মিয়ানমারকে গণহত্যা থামাতে আইসিজে’র নির্দেশ
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মিয়ানমারকে গণহত্যা থামাতে আইসিজে’র নির্দেশ

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

মিয়ানমারকে গণহত্যা থামাতে আইসিজে’র নির্দেশ

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় মিয়ানমার সরকারকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘের বিচার আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস, আইসিজে৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের খবরে বলা হয়, একই সঙ্গে সরকার নিয়ন্ত্রিত সব বাহিনী ও গোষ্ঠীগুলো যেন রাখাইনে কোনো ধরনের গণহত্যার ষড়যন্ত্র করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷

কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে আগামী চার মাসের মধ্যে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত৷

রাখাইনে এখন যে রোহিঙ্গারা আছেন, তাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য মিয়ানমারকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালত (আইসিজে)।

ছবি: আবু সুফিয়ান

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কিংবা অন্য যেকোনো নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেন কোনো গণহত্যায় না জড়ায়, উষ্কানি না দেয়, কিংবা নির্যাতনের চেষ্টা না করে সেজন্য ব্যবস্থা নিতেও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা দায়ের করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানি চলে। ১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দল আদালতে গণহত্যার বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে।

শুনানিতে গাম্বিয়ার পক্ষে মামলার প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু।

পরদিন ১১ ডিসেম্বর মিয়ানমারের নেতৃত্ব দেন মিয়ানমারের সরকার প্রধান অং সান সু চি। সেখানে তিনি তার দেশের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

ছবি: আবু সুফিয়ান

১২ই ডিসেম্বর মামলার শুনানি শেষ হয়।

দ্য হেগ শহরে এই শুনানিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। ওই দলে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তিনজন প্রতিনিধিও ছিলেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রশ্নে আবু বকর তাম্বাদু বিবিসিকে বলছেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক বাসিন্দারা সংগঠিত হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে, মায়ের কোল থেকে শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে জ্বলন্ত আগুনে ছুঁড়ে মারছে, পুরুষদের ধরে ধরে মেরে ফেলছে, মেয়েদের ধর্ষণ করছে এবং সবরকমের যৌন নির্যাতন করছে।”

ছবি: আবু সুফিয়ান

একে ১৯৯৪ সালে রোয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে তুলনা দিয়ে তিনি বলেন, “রোয়ান্ডায় টুটসিদের ওপর যেরকম অপরাধ করা হয়েছিল, এটা সেরকমই মনে হচ্ছিল। এখানে সেই একই রকম গণহত্যার সব বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য এটা মিয়ানমারের সরকারের একটা চেষ্টা।”

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার কাউকে ফেরত নেয়নি।

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মামলা করার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হচ্ছে, সে ব্যাপারে বিশ্বব্যাপীকে কিছু করার জন্য তাগিদ দেয়া।

এমএফ/এএসটি

আরও পড়ুন...
মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধে ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিলো আইসিজে
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি যুক্তিযুক্ত: আইসিজে

 

: আরও পড়ুন

আরও