দেশ পর্তুগাল থেকে হেরে ফিরলেন রোনালদো ও তার দল
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

দেশ পর্তুগাল থেকে হেরে ফিরলেন রোনালদো ও তার দল

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২১

দেশ পর্তুগাল থেকে হেরে ফিরলেন রোনালদো ও তার দল
পর্তুগিজ সমর্থকদের জন্য গতকালের রাতটি ছিল ন্য রকম এক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের যুদ্ধের। একদিকে ছিলেন তাদের প্রানপ্রিয় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। অন্যদিকে তাদের স্বদেশি ক্লাব এফসি পোর্তো। কাকে রেখে কাকে সমর্থন করবে, সিদ্ধান্তে পৌঁছানোটা হয়তো কঠিনই ছিল পর্তুগিজদের জন্য। তবে যারা নিজেদের ঘরের মাঠে বসে প্রিয় রোনালদোর পায়ের বিশেষ জাদু দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের কাল হতাশাই হতে হয়েছে। হতাশায় পুড়তে হয়েছে স্বয়ং রোনালদো এবং তার দল জুভেন্টাসকেও। দেশ পর্তুগাল থেকে কাল হেরে ফিরতে হয়েছে রোনালদো ও তার দল জুভেন্টাসকে।

নিজেদের ঘরের মাঠে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোল’র প্রথম লেগটিতে স্বাগতিক পোর্তো ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে রোনালদোর জুভেন্টাসকে। দল তো হেরেছেই, রোনালদো নিজেও কোনো গোল করতে পারেননি। বিশ্বজুড়ে গোলের বান বয়ে দিলেও দেশ পর্তুগালে গিয়ে কাল গোল না করতে না পারার হতাশায় পুড়তে হয়েছে তাকে। গোল করা দূরের কথা, রোনালদো কাল স্বদেশি দর্শকদের সামনে বিশেষ কোনো চমকই দেখাতে পারেননি। পুরো ম্যাচেই হয়ে ছিলেন নিজের ছায়া।

তবে এই হারের হতাশার মধ্যেও বড় একটা সান্ত্বনা নিয়ে ফিরেছেন রোনালদোরা। পোর্তোর মাঠে তারা পেয়েছেন একটি মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোল। অতি মূলব্রান সেই অ্যাওয়ে গোলটি করেছেন ফেডেরিকো চিয়েসা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটপর্বে একটা অ্যাওয়ে গোল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ফুটবলপ্রেমীদের জানাই।

চিয়েসার অ্যাওয়ে গোলটি যেমন জুভেন্টাসের জন্য সমীকরণটা সহজ করে দিয়েছে। মার্চে নিজেদের ঘরের মাঠের ফিরতি লেগে ১-০ গোলে জিতলেই একটা অ্যাওয়ে গোল হাতে থাকার সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে রোনালদোদের জুভেন্টাস। সেক্ষেত্রে স্কোর সমান (২-২) হওয়ার পরও কপাল পুড়তে পোর্তোর।

একটা অ্যাওয়ে গোলে হাথে থাকার স্বস্তি তো আছেই। জুভেন্টাস স্বস্তি পেতে পারে হারের ব্যবধান ২-১ গোলের বলেও। কারণ, রোনালদো ও তার দল জুভেন্টাস কাল এতটাই বাজে খেলেছে যে, হারের ব্যবধানটা ২-১ রাখাটা তাদের জন্য সৌভাগ্যেরই। পাশাপাশি জুভদের জন্য বড় একটা আক্ষেপও আছে। কারণ, প্রতিপক্ষ পোর্তো দুটো গোলই পেয়েছে জুভেন্টাসের খেলোয়াড়ের ভুলে!
পোর্তোর মাঠ এস্তাদিও ডু দ্রাগাওতে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বড় একটা ভুল করে বসে জুভেন্টাস।

নিজেদের বক্সের ভেতরেই জুভেন্টাস ডিফেন্ডার বেনতাকুর ব্যাক-পাশ করেন নিজ দলের গোলরক্ষক সজনিকে। কিন্তু বল সজনির পায়ে যাওয়ার আগেই দৌড়ে গিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন পোর্তোর ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। বল ধরেই তীব্রগতিতে আক্রমণে উঠে আসেন তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে বল আদান-প্রদানের মাধ্যমে গড়া সেই প্রতি আক্রমণ থেকে গোলও পেয়ে যান মেহদি তারেমি। তিনি বল যখন জুভেন্টাসের জালে জড়িয়ে দেন, ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৬১ সেকেণ্ড!

এই ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিক পোর্তো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ঠিক প্রথমার্ধের শুরুর মতোই। মানে দ্বিতীয়ার্ধেও প্রথম মিনিটেই গোল পেয়ে যায় পোর্তো। এবং যথারীতি এই গোলটির পেছনেও দায় রয়েছে জুভেন্টাসের ডিফেন্ডারদের। বল জুভেন্টাসের ডি-বক্সের মধ্যেই ঘুরাঘুরি করছিল। জুভেন্টাসের ডিফেন্ডারদের উচিত বল বক্সের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে দলকে বিপদ মুক্ত করা। কিন্তু জুভেন্টাসের ডিফেন্ডারদের কেউই প্রানপণে সেই চেষ্টা করেননি। উল্টো জটলার মধ্যে বল পেয়ে যান পোর্তোর ফরোয়ার্ডর উইলসন মানাফা। তিনি আলতো করে পাশ বাড়ান মুসা মারেগার দিকে। মুসা মারেগা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পোর্তোকে এগিয়ে দেন ২-০ গোলে।

২ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাঘের মতো গর্জে উঠা দূরের কথা, জুভেন্টাস যেন আরও ঝিমিয়ে পড়ে। রোনালদো, কুলুসেভস্কি, আলভারো মোরাতারা গোলের সুযোগই তেমন তৈরি করতে পারেনি। তবে তাদের ভাগ্য ভালো, পোর্তোও আর গোল করতে পারেনি। উল্টো খেলার ধারার বিপরীতে জুভেন্টাসই ৮২ মিনিটে চিয়েসার কল্যাণে পেয়ে যায় মহাদামী ওই অ্যাওয়ে গোলটি।

কাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ ছিল আরও একটি। স্পেনে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক সেভিয়া ও জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। যে ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে সেভিয়াকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ডর্টমুন্ড। প্রতিপক্ষের মাঠে গিয়ে শেষ ষোল’র প্রথম লেগে পাওয়া এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বলতে গেলে এক পা দিয়েই রাখল ডর্টমুন্ড। কারণ, মার্চে ফিরতি লেগটি তাদের ঘরের মাঠে। যে ম্যাচে তারা খেলতে নামবে, ৩-২ গোলের লিড এবং ৩টি মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোল নিয়ে। নিজেদের মাঠের ফিরতি লেগে যদি ১-০ বা ২-১ গোলেও হেরে যায় ডর্টমুন্ড, তারপরও শেষ আটের টিকিট পাবে তারাই!

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও