২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, উন্নতি-অবনতির খতিয়ান
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৩ আশ্বিন ১৪২৭

২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, উন্নতি-অবনতির খতিয়ান

মূল: ডন নিউজ; ভাষান্তর: মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

২০১৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, উন্নতি-অবনতির খতিয়ান

২০১৮ সাল শেষ হলো, তখন এমন সব ইশারা পাওয়া যাচ্ছিল যেন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধগুলো শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমেরিকা- সিরিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সিরিয়ায় নতুন সংবিধানের প্রস্তুতি চলছে এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে। তখন ইয়েমেন যুদ্ধেও মধ্যস্ততার কথা হচ্ছিল। লিবিয়া এবং ইরাক দীর্ঘদিনের সংকট থেকে মুক্তি পেতে চলেছে বলেও মনে হচ্ছিল।  

কিন্তু আরো একটি বছর পেরিয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপটে একই রকম যুদ্ধ, বিক্ষোভ ও সহিংসতা এবং নতুন মেরুকরণ অব্যাহত রয়েছে। আর ইরাক এখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।      

২০১৯ সালে আইএস প্রধান আবুবকর আল বাগদাদি নিহত হয়েছেন। ফলে সিরিয়ার বিশাল অংশে আইএসের প্রতিষ্ঠিত কথিত খেলাফতি রাষ্ট্রের পতন ঘটেছে। এ বছর ইরান এবং সৌদির মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধ সৌদি মূল ভূখণ্ডে গিয়ে পৌঁছেছে। লেবানন সহিংস বিক্ষোভের ফলে এখন আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার শিকার হয়েছে। অর্থনৈতিক অবরোধে মন্দাবস্থার শিকার ইরানি জনগণের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতা। জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া সত্যেও টিকে থাকা সৌদি-আমেরিকার সুসম্পর্ক ফ্লোরিডায় প্রশিক্ষণরত সৌদি পাইলটের গোলাগুলিতে এখন মন্দ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন।

দুই বছরের টানা অবরোধেও কাতারের কোনো ক্ষতি হয়নি। যে কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে কাজ করছে। সিরিয়ায় ইসরাইল-ইরানের মধ্যে চলমান প্রক্সি যুদ্ধ ইসরাইল ইরাক পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে। আমেরিকা-ইরানের মধ্যকার পারমাণবিক বিরোধে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ইরানের প্রতি রয়েছে। যা ইরান সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পলিসিতে সন্দেহ ও অস্থিতিশীল অবস্থার ফল। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সুদানের সামরিক বাহিনী পিছু হটার পরে সৌদি আরব ইয়েমেনে চলমান কোনো অর্জনহীন যুদ্ধটিকে শেষ করতে বাধ্য হয়ে পড়েছে।

সিরিয়ার ক্রমবর্ধমান সমস্যা

ইরাক এবং সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে আমেরিকা স্থানীয় মিত্রদের সাহায্যে যুদ্ধ করেছে। স্থানীয় মিত্ররা স্থলযুদ্ধে লড়াই করেছে যখন তাদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট ছিল। আমেরিকার যুদ্ধবিমানগুলো এসব স্থল সেনাদেরকে আকাশপথে অভিযানের মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছিল। সিরিয়ায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী কুর্দি মিলিশিয়াদের এক হাজার মার্কিন সেনা দিয়ে সাহায্য করছিল। কিন্তু অকস্মাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুধু সামরিক কর্মকর্তা, কংগ্রেস সদস্য এবং মিত্রদেরকেই অবাক করে দেয়নি; বরং কুর্দি মিলিশিয়া এবং স্থানীয় আরব গ্রুপ ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকেও কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়া একা ছেড়ে দিয়েছে।   

ইদলিবে আল কায়েদার ৩০ হাজার সৈন্য এখনও বড় হুমকি এবং সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব তাদেরকে শক্তিশালী করতে পারে। ছবি: এএফপি

খবর অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তুরস্কের অনুরোধে এটা করেছিলেন এবং এই পদক্ষেপের পরে ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে তুরস্কের আক্রমণ এড়াতে সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ ও রাশিয়ার আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা কুর্দিরাও সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর সঙ্গ দিতে বাধ্য হয়েছিল।

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর আমেরিকার দুনিয়াজুড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী সিল টিম, গ্রিন বেরেটস এবং স্পেশাল ফোর্সের কার্যপদ্ধতি এবং অন্যান্য গোপন তথ্যাদি সিরিয়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রাশিয়া এবং ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ভয় তো ছিলই, সেইসাথে কুর্দি মিলিশিয়ারাও এতটাই হতাশ ছিল যে ফিরে যাওয়ার সময় তারা মার্কিন সেনাদের উপর গুলিও চালিয়েছে। এমতাবস্থায় মার্কিন বিমানবাহিনীকে স্থলবাহিনী সরে যাওয়ার পর পরিত্যক্ত ক্যাম্প ও অস্ত্রগুলোকে বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করতে হয়েছে।

সিরিয়ার কুর্দি মিলিশিয়া ‘ওয়াইপিজি’র সম্পর্ক দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত দল ‘পিকেকে’র সাথে। পিকেকেকে তুরস্কের পররাষ্ট্র দফতর সন্ত্রাসী ঘোষণা দিয়েছে। তাই ওয়াইপিজির সাথে আমেরিকার জোট শুরুর দিন থেকেই বিতর্কিত এবং তুরস্কের সাথে বিবাদের কারণ ছিল।

ওয়াইপিজি আইএসের খেলাফতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে। আইএসকে ধ্বংস করতে আমেরিকার স্থানীয় মিত্র ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসে’র (এসডিএফ) ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আইএসের কয়েক হাজার সদস্য এখনও এসডিএফের জেলখানাগুলোতে বন্দি রয়েছে। কিন্তু তুরস্কের সাথে লড়াইয়ে এখন বন্দিদের পলায়নের ভয় তৈরি হয়েছে।  

সিরিয়া থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারের ফলে সিরিয়ার পুরো আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ এখন রাশিয়ার হাতে চলে গেছে। স্থলবাহিনী না থাকায় মার্কিন বিমানবাহিনীর অভিযানগুলোও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সিরিয়ায় তুর্কি অভিযানের ফলে এসডিএফের বন্দিরা কেবল ময়দানেই ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নয়—বরং সিরিয়া থেকে পালিয়ে গিয়ে তারা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় আইএস আন্দোলনগুলোকেও শক্তিশালী করতে পারে। এভাবে আমেরিকা একটি জ্বিনকে বাহ্যিকভাবে বোতলবন্দি করার পর আবার স্বাধীন হওয়ার রাস্তাও দিয়েছে।

ইদলিবে আল কায়েদার ৩০ হাজার সৈন্য এখনও বড় হুমকি এবং সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব তাদেরকে শক্তিশালী করতে পারে।    

তুরস্ক নিজের সীমান্ত লাগোয়া সিরিয়ার অংশে সন্ত্রাসী কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আগ্রহী, কিন্তু আইএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনাগ্রহী। কারণ এতে তুরস্ক নিজের সীমানার ভেতরে আইএসের জবাবি প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করছে। আইএস তুরস্কের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের জন্য বড় হুমকি। এ অবস্থায় তুরস্ক এই উগ্রপন্থী দলটিকে নিজের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করবে না।    

আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদিও সিরিয়ায় তুর্কি অভিযানের বিরোধিতা করেছে, কিন্তু তুরস্ককে বাধা দেওয়ার চেষ্টা কেউ করেনি। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে তুরস্ককে রাস্তা ছেড়ে দিয়েছে। কুর্দিদের বাশার আল-আসাদের সাহায্য মিলেছে কিন্তু রাশিয়া তুরস্ককে মিত্রশক্তি মনে করে। তাই সে সিরিয়ার অভ্যন্তরে তুরস্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ফলে তুরস্ক সিরিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত সেফজোনে দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারবে।

ইরাক: মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র

ইরাকে সরকারবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ হচ্ছে, যেখানে জনসাধারণ ধর্মীয় বৈষম্য ছাড়াই অংশগ্রহণ করেছে। কারবালা এবং নাসিরিয়াতে ইরানি কাউন্সিল জনতার ক্রোধের আগুনে পুড়েছে। ইরান এই বিক্ষোভকারীদের নিজের সীমানায় প্রবেশ করা থেকে বাধা দিতে ইরানপন্থী মিলিশিয়া যোদ্ধাদের সাহায্য করছে। কারণ ইরাকের নিপীড়িত জনতা ইরানি সৈন্যদের ইরাকে মোতায়েন ও হস্তক্ষেপ পছন্দ করবে না। ইরাকি বাহিনীর দিক থেকে বলপ্রয়োগে বিক্ষোভকারীদের নিষ্পেষণের চেষ্টাও ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।    

সিরিয়া থেকে আমেরিকার প্রস্থানের পর ইসরাইলের জন্য আর সতর্কতার প্রয়োজন নেই।

ইরাকে ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী হাশদ আশ-শা’বীকে ড্রোনের মাধ্যমে নিশানা বানাচ্ছে ইসরাইল। এর আগে ইসরাইল যখনই ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের সিরিয়া বা ইরাকে নিশানা করেছে, ইরানপন্থী গ্রুপগুলোও মার্কিন বাহিনী ও তার স্বার্থের উপর হামলা করে এর জবাব দিয়েছে। সিরিয়া থেকে আমেরিকা সরে যাওয়ার পর ইসরাইলের জন্য আর কোনো সতর্কতার প্রয়োজন নেই। এখন সিরিয়ায় ইসরাইলের হামলা বাড়বে। ইরাকেও ইসরাইলের তৎপরতা বাড়ছে। যাকে ইসরাইল নিজের প্রতিরক্ষা অধিকার বিবেচনা করে এবং ইরান একে আক্রমণ মনে করে। এভাবে ইরাক আরও একবার যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হতে চলেছে। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এই প্রক্সি যুদ্ধকে আরও তীব্র করবে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার প্রস্থানের ফায়েদা ওঠাবে রাশিয়া। রাশিয়া এখন আমেরিকাকে অনির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করবে এবং নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে নির্ভরযোগ্য অংশীদার ও বিশ্বস্ত মধ্যস্ততাকারী হিসেবে উপস্থাপন করবে। এই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে বলে দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ভুল নীতি এবং ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান শক্তির ভয়

ইরান তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধে সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করেছে। ট্যাংকার আটক করা হয়েছে, ক্রুদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সৌদি পাইপলাইনগুলোতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। বিশ্বের সবচে বড় তেলশোধনাগারেরও উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে। আমেরিকার ব্ল্যাকহক ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে আর জবাবে আমেরিকা শুধু প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে এই দিক থেকেও উৎকণ্ঠিত। যে মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশেষত সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার জিম্মাদার ছিল, একদিক থেকে সেই আমেরিকা ইউটার্ন নিয়ে ফেলেছে। সৌদি আরবের সবচে বড় তেল শোধনাগার—যা বিশ্বের মোট প্রয়োজনের ৭ ভাগ পূরণ করত, এর উপর হামলা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ব্যাপারে কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নিয়ে আমেরিকাকে অনির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে প্রমাণ করেছে।   

যুদ্ধবিরোধী শ্লোগানকে পুঁজি করে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের আগে এমন যেকোনো প্রচারণা থেকে বিরত থাকছেন যা এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সৈন্য মোতায়েন বাড়াচ্ছে এবং সে মিত্রদেরকে একা ছেড়ে দিয়েছে—এমন ধারণা এড়ানোর চেষ্টা করছে। আমেরিকা আরও ১৪ হাজার সেনা পাঠানোর নিয়ে বিবেচনা করছে কিন্তু নিজের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে পারছে না। আমেরিকা ইতোমধ্যেই মে মাস থেকে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়ে দিয়েছে—যে ব্যাপারে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও উদ্বিগ্ন। তারা কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চায় যে আসলে তাদের উদ্দেশ্য কী?

সৌদি-কাতার সম্পর্কে ফের পরিবর্তন

দুই বছর আগে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং মিত্রদেরকেও সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করে। সে সময় সৌদি আরব এবং আমিরাতের মিডিয়াগুলো কাতারের আমিরকে মুহাম্মাদ মুরসির মতো পরিণতির হুমকি দিয়েছে। কাতারের রাজধানী দোহাকেও মিশরের রাজধানী কায়রোর রাবেয়া স্কয়ার বানানোর হুমকি দিয়েছে, যেখানে আট’শরও বেশি মিশরি বিক্ষোভকারিকে হত্যা করা হয়েছিল। ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের মিত্রদের দিয়ে কাতারের আল-উদাইদ ঘাঁটি থেকে মার্কিন সৈন্য ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়ানো হয়েছে।

কিন্তু দুই বছর পর কাতার আরব বিশ্বে সফলতার এক নজির উপস্থাপন করেছে। কাতার নিজের প্রয়োজনীয় খাদ্যের বড় অংশ এখন নিজেই উৎপাদন করছে। ওয়াশিংটনে এখন তার বন্ধু সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। যদিও এর জন্য কাতারকে মোটা অংক ব্যয় করতে হয়েছে। আল-উদাইদ ঘাঁটি এখন আগের চেয়ে বড়। আলজাজিরাও আগের মতো কাজ করছে এবং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যমটি জামাল খাশোগির মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশেষ সম্প্রচারও করেছে।

