চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার জোট
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১ | ১৩ কার্তিক ১৪২৮

চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার জোট

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১

চীনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার জোট
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘চীনের আধিপত্য’ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া একটি যৌথ ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করছে। এ কর্মসূচি অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন তৈরিতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন তিন দেশের প্রধানেরা।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘আউকুস’ নামের এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী মরিসন বলেন, অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে আগামী দেড় বছরের মধ্যে পরমাণু শক্তি চালিত সাবমেরিন বহর তৈরি করার একটি যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে দেশ তিনটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন থাকা সপ্তম দেশে পরিণত হবে অস্ট্রেলিয়া।

মরিসন পারমাণবিক জ্বালানি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করার জন্য আমাদের কী করতে হবে তার একটি গভীর পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে আমি স্পষ্ট বলতে চাই। অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ হতে চাইছে না।’

ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে তিন নেতার কেউই চীনের কথা উল্লেখ করেননি। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া এবং তাইওয়ানের প্রতি তাদের যুদ্ধকেন্দ্রিক মনোভাব বৃদ্ধির জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। খবর দ্য গার্ডিয়ানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের বর্তমান কৌশলগত পরিবেশ এবং এটি কীভাবে বিকশিত হতে পারে সে বিষয়টি বুঝতে হবে। কারণ আমাদের প্রত্যেকটি জাতি এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থায়ীত্ব এবং সমৃদ্ধির ওপর।’

লন্ডন থেকে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী করিস জনসন বলেন, ভৌগোলিকভাবে আলাদা হওয়া সত্ত্বেও এই তিনটি দেশ অতীতে ‘প্রাকৃতিক মিত্র’ ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন নিউজিল্যান্ডের জলসীমায় নয়: আরডার্ন


এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন বলেন, তার দেশের জলসীমায় পারমাণবিক শক্তিচালিত নৌযান চলাচলের ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বহাল থাকবে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়া যে নতুন সাবমেরিন তৈরি করতে যাচ্ছে, তা দেশটির জলসীমায় ঢুকতে পারবে না।

অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির ঘোষণা দেওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। 

নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় তারা এ সাবমেরিন তৈরি করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক চুক্তির অধীনে অস্ট্রেলিয়াকে সাবমেরিন তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। মূলত, চীনকে ঠেকাতে এ চুক্তি করা হয়েছে। এর আগে ১৯৪০-এর দশকে ‘ফাইভ আইস’ নামে একটি জোট গঠিত হয়েছিল। এ জোটে রয়েছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। 

অস্ট্রেলিয়ার সাবমেরিন তৈরির ঘোষণা আসার পর দুটি চুক্তি নিয়েই কথা বলেন জেসিন্ডা আরডার্ন। তিনি বলেন, নতুন যে চুক্তি হয়েছে, এ চুক্তির ফলে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দাসংক্রান্ত, আদান–প্রদানসংক্রান্ত পুরোনো যে চুক্তি রয়েছে, তার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা দেখে সন্তুষ্ট যে আমাদের মিত্রদেশগুলো এ অঞ্চলের ওপর নজর দিয়েছে।’ তবে পারমাণবিক শক্তিচালিত যানবাহন নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেনি নিউজিল্যান্ড। ১৯৮৫ সালে দেশটি এমন বাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এইচআর
 

আরও পড়ুন

আরও