তিন বছরেও চালু হয়নি গোপালপুর-মইনুট ফেরি সার্ভিস (ভিডিও)
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

তিন বছরেও চালু হয়নি গোপালপুর-মইনুট ফেরি সার্ভিস (ভিডিও)

তরিকুল ইসলাম হিমেল ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৯, ২০১৮

ফরিদপুরের পদ্মা নদীর গোপালপুর-চরমইনুট রুট দিয়ে জেলার তিন উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত করে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, আনা হয় ২টি ইউটিলিটি ফেরি। কিন্তু ফেরি আসার দুই বছর পেরিয়ে গেরেও এখনো চালু হয়নি। এতে এই অঞ্চলের মানুষ চরম হতাশা হয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা এবং ফরিদপুর সদরের কিছু অংশ, এই অঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করেন পদ্মা নদীর গোপালপুর-চরমইনুট ঘাট দিয়ে। পার হওয়ার মাধ্যম ট্রলার ও স্পিডবোট। ভাড়া বেশী, রয়েছে জীবনেরও ঝুকি। এরপরে সন্ধ্যার পরে আর ট্রলার কিংবা বোট কোনটাই চলে না।

এসব কারণে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে এই রুটে ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক আনা হয় নারায়নগঞ্জ ডক ইয়ার্ডে নির্মিত দুইটি ইউটিলিটি ফেরি ও পল্টুন। সময় মতো ফেরি এলেও তা এখন অলস পড়ে আছে। এতে ফেরিটির মূল্যাবান যন্ত্রাংশ নষ্ট ও চুরি হচ্ছে হয়ে যাচ্ছে। কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের দাবী ফেরি সার্ভিস চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক সংস্কারসহ প্রায় সকল কাজই শেষ। কিন্তু ঘাট নির্মাণ না হওয়ায় ফেরি সার্ভিস চালু করা যাচ্ছে না। সূত্রটি জানিয়েছে, ঘাট নির্মাণে দরকার প্রায় দুই কোটি টাকা, যা বরাদ্দ না পাওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না ফেরি ঘাটটি।

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী আবদুস সবুর কাজল পরিবর্তন ডট কমকে জানান, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল এই রুটে ফেরি চালু করার। স্থানীয় সংসদ ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টায় সেই ফেরি চালুর সিদ্ধান্তও নেয় সরকার। একটা সময় ঘাটে ফেরিও আসে। আমরা কতটা আনন্দিত হয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না, আমরা ভেবেছিলাম এই বুঝি আমাদের চাওয়ার অবষান ঘটলো। কিন্তু না, অপেক্ষা করতে করতে দুই বছর পার হয়ে গেল, ফেরি চালু হওয়ার নামই নেই। ফেরি চলে আসার পরেও চালু হচ্ছে না কেন ? কারণ টা তার? কার গাফলতিতেই সরকারি এই সম্পত্বি নষ্ট হচ্ছে ?

সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল জানান, ঢাকার গুলিস্থান থেকে পদ্মা নদীর গোপালপুর-চরমইনুট রুটের ফেরি হয়ে ফরিদপুরের মুন্সিবাজার পর্যন্ত একটি রুট হওয়ার কথা। এই রুটটি মুন্সিবাজারে গিয়ে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের সাথে সংযোগ হবে। সেই অনুযায়ী রাস্তা ও ব্রিজ সংস্কার এবং নির্মাণ শেষ হয়েছে বেশ আগেই। ফেরি ও চলে এসেছে, কিন্তু ফেরি ঘাট নির্মান করা হয়নি এখনো। শুনেছি কিছু ঝামেলা রয়েছে, আমরা সে সব জানি না, আমরা চাই দ্রুত আমাদের এই রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হোক।

ঘাটেই কথা হয় মালেয়শিয়া প্রবাসী ফারুক মোল্যার সাথে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬ টার পরে যদি আমাদের কোন রোগী গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলেও এদিক দিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারন ৬ টার পরে ট্রলার ও বোট সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া আমার প্রবাসীরা বিকেলে বা রাতে বিমানবন্দরে নামলে হয় অপেক্ষা করতে হয় ভোর পর্যন্ত আর না হয় পাটুরিয়া কিংবা কাঠালবাড়ি ঘাট হয়ে যেতে হয়। তাতে আমাদের অনেক সময় ও দ্বিগুন টাকা খরচ হয়।

চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ৩ টা উপজেলাই কৃষি প্রধান। পিয়াজ, রসুন, বাদামসহ দেশের সব্জি চাহিদার একটা বড় অংশেরর যোগান দেয় এই অঞ্চল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা এসে এসম সব্জি ট্রাক ভরে নিয়ে যায়। কৃষক ন্যায্য মূল্য পায় না, কারন সে চাইলেও এই পন্য ঢাকা বা অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করতে পারবে না। যদি এই ফেরি টা চালু থাকতো তাহলে সব থেকে বেশী উপকার হইতো এই অঞ্চলের কৃষকদের। তখন তারা চাইলেই সকালে ঢাকা গিয়ে পন্য বিক্রি করে দুপুরের মধ্যেই আবার ফিরে আসতে পারতো। তাই আমাদের প্রানের দাবী এখন, দ্রুত এই ফেরি চালু করে দেয়া হোক।

এই সব বিষয় নিয়ে পরিবর্তন ডট কমের সাথে কথা বলেন ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে। তিনিও জানালেন, ফেরি ও চলে এসেছে, রাস্তা ব্রিজও নির্মান শেষ করা হয়েছে।


তাহলে ফেরি ঘাট চালু হচ্ছে না কেন ? এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান ঘাটটি চালু করতে এখনো ২ কোটি টাকার প্রয়োজন। যা বরাদ্ধ পেলে অবকাঠামো নির্মান শেষেই ঘাট চালু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফেরি র কোন ক্ষতি হচ্ছে না, নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে’। ফরিদপুরের বিরাট একটা জনগোষ্টি এই ঘাট ব্যাবহার করে জানিয়ে এই কর্মকর্তাও বললেন এই রুটের ফেরি ঘাটটি চালু হলে এই অঞ্চলের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

টিআইএইচ/এএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও