শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০২০

শীতে যেসব রোগের প্রকোপ বাড়ে
শীত মৌসুমে নানা বয়সের মানুষের নানা রোগে আক্রান্ত বা নানা রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই শীত মৌসুমে আমাদের সকলকেই আরামদায়ক জীবন যাপনের জন্য একটু বেশি সতর্ক ও সচেতনা হতে হয়। তবে মনে রাখবেন সতর্কতা ও সচেতনতা অনেক রোগের আক্রমণ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।

শীত মৌসুমে আমাদের যেসব রোগের প্রকোপ বেড়ে যায় এগুলো হলো: সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, চর্মরোগ ও বাত ব্যথা রোগ।

ঋতু পরিবর্তনের শুরুতে প্রায় সব লোকই কম বেশি সর্দি কাশিতে ভোগে থাকেন। তার সাথে যুক্ত থাকে জ্বর। নাক দিয়ে বারবার পানি ঝরতে থাকে এবং হাঁচি হয়। মাঝে মধ্যে মাথা ব্যথা, শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা এগুলো সাধারণ রোগ। ইনফ্লুয়েঞ্জার মাধ্যমে এ রোগগুলো হয়। তাছাড়া ভাইরাস জনিত কারণেও এধরনের রোগ দেখা দিতে পারে। সাধারণত যাদের শরীরে এন্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারাই এরোগে বেশি ভোগে।

সর্দি কাশি আক্রান্ত হলে অন্যদের সাথে বিশেষ করে শিশুদের সাথে মেলামেশা উঠা বসা খুব সতর্কতার সাথে করতে হবে। কারণ হাঁচি কাশির মাধ্যমে শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

. হাঁচি দেবার সময় নাকে মুখে রুমাল অথবা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে।
. যেখানে সেখানে থুথু বা নাকের পানি বা শ্লেষা ফেলা যাবে না।

. নিজের ব্যবহৃত রুমাল, গামছা বা কাপড় অন্যকে বা শিশুদের ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

. তরতাজা পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

.শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে। বাসি বা ঠান্ডা খাবার পরিহার করতে হবে।

. হালকা গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। দারচিনি, লেবু, এলাচ দিয়ে লাল চা পান করতে পারেন।

. বেশি ঠাণ্ডা লাগলে কান ঢাকা গরম টুপি বা গলায় মাফলার ব্যবহার করতে পারেন। বাহিরে বা রাস্তায় চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

হাঁপানি বা এজমা শ্বাসকষ্ঠের রোগ। এ রোগটি শুধু শীতকালের নয় সারা বছরের। তবে শীতের মৌসুমে তা বেড়ে যায়। তাই তীব্র শীত আসার আগেই সতর্কতা ও সচেতনতা খুবই প্রয়োজন। এতে এ রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কষ্টের পরিমাণও কমে আসে।

যেসব খাবার খেলে এলার্জি হয় যেমন: চিংড়ি, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ ইত্যাদি, বায়ুর সাথে ধোয়া, ধুলাবালি, ফুলের রেণু ইত্যাদি শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে। বংশগত কারণেও হাঁপানি হতে পারে। শিশুদের সর্দি কাশি থেকেও হাঁপানির সৃষ্টি হতে পারে।

লক্ষণ: হঠাৎ শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায়। শ্বাস কষ্টে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। ঠোঁট নীল হয়ে যায় ও গলার শিরা ফুলে যায়। রোগী জোরে জোরে শ্বাস নেয়। বুকের ভিতর সাঁই সাঁই শব্দ হয়। কাশির সাথে সাদা কফ বের হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় রোগীর পাঁজরের মাঝে চামড়া ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। রাতের বেলায় রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বলে বিছানা ছেড়ে বসে থাকে।

করণী: যেসব খাবারে শ্বাস কষ্ট বেড়ে যায় তা পরিহার করতে হবে। শরীরে ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব সংস্পর্শে হাঁপানি বেড়ে যায় তা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেমন: পশুর লোম, কৃত্রিম আঁশ। ধূমপান, গুল, সাদা পাতা, জর্দার ব্যবহার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হবে এবং ইনহেলার সবসময় সাথে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে। শ্বাস কষ্টের সময় তরল খাবার খেতে হবে। ধুলাবালি হতে দূরে থাকতে হবে।

নিউমোনিয়া: নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। পৃথিবী ব্যাপি ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো নিউমোনিয়া। আমাদের বাংলাদেশেও শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। অভিভাবকদের সতর্কতা ও সচেতনতার ফলে এ রোগ থেকে অনেকাংশে বেঁচে থাকা যায়। এ রোগ প্রতিরোধ যোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় যোগ্য।

কারণ: নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। তাছাড়া আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে।

লক্ষণ: ফুসফুসে শ্লেষা জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। কাশি এবং শ্বাস কষ্ট হয়। বেশি জ্বর হয়। বেশি আক্রান্ত হলে বুকের মধ্যে গড় গড় শব্দ হয়। মারাত্মক শ্বাস কষ্ট হয় এবং শ্বাস গ্রহণের কষ্টে শিশুরা ছটফট করে।

করণীয়: ঠাণ্ডা লাগানো যাবে না। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে।

. ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করানো যাবে না। সহনীয় গরম পানিতে গোসল দিতে হবে।

. সর্দি কাশি হাঁচিতে আক্রান্ত শিশু বা লোকদের নিকট শিশুকে নেওয়া যাবে না। হাঁচির মাধ্যমে নানা রোগ ছড়াতে পারে।

. শিশুদের নিকট বড়রা হাঁচি কাশিতে আক্রান্ত হলে হাঁচি দেওয়ার সময় অবশ্যই রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে হবে।

. ধুলাবালি, চুলার ধোঁয়া, মশার কয়েল ও সিগারেটের ধোঁয়া থেকে অবশ্যই শিশুদের দূরে রাখতে হবে। . তরল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।

. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু ঘুমাবার সময় নিচে যদি কোনো প্রকার কাপড় থাকে তা প্রস্রাব করে ভিজিয়ে ফেলে। তাই এটা সাথে সাথে সরিয়ে নিতে হবে বা পাল্টাতে হবে। অধিক সময় শিশুর নিচে ভেজা কাপড় থাকলে ঠাণ্ডা লেগে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ওএস/ইসি

 

আরও পড়ুন

আরও