সৌদি আরব এবং আরব-আমিরাতেরও সুর বদলে গেছে; এই দেশগুলো এখন কাতারের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দেওয়া শুরু করেছে। এই উভয় দেশের দল দোহায় অনুষ্ঠিতব্য গালফ কাপের ম্যাচগুলোতে অংশ নিয়েছে। এ সত্যেও যে কাতার আলজাজিরা বন্ধ করতে প্রস্তুত নয় আর না সে মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সৌদি আরবের কাছে তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের হস্তান্তরেরও কোনো ঘোষণা হয়নি। কাতারের সামরিক এবং অর্থনৈতিক নীতিও সৌদি আরব অথবা গালফ কাউন্সিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।    

এই সকল পরিস্থিতির আলোকে এখন ভবিষ্যতে কী হয়, তার জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে।

অকার্যকর আগ্রাসী সৌদি নীতি

সৌদি যুবরাজ শাহজাদা মুহাম্মাদ বিন সালমানের আন্দাজ হয়ে গেছে যে তার আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি ফলপ্রসূ হয়নি। তার অর্থনৈতিক পলিসিও আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না। আরামকোর শেয়ার বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে এর মার্কেট ভেল্যু দুই ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারেনি। যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান নিউইয়র্ক বা লন্ডনের বাজারে আরামকোর শেয়ার প্রস্তাব করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ না দেখে রিয়াদে শেয়ার প্রস্তাব করা হয় এবং মুহাম্মাদ বিন সালমান যে সকল বিনিয়োগকারীদের গ্রেফতার করে তাদের উপর দুর্নীতির দাগ লাগিয়েছিলেন, এখন তাদেরকেই শেয়ার কেনার জন্য বলা হচ্ছে। কারণ, সৌদি যুবরাজের প্রয়োজন এখন অর্থের।    

আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির ফলাফল দাঁড়ালো যে—জর্ডান, ওমান এবং ইরাক দূরে সরে গেছে। এদিকে মিশরও ফ্রী তেল বন্ধ হওয়ার ফলে আগের মতো বন্ধুবৎসল নেই। অন্যদিকে ইরানও নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

তেল স্থাপনায় হামলা হওয়ায় যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছেন। যুবরাজ এটা কল্পনাও করতে পারতেন না যে ইরান এমনও দুঃসাহস দেখাতে পারে এবং এর চেয়ে অধিক দুশ্চিন্তার বিষয় হল আমেরিকা এই হামলাগুলোর পর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কেননা যে আমেরিকা অতীতে এরচেয়ে খুব সাধারণ ঘটনাতেও যুদ্ধ আরম্ভ করে দিত, সে সৌদি তেল স্থাপনায় একের পর এক হামলার ঘটনাগুলোকে কীভাবে এড়িয়ে যেতে পারে? এই প্রশ্ন যুবরাজের বোধগম্যতার বাইরে ছিল।   

এই ঘটনার পর বিস্মিত ও বিচলিত যুবরাজ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদিসহ সবাই তাকে এটা অনুভব করায় যে ভুল তার নিজের। কিন্তু যুবরাজ তুরস্কের সাথে যোগাযোগই করেনি কারণ তুরস্কের জবাব তার আগেই জানা ছিল। সম্প্রতি কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সৌদির আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির উপর পুনর্বিবেচনার এক অংশ। 

মিশরের অবনতিশীল পরিস্থিতি

সৌদি থেকে ফ্রী তেল পাওয়া বন্ধ হওয়ায় মিশর-সৌদি সম্পর্কে দূরত্ব এসেছে। মিশর এখন ইরাক থেকে এই সুবিধাটা পেতে চায়। কারণ মিশর এখন বিচলিত এবং এর কারণ হচ্ছে দেশটির ক্রমবর্ধমান ঋণ। যা বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি হারে বেড়ে এখন ১০৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিশরে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা দেশটিকে ডুবিয়েছে। প্রেসিডেন্ট সিসির নেতৃত্বে মিশর বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্ল্যাকহোলে পরিণত হয়েছে। জনগণও এতটাই দুঃসহ দিনাতিপাত করছে যে, একজন নির্বাসিত কৌতুক অভিনেতার ডাকে তারা আন্দোলনের জন্য বেরিয়ে আসছে।   

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দমন-পীড়ন বাড়ছে

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি নিপীড়ন খুব বেড়ে গেছে। ইসরাইলের ডানপন্থীরা একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ফিলিস্তিনিদেরকে দমন করার নীতি অনুসরণ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারবঞ্চিত করা এখন ইসরাইলে একটি বৈধ ও আইনি অনুশীলনে পরিণত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনা—যাকে সে ‘ডিল অব দি সেঞ্চুরি’ বলে, তা এখনও প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু ইসরাইলিরা জানে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা মার্কিন পলিসির মধ্যে নেই, তাই তারা শক্ত ভীতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।      

সৌদি বনাম আরব আমিরাত

আরব আমিরাত এখন নিজের স্বার্থকে সৌদি জোটের উপর প্রাধান্য দিচ্ছে। আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং যুবরাজের ছোট ভাই তাহনুন বিন যায়েদ অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে একটি গোপন সফরে তেহরান গিয়েছিলেন। এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এই সফর হয়েছিল সমুদ্রে চারটি তেল ট্যাংকারে হামলার পর। আমেরিকা এই হামলাগুলোর পর ইরানের দিকে আঙ্গুল তুলেছিল। কিন্তু আরব আমিরাত হামলার পরপরই নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের তেহরানে পাঠিয়েছিল। তাহনুনের সফর গোপন রাখা হয়েছে, তাই এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি।   

আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং তার সমর্থিত বিদ্রোহীদের দিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। মুহাম্মাদ বিন সালমান এই অবস্থায় ইয়েমেনে যুদ্ধজয়ের আশা ছেড়ে দিয়ে সমঝোতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সুদানও আরব আমিরাতের নীতি অনুসরণ করে অর্ধেকের বেশি সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।   

সৌদি যুবরাজের ছোট ভাই খালিদ বিন সালমান ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আবদে রাব্বিহীর সরকার ও দক্ষিণ ইয়েমেনে দখলদার দলটির মধ্যে আলোচনা করিয়েছেন এবং পাঁচ নভেম্বর একটি চুক্তিও সাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুসারে, এক মাসের মধ্যে ইয়েমেনে ২৪ জন মন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি নতুন সরকার গঠন করা হবে, যেখানে উভয় দল সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করবে।    

ওমানের সুলতান কাবুস হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে সন্ধি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছেন। সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই সেপ্টেম্বরে খালিদ বিন সালমান এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। খালিদ বিন সালমান হুথি নেতা মাহদি আল-মাশাতকে দুটি কমিটি বানানোর প্রস্তাব দেন, যার একটি রাজনৈতিক ও অপরটি সামরিক, যাতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান হয় এবং সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করা যায়।  

হুথিরা এই প্রস্তাব মেনে নেয় এবং আলোচনার জন্য তাদের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসাইন আল-ইজ্জিকে জাতিসংঘের সামুদ্রিক জাহাজে ওমান পাঠায়। সেখান থেকে হুসাইন আল-ইজ্জি বিমানে জর্ডানের রাজধানী আম্মান পৌঁছান, যেখানে সৌদি ও হুথিদের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয়। এরপর ইয়েমেনের সান’আয় বৈঠক হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হয়।   

এ সকল প্রস্তাবের মধ্যে এক বছরের যুদ্ধবিরতি এবং আহত ও অসুস্থদের দেশের বাইরে নিয়ে যেতে সান’আ এয়ারপোর্ট সীমিত সময়ের জন্য খোলার ব্যাপারে কথা হয়েছে। এরপর আরও একটি বৈঠক রিয়াদে হয়েছে, যেখানে সৌদি আরব হুথিদের প্রতি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই বৈঠকগুলো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হয়নি।  

সৌদি চায় যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য হোক। কিন্তু হুথিরা নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পক্ষে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারে হুথিরা কোনো তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না কারণ তারা এখনও ইরান থেকে অর্থ এবং অস্ত্রের সহায়তা নিচ্ছে। তাছাড়া হুথিরা এখনও সৌদিদের উপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না যে সৌদি তাদেরকে সরকারে পরিপূর্ণ অংশীদার করবে এবং যথাযথ তহবিল সরবরাহ করবে। ইয়েমেন সরকারের সাথে হুথিদের প্রথম যুদ্ধও সরকারে অংশীদারিত্ব এবং তহবিল না পাওয়ার কারণে হয়েছিল।  

ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও ইসরাইলের সামনে এখন আসল প্রশ্ন হচ্ছে, হুথিদের সাথে যেকোনো চুক্তি ইরানের সাথে তাদের উত্তেজনা কোনো সীমা পর্যন্ত হ্রাস করবে বা কোনো সীমা পর্যন্ত এর শেষ আনতে পারবে। সেইসাথে এটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইরান কোনো পর্যন্ত ইয়েমেনকে সৌদি বলয়াধীন রাষ্ট্র হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ইরান যদিও হুথিদের সরকারকে সমর্থন করেছে তেহরানে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে রাষ্ট্রদূতের মর্যাদা দিয়ে রেখেছে, তথাপি ইরান জানে যে এই কূটনৈতিক কৌশল পাথরে খোদাই করা কোনো রেখা নয়। হুথি এবং ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক আগে কখনো ছিল না তবে এমনিতে সম্পর্ক মজবুত ছিল।    

ইয়েমেনের সাথে ইরানের সম্পর্ক কৌশলগত। হুথি সরকারের ক্ষেত্রে তারা লোহিতসাগর ও বাব আল-মান্দাব স্ট্রিট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং এইসাথে ইরান আরও একটি আরব রাষ্ট্রে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে পারে। ইরান থেকে হুথিদের সুবিধা প্রাপ্তিটা এরচেয়েও বেশি। হুথিরা  ইরানের সাহায্যে ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বাহিনী দাঁড় করাতে পেরেছে। ইয়েমেনের বড় অংশে তারা দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। সৌদি আরবকে কোণঠাসা করেছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ইরান থেকে অর্থ নিয়েছে।

হুথিরা এখন এরচেয়েও বেশি চায়। তারা সরকারে পূর্ণ অংশীদারিত্ব এবং তেল আমদানিতে রাজস্বের ন্যায্য অংশ পেতে চায় যতটুকু তাদের দখলাধীন দক্ষিণ ইয়েমেনের হিসেবে ভাগে আসে। যদি সৌদি আরব হুথিদেরকে এই অংশ দিয়ে দেয় আর চুক্তি হয়ে যায়, তাহলে ইরানের প্রভাব কমে যাবে এবং ইরান ও হুথিদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে শুধু এক বন্ধুর সম্পর্ক রয়ে যাবে।

যদিও যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান ইয়েমেনের সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত দেরিতে নিয়েছে তথাপি সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে। যা তাকে ওয়াশিংটনে ফের শক্তিশালী মিত্র হিসাবে গড়ে তুলবে।

লেবাননের পরিস্থিতির বিবর্তন এবং এর সদ্ব্যবহারে প্রস্তুত পক্ষ

আগামী দিনগুলোতে লেবাননকে এই অঞ্চলে একটি নতুন সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবানন আমেরিকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র কিন্তু ইরান লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং ২০০৩ সালে ইরাকের আভ্যন্তরীণ বিরোধকে ব্যবহার করেছে। রাশিয়াও লেবাননকে লোহিতসাগরে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। লোহিতসাগরে ভূমিকার জন্য রাশিয়া সিরিয়ায় আছে এবং লিবিয়ায় জেনারেল হাফতারের সাহায্য করছে।

লেবাননে বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়নেও হিজবুল্লাহর হাত আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদি সত্যিই হিজবুল্লাহ এতে জড়িত থাকে তাহলে এর অর্থ হচ্ছে ইরান এই অশান্তি কাজে লাগাতে শুরু করেছে। হিজবুল্লাহ এবং ইরানকে মোকাবেলা করতে আমেরিকা লেবাননের সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারে। আমেরিকার সাথে লেবাননের সেনাবাহিনীর পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। লেবাননের সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত এই রাজনৈতিক বিবাদ থেকে দূরে আছে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে হওয়া বিদ্রোহে আমেরিকা লেবাননের সেনাবাহিনীকে ‘মাসীহার’ মতো এক পরিত্রাতারূপে সামনে হাজির করতে পারে। মার্কিন কূটনীতির সবচে বড় অস্ত্র হচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সম্পর্ক।

লেখক: ড. আসিফ শাহেদ২০ বছরেরও অধিককাল ধরে উর্দু ভাষার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কাজ করা বিদগ্ধ সাংবাদিক। বর্তমানে পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিএনএন নিউজে আন্তর্জাতিক ডেস্কের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। ডন নিউজ উর্দু থেকে তার কলাম অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ

এমএফ/

 

: আরও পড়ুন

আরও