সব মিথ্যে, আমি নিয়ম ভাঙিনি : রোনালদো
Back to Top

ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১৬ কার্তিক ১৪২৭

সব মিথ্যে, আমি নিয়ম ভাঙিনি : রোনালদো

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

সব মিথ্যে, আমি নিয়ম ভাঙিনি : রোনালদো
হতে পারেন তিনি একজন মন্ত্রী। তাই বলে তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ করবেন, আর ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো তা নিরবে মেনে নেবেন, তা কী হয়! মেনে নিলেনও না রোনালদো।

জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার বরং ইতালিয়ান ক্রীড়া মন্ত্রী ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরার অভিযোগকে মিথ্যা আখ্যায়িত করলেন। বললেন, তার ইতালিতে ফেরার বিষয় নিয়ম ভঙ্গের যে অভিযোগ উঠেছে, সবই মিথ্যে। তিনি করোনার যথাযথ নিয়ম মেনেই দেশ পর্তুগাল থেকে ইতালির তুরিনোতে ফিরেছেন।

রোনালদো ইতালিয়ান ক্রীড়া মন্ত্রীর অভিযোগের জবাবটা দিয়েছেন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে দেওয়া পোস্টে এক পোল্টে তিনি সরাসরিই ইতালির ক্রীড়া মন্ত্রীকে মিথ্যাবাদী’র কাঠগড়ায় তুলেছেন। রোনালদো স্পষ্ট করেই লিখেছেন, ‘সব মিথ্যে। আমি করোনার নিয়ম ভাঙিনি।’

পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ খেলতে গিয়ে করোনা পরীক্ষায় ইতিবাচক প্রমাণিত হোন রোনালদো। পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। করোনা পজিটিভি প্রমাণিত হওয়ার পরই তাকে পর্তুগাল জাতীয় দলের অনুশীলন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বুধবার সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলেনওনি তিনি।

করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ার পর শোনা গিয়েছিল, রোনালদো নিজের দেশ পর্তুগালেই কোয়ারিন্টিনে গেছেন। ১৪ দিন সেখানেই আইসোলেশনে থাকবেন। কিন্তু রোনালদো তা থাকেননি। বরং দ্রুতই তিনি পর্তুগাল থেকে ইতালিতে ফিরেছেন। সেখানে সরাসরি উঠেছেন তুরিনোতে নিজের বাসায়।

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর রোনালদোর এভাবে ইতালিতে ফেরাটা ভালো লাগেনি ক্রীড়া মন্ত্রী ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরার। তিনি মনে করেন, করোনা আক্রান্ত হলে যেসব নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়, রোনালদো সম্ভবত তা ভেঙেছেন। রোনালদো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিতে ফিরেছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরার মনে। তার দাবি, রোনালদোর ইতালিতে ফেরার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। রোনালদো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কিনা, সেটাও নাকি জানেন না ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরা।

ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরার এই অভিযোগের জবাব অবশ্য রোনালদোর ক্লাব জুভেন্টাস আগেই দিয়েছে। জুভেন্টাস স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিন ভেঙে ব্যক্তিগত বিমানে ইতালিতে ফেরার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন রোনালদো। এক বিবৃতিতে জুভেন্টাস জানায়, ‘সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়েই মেডিকেল ফ্লাইটে ইতালিতে ফিরেছেন ক্রিস্তিয়ানো।’ অন্যদিকে ভিনচেঞ্জো স্পাদাফোরা ‘রাই রেডিও’কে বলেন, ‘আমি জানি না সে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছে কিনা। তবে অনুমতি না থাকলে, আমার মতে সে নিয়ম ভেঙেছে।’

কিন্তু রোনালদো তার এই অভিযোগকে স্পষ্টভাবেই মিথ্যার মোড়কে মুড়িয়ে দিলেন। লিখেছেন, ‘আমি কোনো রকম নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করিনি। তারা বলছে, আমি আইন ভেঙেছি। কিন্তু এটা পুরোপুরি মিথ্যে। আমি আমার ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছি। সবকিছু সঠিকভাবে কারাটা আমাদের দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্বটা বুঝি। সবকিছুই কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন সাপেক্ষে হয়েছে। আমি তার নাম বলব না, তবে ইতালিয়ান লোকটি যা বলছে, সবই মিথ্যে। আমি সব সময়ই সব প্রোটোকল মেনে চলি।’

নিজেকে দায়িত্ববান প্রমাণ করতে গিয়ে রোনালদো আরও লিখেছেন, ‘আমি এক তলায় থাকি, আর আমার সন্তানের অন্য তলায় থাকে। সামনের ১০টা দিন এভাবেই চলবে। ওদের সঙ্গে কথা না বলে থাকাটা কঠিন। কিন্তু নিয়মকে সম্মান করতেই হবে।’

তা রোনালদো দেশ পর্তুগাল ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে ইতালিতে ফিরে গেলেন কেন? কারণটা যুক্তি সংগতই। এবং তার সঙ্গে ক্লাব জুভেন্টাসের বড় একটা স্বার্থ জড়িত। পর্তুগালের নিয়ম অনুযায়ী তাকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতো ১৪ দিন। কিন্তু ইতালিতে কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়মটা এখন ১০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। মানে ইতালিতে ফেরায় রোনালদো ৪ দিন আগেই আইসোলেশন থেকে বেরোতে পারবেন। এতে ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে মাঠে নামার দরজাটাও তার ৪ দিন আগে খুলে যাবে।

১০ দিন আইসোলেশনে থাকা অবস্থাতেই জুভেন্টাসের দুটি ম্যাচ মিস করতে হবে তাকে। কিন্তু ২৮ অক্টোবর বিশ্বসেরা বার্সেলোনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জুভেন্টাসের। তাই জুভেন্টাস কোচ খুব করে চাইছেন, রোনালদো যেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওই ম্যাচটা খেলতে পারেন। কিন্তু সেজন্য রোনালদোকে ২১ অক্টোবরের আগেই আইসোলেশন থেকে বেরোতে হবে। কারণ, ম্যাচটি খেলতে হলে রোনালদোকে অন্তত ৭ দিনে আগে কোভিড-১৯ পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ার রিপোর্ট উয়েফার কাছে পাঠাতে হবে।

এটা মাথায় রেখেই ক্লাব জুভেন্টাসের সঙ্গে পরামর্শ করে ইতালিতে ফিরেছেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।

কেআর

 

আরও পড়ুন

আরও