এমবাপের জোড়া গোলের পরও হারল পিএসজি
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এমবাপের জোড়া গোলের পরও হারল পিএসজি

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

এমবাপের জোড়া গোলের পরও হারল পিএসজি
এক এক করে দুই গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ৩৭ মিনিটের মধ্যেই দল পিএসজিকে এগিয়ে দিলেন ২-০ গোলে। ফরাসি বিস্ময়বালকের উদযাপনটা হতে পারত বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো। কিন্তু কি বিস্ময়, দুই গোল করলেও এমবাপে একবারও উল্লেখ করার মতো কোনো রকম উদযাপনই করলেন না! ভেতরের আবেগ-উচ্ছ্বাসকে চাপা রেখে সতীর্থদের সঙ্গে শুধু হাই-ফাইভ করেই সন্তুষ্ট রাখলেন এমবাপে! সতীর্থদের সঙ্গে হাই-ফাইভটাও পিএসজি তারকা করলেন বেশ নিরীহ দর্শনে। যেন তেমন কিছুই করেননি তিনি।
জোড়া গোল করেও এমবাপের এমন নির্লিপ্ত থাকার কারণ, গতকাল রাতে পিএসজি তারকা গোল দুটো যে করেছেন তারই সাবেক ক্লাব মোনাকোর বিপক্ষে। যে মোনাকোর সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক। মোনাকোতেই তার তারকা এমবাপে হয়ে উঠা। মোনাকো তার ‘আপন ঘর’। সেই আপন ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসা যায়! তাই সাবেক ক্লাবের সম্মানার্থে মাঠে নিজেকে নির্লিপ্ত রাখেন তিনি। হয়তো পরিকল্পনা ছিল, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে গিয়ে মজিয়ে দলের জয় উদযাপন করবেন। কিন্তু এমবাপের সেই আশার গুঁড়ে বালি ছিটিয়ে দিয়েছে তার সাবেক ক্লাব।
জয় দূরে থাক, এমবাপের পিএসজি কাল ড্র করার স্বস্তিও পায়নি। প্রথমার্ধে ২ গোলে এগিয়ে থাকার পরও হেরে গেছে ২-৩ গোলে।
 
 হ্যাঁ, সাবেক খেলোয়াড় এমবাপের উদযাপন পার্টি মাটি করে দিতে কাল অসাধারণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে মোনাকো। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও মোনাকো মাঠ ছেড়েছে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে।
মোনাকোর এই রোমাঞ্চকর জয়ের নায়ক সেই সেস ফ্যাব্রিগাস। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই যার নামের পাশে পড়ে গেছে ‘বুড়ো’ তকমা। যে তকমার ভারে ফ্যাব্রিগাস এক রকম হারিয়েই গেছেন। তিনি যে এখনো ফুটবল খেলেন, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সেটা জানানই দিতে পারেন না! অবশেষে দীর্ঘদিন পর নিজের অস্তিত্বের জানান দিলেন বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার।
না, হারিয়ে যাওয়া ফ্যাব্রিগাস নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে কাল হ্যাটট্রিক জাতীয় কিছু করে বসেননি। গোল করেছেন মাত্র একটি। সেটাও পেনাল্টি থেকে।
 
 তারপরও ম্যাচের দুই জোড়া গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপে এবং কেভিন ভোল্যান্ডকে ছাপিয়ে তিনিই নায়ক। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সের সুবাদেই ২-০তে পিছিয়ে পড়েও মোনাকো শেষ পর্যন্ত মাঠ ছেড়েছে জয় নিয়ে। দলকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেওয়া ম্যাচে এমবাপে-ভোল্যান্ডতে পেছনে ফেলে ম্যাচসেরার পুরষ্কারটিও পেয়েছেন তিনিই।
 
কাল মোনাকোর ঘরের মাঠ স্ট্যাডে ডি লুইসে ম্যাচের প্রথমার্ধটা ছিল পিএসজির। সফরকারী পিএসজি ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক মোনাকোর উপর চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে। বিশেষ করে এমবাপে হয়ে উঠেন অপ্রতিরোধ্য। নিজেদের এই ঘরের ছেলেকে আটকানোর কোনো সূত্রই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না মোনাকো। এর ফায়দা লুটে এমবাপে পিএসজিকে এগিয়েও দেন ২-০ ব্যবধানে। ফরাসি বিস্ময়বালক ২৫ মিনিটে করেন নিজের প্রথম গোল। এরপর ৩৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ২-০ ব্যবধানে। 
 
স্ট্যাডে ডি লুইসে তখন একটাই ভাবনা, নিজেদের ঘরের মাঠে বিধ্বস্তই হতে যাচ্ছেন মোনাকো! এই শঙ্কা মাথায় নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দলে দুটি পরিবর্তন আনেন মোনাকো কোচ। বদলি হিসেবে এক সঙ্গে মাঠে নামিয়ে দেন বুড়ো ফ্যাব্রিগাস ও কাইও হেনরিককে। এতেই পুরোপুরি পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্রপট। প্রথমার্ধে রাজত্ব করা পিএসজির উপর ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়ে মোনাকো। ফ্যাব্রিগাসে উজ্জীবিত হয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ জুড়েই মোনাকোর রাজত্ব চলে। প্রথমার্ধের রাজা পিএসজি হয়ে যায় মিউমিউ করা প্রজা!
 
মোনাকো অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ফলও পায় দ্রুতই। ম্যাচের ৫২ মিনিটে মোনাকোর হয়ে প্রথম গোলটি করেন কেভিন ভোল্যান্ড। ব্যবধান ২-১ করার পর মোনাকো আরও বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে উঠে। প্রতিপক্ষের জোয়ারে ভাটা ফেলার আশায় ৬০ মিনিটে নেইমারকে মাঠে নামিয়ে দেন পিএসজি কোচ টমাস টাচেল। কিন্তু দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে ফেরা নেইমারও দলকে রক্ষা করতে পারেননি। উল্টো ৬৫ মিনিটে নেইমার-এমবাপেদের পিএসজিই হজম করে বসে আরও একটি গোল। সেই কেভিন ভোল্যান্ডই ২-২ সমতায় ফেরান মোনাকোকে। দুই দলের লড়াইটা তখন আরও বেশি জমে উঠে। ভর করে টানটান উত্তেজনা। সেই গনগনে উত্তেজনাকে খানিকটা হালকা করে ৮৪ মিনিটে মোনাকোকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেন সেস ফ্যাব্রিগাস।
 
স্পেনের সাবেক তারকা মৌসুমে নিজের প্রথম গোলটা করেন পেনাল্টি থেকে।
চাইলে মোনাকো কোচ পেনাল্টি শটটা কেভিন ভোল্যান্ডকেই নিতে দিতে পারতেন।আগেই জোড়া গোল করায় হ্যাটট্রিক আশায় পেনাল্টি শটটা ভোল্যান্ডের পাওনাও ছিল! কিন্তু দলের জয়ের কথা ভেবে মোনাকো কোচ সেই ঝুঁকিটা নেননি।
 
 বরং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী পেনাল্টি শটটা অভিজ্ঞ ফ্যাব্রিগাসকেই নেওয়ার অধিকার দেন তিনি। বার্সেলোনার সাবেক তারকা কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন পেনাল্টি থেকে দলের জয়সূচক গোলটি করে।
এর আগে কেভিন ভোল্যান্ডের করা দলের প্রথম দুটি গোলেও অবদান ছিল ফ্যাব্রিগাসের। ওই দুটো গোলেরই মূল উৎস ছিলেন ফ্যাব্রিগাস। দুই জোড়া গোলদাতা এমবাপে-ভোল্যান্ডকে ছাপিয়ে তাই ম্যাচ সেরাও তিনিই।
ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে পিএসজির এই হারটা টানা ৮ জয়ের পর। লিগে মৌসুমের প্রথম দুই ম্যাচেই হার মানে পিএসজি। এরপর টানা ৮ ম্যাচে জেতার পর কাল আবার পেতে হলো হারের স্বাদ।সেটাও ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর। পিএসজি শিবিরের হতাশাটা স্পষ্টই। তবে এই হারের পরও ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে একভাবেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে পিএসজি।
 
অন্য দিকে রোমাঞ্চকর এই জয়ে মোনাকো উঠে এসেছে দুই নম্বরে। ১১ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট তাদের। ১০ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে লিল। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরে অলিম্পিক মার্শেই।তবে মার্শেইয়ের এই ১৮ পয়েন্ট ৯ ম্যাচ খেলে। মানে শীর্ষে থাকা পিএসজির চেয়ে দুটি ম্যাচ কম খেলেছে তারা। সেই দুটি ম্যাচে জিতলে মার্শেইয়ের পয়েন্টও হবে পিএসজির সমান ২৪।
 
 
কেআর
 

আরও পড়ুন

আরও