রোনালদোর ‘১৫’ নম্বরে সহজ জয় জুভেন্টাসের
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

রোনালদোর ‘১৫’ নম্বরে সহজ জয় জুভেন্টাসের

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২১

রোনালদোর ‘১৫’ নম্বরে সহজ জয় জুভেন্টাসের
৩-১ গোলের জয়টা এক অর্থে সহজই। তবে স্কোরকার্ড জুভেন্টাসের জয়টাকে যতটা সহজ বলছে, বাস্তবে ততটা সহজ ছিল না। বরং নিজেদের ঘরের মাঠে জুভেন্টাসকে ১০ জনের দল সাসসুয়োলোর বিপক্ষে কষ্ট করেই জিততে হয়েছে। ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্তও টেনশনে পুরতে হয়েছে জুভেন্টাসকে। শেষ দিকে দারুণ এক গোল করে জয়টা সহজ-এ রূপ দিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

নিজেদের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলতে থাকে জুভেন্টাস। কিন্তু জিততে হলে যে গোল দরকার, সেটাই পাচ্ছিল না তুরিনের ওল্ড লেডি’রা। প্রথমার্ধে তাই গোলশূন্যই কাটাতে হয় জুভদের। তবে গোলশূন্য থাকলেও জুভেন্টাস জয়ের দরজাটা খুলে ফেলে প্রথমার্ধের শেষ দিকেই! প্রথমার্ধের শেষ দিকেই যে ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্রতিপক্ষ সাসসুয়োলো।

প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কড়া ট্যাকল করে সরাসরি লালকার্ড পান সাসসুয়োলোর মিডফিল্ডার পেদ্রো অবিয়াং। ট্যাকলটা এতটাই বাজে ছিল যে রেফারি লালকার্ড দিতে এক মুহূর্ত ভাবেননি। ঘটনা ঘটে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে। ফলে সাসসুয়োলো পরিণত হয় ১০ জনের দলে। ম্যাচের বাকিটা সময় সাসসুয়োলোকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে!

পুঁচকে সাসসুয়োলোর সাধ্য কি, ১০ জন নিয়েও সমানতালে লড়াই করে দৈত্য জুভেন্টাসের জয় আটকে রাখে! সাসসুয়োলো তা পারেওনি। তবে হারার আগে হারেনি তারা। বরং নিজেদের উজাড় করে দিয়ে সফরকারী দলটি প্রমাণ করেছে, পেদ্রো অবিয়াং ওই লালকার্ড না পেলে ম্যাচে অন্য রকম কিছুই ঘটতে পারত।

প্রতিপক্ষের একজন কম খেলোয়াড়ের ফায়দা তুলেই ম্যাচের ৫০ মিনিটে প্রথম এগিয়ে যায় জুভেন্টাস। অ্যারন রামসের পাশ থেকে ২৫ গজ দূর থেকে বুল্টে গতির এক নিচু শটে গোলটা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা দানিলো। এই গোল খেয়েও সাসসুয়োলো ভেঙে পড়েনি। বরং ১০ জন নিয়েও বীরদর্পে গজে উঠে গোল পরিশোধের। ৫৮ মিনিটে গোল পরিশোধ করে ম্যাচে সমতায় ফেরেও তারা। অসাধারণ ফিনিশিংয়ের নজির গড়ে সাসসুয়োলোকে সমতায় ফেরান গ্রেগোইরে ডেফ্রেল।

এরপর ৮২ মিনিট পর্যন্ত জুভেন্টাসকে পুরতে হয়েছে আরও একবার পয়েন্ট হারানোর সম্ভাব্য শঙ্কায়। অবশেষে ৮২ মিনিটে সেই শঙ্কা দূর করেন অ্যারন রামসে। ইংলিশ তারকা জুভদের এগিয়ে দেন ২-১ গোলে। কিন্তু এক গোলের ব্যবধানের উপর আর কতই ভরসা করা যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে পেরিয়ে ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিট পর্যন্তও তাই জুভদের টেনশনে থাকতে হয়, সাসসুয়োলো গোলটা শোধ করে জয় কেড়ে নেবে না তো! ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেই টেনশন দূর করেন রোনালদো। দর্শনীয় ভলিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। যে গোলটা ইতালিয়ান সিরি আ’তে এ মৌসুমে তার ১৫তম গোল। যথারীতি সিরি আ’তে মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনিই।

দানিলো, রামসে, রোনালদো-জুভেন্টাসের জয়ের নায়ক তিনজন। তবে দানিলো-রোনালদোকে ছাপিয়ে বড় নায়ক রামসেই। ম্যাচের ১৯ মিনিটেই সতীর্থের চোটের সুবাদে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ইংলিশ তারকা নিজে একটা গোল করেছেন। দলের বাকি দুটি গোলেও রয়েছে তার অবদান। দানিলো ও রোনালদোকে গোল বানিয়ে দিয়েছেন তিনিই। ম্যাচ সেরার পুরষ্কারটিও তাই উঠেছে রামসের হাতেই।

এই জয়ের পরও সিরি আ’র পয়েন্ট তালিকার ৪ নম্বরেই রয়েছে জুভেন্টাস। তবে শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে তাদের পয়েন্টের ব্যবধান কমেছে। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের সঙ্গে এখন তাদের পয়েন্টের ব্যবধান ৭। জুভরা একটি ম্যাচও কম খেলেছে। ১৭ ম্যাচে শীর্ষে থাকা এসি মিলানের পয়েন্ট ৪০।

১৬ ম্যাচে জুভেন্টাসের পয়েন্ট ৩৩। জুভদের উপরে আছে আরও দুটি দল-ইন্টার মিলান ও এএস রোমা। ১৭ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে ইন্টার মিলান। সমান ম্যাচে এএস রোমার পয়েন্ট ৩৪।

উল্লেখ্য, গতকাল রাতে ইন্টার মিলান ও এএস রোমার মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়েছে ২-২ গোলে। মানে ড্র করে দুই দলই হারিয়েছে দুটি করে পয়েন্ট। নিজেদের ম্যাচ জিতে যার ফায়দা তুলেছে রোনালদোদের জুভেন্টাস।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও