রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া

বেরোবি প্রতিনিধি ৭:০৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া

আজ শুক্রবার। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সবকিছুই বন্ধ। ছুটির দিন হলেও দিনটি আপামর মানুষের কাছে বিশেষ দিন হয়ে উঠেছে । কারণ আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথমদিন।

এছাড়া দিনটি আরও বিশেষত্ব লাভ করেছে ‘ভ্যালেনটাইস ডে’ হওয়ার কারণে। শিহরণ জেগেছে প্রকৃতিজুড়ে। চারদিকে শুকনো পাতার ওড়াওড়ি। সেই আনন্দের রং লেগেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত গুনগুন-রনন বইমেলায়ও।

তরুণ-তরুণীদেরকে দেখা গেছে বসন্তের উৎসবে মেতে উঠতে। বাসন্তি শাড়ি পরে, খোঁপায় পলাশ ফুল গুঁজে মেয়েদের ঘুরে বেড়ানো যেন মেলায় উৎসবের রং বুলিয়ে দিয়েছে। ঝিরঝিরে পাতা ঝরার শব্দের মত দলে দলে মানুষ এসেছিলেন মেলায়। তরুণীদের পোশাকে ছিল বসন্তের ছোঁয়া।

একুশের টানে সত্য ও সুন্দরের পক্ষে বইমেলায় আসছেন শিশু, কিশোর, অবিভাবকসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। মেলায় এদিন পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মেলার শোভা বাড়িয়েছে কয়েকগুন। পাশাপাশি এদিনে বইয়ের বিকিকিনিও ছিল চোখে পড়ার মত।

বিশেষ করে তরুণ-তরণীরা একে অপরকে পছন্দের লেখকদের বই উপহার দিয়েছেন। গল্প ও কবিতার বইয়ের চাহিদা বেশি ছিল। একুশের চেতনায় ভাস্বর এই বইমেলা ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে ছড়াবে শিক্ষা ও দেশের প্রতি ভালবাসার আলো—সেই প্রত্যাশাই করছেন মেলার আয়োজকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুনগুন-রণন আয়োজিত বইমেলায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি ঢাকা ও রংপুরের বিভিন্ন প্রকাশনী এবং শিল্প-সাহিত্য বিষয়ক সংগঠনসহ মোট ২৮টি স্টল অংশ নিয়েছে। জনপ্রিয় লেখক, কবি-সাহিত্যিকদের বই ছাড়াও শিশুতোষ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কিত অনেক বই শোভা পেয়েছে মেলার স্টলগুলোতে।

গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ বইমেলা চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলার পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এএসএম জাকির হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেখানে এসে একই সাথে বসন্ত উদযাপনের পাশাপাশি বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে পারছি। এই অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। গুনগুন-রণন আয়োজিত বইমেলার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার আগ্রহ দিনদিন বাড়ুক। আমি মনে করি প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম বইমেলার আয়োজন করা উচিৎ।’

রংপুর শহর থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আজ ছুটির দিন হওয়ায় কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই বসন্তের প্রথম দিনটি উপভোগ করছি। আর সময় কাটাচ্ছি বইমেলার মত একটি জায়গায়। কাজেই বসন্ত এবং বইমেলা দুটোই আমার কাছে অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।’

‘দ্যা বিউটি অব বিআরইউআর ক্যাম্পাস’ নামক স্টলের বই বিক্রেতা রাফিন আহমেদ অনিক বলেন, ‘ছয় দিনব্যাপী মেলায় বইপ্রেমীদের বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজকের দিনটিতে স্টলে ক্রেতাদের ভিড় ছিল একটু বেশি। যে কয়দিন বাকি আছে সে কয়দিনও  আরও ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

এদিকে বসন্তের আগমন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সংগঠন রননের উদ্যোগে বইমেলা থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাস ঘুরে আবারও বইমেলায় এসে শেষ হয়।

রননের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘যদিও বসন্তের কোন রং হয় না তারপরেও আমরা চাই বসন্তের রং-এ রঙ্গিন হোক আমাদের সকলের জীবন।’

মেলার আয়োজক গুনগুনের সভাপতি ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সাইন্স বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘আজকের দিনটি ছুটির দিন এবং বসন্তের প্রথম দিন হওয়ায় বইমেলাটি পুরোপুরি জমে উঠেছে। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায়, উপজেলায় এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে এ রকম বইমেলা চলুক।’

এমএ/পিএসএস

 

শিক্ষাঙ্গন: আরও পড়ুন

আরও