রিয়ালকে জিততে দিল না ভিয়ারিয়াল
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রিয়ালকে জিততে দিল না ভিয়ারিয়াল

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

রিয়ালকে জিততে দিল না ভিয়ারিয়াল
চোট আর করোনা মিলে চেপে ধরেছে রিয়াল মাদ্রিদকে। দলের বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে ছিটকে ফেলেছে মাঠের বাইরে। কমিয়ে দিয়েছে দলের শক্তি। জিনেদিন জিদানের দলকে তারই খেসারত দিতে হলো গতকাল। ভিয়ারিয়ালের মাঠে গিয়ে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি রিয়াল। নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে।

চোট মাঠের বাইরে ছুঁড়ে ফেলেছে রক্ষণভাগের প্রধান সেনাপতি সার্জিও রামোসকে। ঠিক একই কারণে কাল স্কোয়াডে ছিলেন না আক্রমণভাগের প্রধান অস্ত্র করিম বেনজেমাও। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে তো করোনার সঙ্গেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তিন বিভাগের এই তিন সেরা তারকাকে ছাড়াই কাল খেলতে হয়েছে রিয়ালকে। রক্ষণ সেনানী অধিনায়ক রামোসের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পান নাচো। মাঝমাঠে কাসেমিরোর জায়গা নেন মার্টিন ওদেগার্ড। আক্রমণে বেনজেমার পরিবর্তে দীর্ঘ ৫৬১ দিন (এক বছর ৬ মাস ১৬ দিন) পর শুরুর একাদশে জায়গা পান মারিয়ানো দিয়াজ।

এরপরও ভিয়ারিয়ালের মাঠ এস্তাদিও ডি লা সেরামিকায় রিয়ালের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ম্যাচের বয়স এক মিনিট হতে না হতেই গোল পেয়ে যায় রিয়াল। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় পর শুরুর একাদশে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন মারিয়ানো দিয়াজ। ড্যানি কারবাহালের ক্রস থেকে অসাধারণ এক হেডে রিয়ালকে এগিয়ে দেন মারিয়ানো। কিন্তু রক্ষণ দুর্বলতার কারণে মারিয়ানোর এনে দেওয়া এই লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল।

সাদা চোখে ভিয়ারিয়ালের সমতাসূচক গোলের দায়টা রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোইসের। নিজেদের পেনাল্টি সীমানায় ভিয়ারিয়ালের ফরোয়ার্ড সামু চাকভুয়েজের সঙ্গে সংঘর্ষটা হেয় রিয়ালের এই বেলজিয়ান গোলরক্ষকেরই। বেশ, রেফারি সঙ্গে সঙ্গে বাঁজিয়ে দেন পেনাল্টির বাঁশি। যে পেনাল্টি থেকে গোল করে ভিয়ারিয়ালকে সমতায় ফেরান জেরার্ড মরেনো।

সংঘর্ষের দায়টা গোলরক্ষক কুর্তোইসের। কিন্তু মূল দায়টা আসলে রামোসবিহীন রিয়ালের দুর্বল রক্ষণের। ডিফেন্ডারদের দুর্বলতার কারণেই বারবার বল নিয়ে রিয়ালের বিপদ সীমানায় ঢুকে পড়েছে ভিয়ারিয়াল। ৭৬ মিনিটে ভিয়ারিয়ালের পেনাল্টি প্রাপ্তিও সে রকমই এক ঘটনা থেকে।

ডিফেন্ডারদের দুর্বলতার কারণেই বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন সামু চাকভুয়েজ। গোলরক্ষক থিবো কুর্তোইসকে বাধ্য হয়েই পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে এসে চাকভুয়েজকে প্রতিরোধ করতে হয়। আর সেটা করতে গিয়েই সংঘর্ষটা হয়!

রক্ষণ দুর্বলতা ম্যাচে বারবারই শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কোচ জিদানের জন্য। প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডেরা সহজেই ফাঁক-ফোকড় বের করে আক্রমণ সানিয়েছে। আর প্রতিপক্ষের সেই আক্রমণ রুখতে গিয়ে রিয়াল আক্রমণ গড়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কমই পেয়েছে। তবে আক্রমণ ক, করলেও গোল করার সুযোগ ঠিকই পেয়েছে মারিয়ানো, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, মার্কো এসেনসিও, এডেন হ্যাজার্ডরা। কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগগুলোকে তারা কাজে লাগাতে পারেননি। একইভাবে সমতা ফেরানোর পর স্বাগতিক ভিয়ারিয়ালও জয়সূচক গোলের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তারাও প্রাপ্ত সুযোগের একটিকেও কাজে লাগাতে পারেনি।

এই ড্রয়ের পরও অবশ্য গতকাল রাতে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে রিয়াল! দিনের অন্য ম্যাচে তাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা যে ১-০ গোলে হেরে গেছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে। রিয়ালের ড্র, বার্সেলোনার হার। যার ফল, পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল-বার্সার আরও দৈন্যদশা। কালকের ড্রয়ের পর ৯ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল রয়েছে ৪ নম্বরে। আর বার্সেলোনা? ৮ ম্যাচে মাত্র ১১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান ১০ নম্বরে। ৮ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১১ পয়েন্ট, মৌসুমের এই পর্যায়ে গত ২৫ বছরের মধ্যে এটাই বার্সেলোনার সবচেয়ে বাজে ফল!
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে যথারীতি রিয়াল সোসিয়েদাদ। ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট তাদের। কাল

বার্সেলোনাকে হারিয়ে দুই নম্বরে উঠে আসা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্টও ২০। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে তারা। অবশ্য অ্যাতলেতিকো একটি ম্যাচ কম খেলেছে সোসিয়েদাদের চেয়ে। মানে মাত্র ৮ ম্যাচেই অ্যাতলেতিকোর পয়েন্ট ২০।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও