সেই পাগলী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

সেই পাগলী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে

শিব শংকর রবিদাস, শিবচর (মাদারীপুর) ১:১২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

সেই পাগলী ও সন্তানের দায়িত্ব নেবে কে

মা মানসিক ভারসাম্যহীন। কোনো ঠিকানা নেই তার। রাতদিন কাটে রাস্তাঘাটে-মাঠে। আর বাবা কে? এ প্রশ্নের উত্তর কারও জানা নেই! এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের শিবচরের একটি মাঠে জন্ম নেয় হতভাগ্য জান্নাতুল হাবিবা হুমাইরা। বর্তমানে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই তাদের ঠিকানা। চিকিৎসকরা বলছেন, নবজাতক সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু পাগলী মায়ের কাছে হুমাইরার লালন-পালন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইভাবে পাগলীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নটাও সামনে এসেছে।

এলাকাবাসী জানান, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিক শিবচরের হাতির বাগান এলাকার বালুর মাঠের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন জাহিদ হাসান অমি, শাহরিয়ার হাসান সাগর, ইব্রাহিম, রবিন। এ সময় পাগলীর প্রসব ব্যথার চিৎকার ও শিশুর কান্না শুনে সেদিকে এগিয়ে যান তারা। মোবাইল ফোনের আলোয় বালুর মধ্যে জন্ম নেওয়া নবজাতক ও পাগলীটাকে দেখেন তারা। এ অবস্থায় পাশের বাড়ির মহিলাদের ডেকে আনেন। তারা এসে শিশুটিকে পরিষ্কার করেন। এরপর মা ও নবজাতককে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ হাসান অমি খোলা কাগজকে বলেন, মানবিক কারণেই প্রতিনিয়ত ওদের খোঁজখবর নিচ্ছি। অনেকেই আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। আমরা চাই প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে শিশুটির সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ব্যবস্থা করুক।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু জাফর খোলা কাগজকে বলেন, আমরা যত্ন সহকারে পাগলী ও তার শিশুর চিকিৎসা করছি। বর্তমানে দুজনেই সুস্থ রয়েছে। খুব শিগগিরই ওদের রিলিজ দেওয়া হবে। তবে মা যেহেতু মানসিক ভারসাম্যহীন, তাই তার পক্ষে শিশুটিকে লালন-পালন করা সম্ভব নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কথা বলে সেইফ হোমে শিশুটিকে রাখার চেষ্টা করছি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খোলা কাগজকে বলেন, শিশুটিকে যদি কেউ দত্তক নিতে চায় তাহলে অবশ্যই তাকে আদালত থেকে অর্ডার নিয়ে আসতে হবে। শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার মধ্যে কেউ দত্তক না নিলে তাকে ঢাকার আজিমপুরের শিশুনিবাসে পাঠিয়ে দেব।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ খোলা কাগজকে বলেন, শিশু ও তার মা বর্তমানে আমাদের হেফাজতে হাসপাতালে রয়েছে। মানসিক ভারসাম্যহীন নারী নিজের নাম (সালমা) ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছে না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটির দায়িত্ব হস্তান্তর করব।

কেকে/এএস

 

: আরও পড়ুন

আরও