আলো ছড়াচ্ছেন রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

আলো ছড়াচ্ছেন রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য

প্রীতম সাহা সুদীপ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য্য। বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে দীর্ঘ এক দশক কাজ করেছেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে। সেই সুবাদে তিনি নিবিড়ভাবে মিশেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। খুব কাছ থেকে দেখেছেন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তার উপলব্ধি, সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিক স্তরে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় রয়েছে কিছুটা অপূর্ণতা।

দীর্ঘদিন বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা ও শিক্ষা বোর্ডে কাজ করার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্র নারায়ণ সমৃদ্ধ হয়েছেন নানা অভিজ্ঞতায়। শিক্ষা নিয়ে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টাও দেখেছেন খুব কাছ থেকে। "শিক্ষা নিয়ে গর্ব দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ"— এই স্লোগানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তার উপলব্ধি, কোথায় যেন একটা গলদ থেকে যাচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধান শুরু করেন তিনি। একসময় আবিষ্কার করেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আনন্দের সাথে পাঠে মনোযোগী হওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষাবান্ধব সরকারের নানা প্রচেষ্টায়ও তাদের সৃজনশীলতার পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটছে না।

সেই সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে তিনি কাজ শুরু করেছেন শিক্ষকদের সঙ্গে। বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকায় অযোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষক পদে বেশি নিয়োগ পেতেন। তাই যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তিনি NTRCA-এর মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ নিয়োগ কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখেন। এই প্রস্তাব বাস্তবে রূপ লাভ করায় সারা দেশে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কারণ রবীন্দ্র নারায়ণ মনে করেন, যোগ্য ও সৃজনশীল শিক্ষকই কেবল পারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের জাগরণ ঘটাতে।

আর এ লক্ষ্যে তিনি বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করে সৃজনশীল এক পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। যার নাম দিয়েছেন, ‘মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলা ভাষার উন্নয়ন প্রকল্প’। যে প্রকল্পের লক্ষ্য বাংলা ভাষার বৈজ্ঞানিক চর্চার মধ্য দিয়ে জ্ঞানচর্চা। একই সাথে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের অসীম জগতের প্রতি কৌতূহলী করে তোলা।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দুইটি চমকপ্রদ সূত্র ব্যবহার করেন তিনি। যার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হবে। তার একটি হচ্ছে ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু’ সূত্র। এই সূত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, বিন্দু থেকেই জগতের সকল ভাষার বর্ণমালার সৃষ্টি। বিন্দু, রেখা ও অর্ধবৃত্ত দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত ভাষার বর্ণমালা বের করা সম্ভব। এক কথায়, আমাদের যা কিছু আবিষ্কার, যা কিছুর উৎপত্তি, তার মূলেই এই বিন্দু। আরেকটি সূত্র হচ্ছে বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের X+Y+Z=W। যেখানে X-মানে কাজ/পড়াশোনা, Y-মানে খেলাধুলা, Z-মানে অন্যের বিরূপ সমালোচনা না করা। আর W-মানে সাফল্য। তিনি দেখিয়েছেন, এই তিনটির সমন্বয় ঘটলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে সহজেই সাফল্য আসা সম্ভব।

এই দুই সূত্রের সাহায্যে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যেক প্রধান শিক্ষক ও দুইজন করে বাংলা বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকের সমন্বয়ে তিনি তার প্রকল্প সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। গত এক দশকে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৪১ উপজেলায় সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন তিনি। যা স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

তবে রবীন্দ্র নারায়ণ তার এই প্রচেষ্টা শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। ছড়িয়ে দিতে চান সারা দেশে। কিন্তু এটা তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তার বিশ্বাস, যদি সারা দেশে ‘মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলা ভাষা উন্নয়ন প্রকল্প’ ছড়িয়ে দেয়া যায় তবে গুণগত শিক্ষার প্রসারে সরকারের লক্ষ্য অর্জনে আরো গতি আসবে।

পিএ

 

: আরও পড়ুন

আরও