসলে ডিপেন্ড করবে ভাইরাসটাকে আমরা কতটুকু নার্চার করছি সেটার উপর। ধরা যাক একটা লম্বা সময় ধরেই ভাইরাসটা টিকে থাকবে, তাহলে আমাদের এই স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনটেইন করেই সব সময় চলতে হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিদিন আমরা একটা মাস্ক ব্যবহার করতে পারবো না, আমাদের মাস্কগুলো রিইউজ করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'কাপড়ের মাস্ক রিইউজ করা খুবই সহজ, এটাকে আমরা প্রতিদিন ধুয়ে ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় আপনি যদি সপ্তাহে সাতদিন সাতটি মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম তিনদিন তিনটা মাস্ক ব্যবহার করে ধুয়ে দিলেন, বাকি চারদিন অন্য চারটা মাস্ক ব্যবহার করলেন। এভাবে ধুয়ে শুকিয়ে কিন্তু আপনি পুরো বছরই এ মাস্কগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।'

'কিন্তু সার্জিকেল মাস্কের ক্ষেত্রে কিছু কথা আছে, এটা সব সময় ধুয়ে ব্যবহার করা যায় না। এটা ধুলে পরে কার্যকারিতাটা আর থাকে না। সেজন্য সার্জিকেল মাস্ক দিনে একটাই ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ব্যবহারের পর সেটা অবশ্যই ডিজপোজ করে ফেলতে হবে। ডিজপোজ করার জন্য এটাকে কোন ঢাকনাসহ ডাস্টবিনে ফেলা যেতে পারে। সবচেয়ে ভাল হয় হাসপাতালে যেভাবে ডিজপোজ করা হয়, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা। কারণ সঠিক নিয়ম না মানলে সেটা আমাদের জন্য শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।'

পিএসএস

 

: আরও পড়ুন

আরও