ট্রাম্প টাওয়ারের দিনগুলি...
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

ট্রাম্প টাওয়ারের দিনগুলি...

আশিকুল ইসলাম ১০:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

ট্রাম্প টাওয়ারের দিনগুলি...
মহামারী COVID19 এর পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে Coronavirus Aid, Relief and Economic Security Act (CARES Act) পাশ হয়। এর আওতায় সকল ইনকাম ট্যাক্সদানকারী আমেরিকানদের ইকনোমিক ইম্প্যাক্ট পেমেন্ট দেওয়া হয়। এই বার্তাটি একটি চিঠির মাধ্যমে সকল ইনকাম ট্যাক্সদানকারী আমেরিকানদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

আর এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিটি দেখে আমার অতীতের কিছু কথা মনে পড়ে যায়, এই একই স্বাক্ষর মিডিয়ায় বারবার দেখেছি- যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিলে স্বাক্ষর করেছেন!

বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে যখন নিউইর্য়কে আসি, তখন HDS Retail/Eastern Newsstand Corporation এর মালিকানাধীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন ট্রাম্প টাওয়ারে একটি রিটেল স্টোরে সেলস অ্যাসোসিয়েট হিসেবে চাকরি শুরু করি। বিভিন্ন গিফট আইটেম এর পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকা ম্যাগাজিন বিক্রি করতাম। আমি চাকরিতে যোগ দেয়ার আগেই স্টোর ম্যানেজার বরখাস্ত হয়ে গিয়েছিল৷

মনে আছে, আমি কোম্পানির হেড অফিস থেকে আসা মাসিক পেপার ওয়ার্কগুলো করতাম। কোন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন ফেরত দেওয়া হলে ক্রেডিট নেওয়ার জন্য পত্রিকা বা ম্যাগাজিন কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতাম। ম্যানহাটনের আমাদের কোম্পানির অন্যান্য স্টোরের তুলনায় আমারটিকে লাভজনক স্টোরে পরিণত করেছিলাম। স্টোরে তখনকার সময় ট্রাম্প কর্পোরেশনের মালিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হাউস একাউন্ট ছিল। বাংলাদেশের যাকে বাকির খাতা বলা হয়। প্রতিদিন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সহকারী একগাদা পত্রিকা ও ম্যাগাজিন নিয়ে যেত, সেগুলো আমি রেজিস্টারে (POS) স্ক্যান করে তাকে দিতাম। কয়েক সপ্তাহ পরে মোট বাকি টাকার ইনভয়েস তৈরি করে ট্রাম্পের পিএসকে দিতাম। বিপরীতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ট্রাম্প কর্পোরেশনের চেক পেতাম। পরবর্তীতে আমার কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতাম। স্টোরটিতে ট্রাম্পের লিখিত বইগুলো রাখা হতো প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য। মাঝে মাঝে সেগুলো পড়ে দেখতাম, সব সময় তাকে দেখতাম- নিচের লবিতে বিভিন্ন প্রোগ্রাম এ বক্তব্য রাখতে, নিউজ কনফারেন্স করতে, অনেকেই তার সাথে ছবি তুলত।

একদিন ট্রাম্প নিজেই এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন - How's business? আমি উত্তর দিলাম - Good! তিনি স্টোর থেকে তার জন্য কয়েকটি পত্রিকা নিয়ে গেলেন। আমি পত্রিকাগুলো স্ক্যান করে তাকে দিই। মনে আছে- আরেকদিন ট্রাম্পের স্ত্রী মেলিন্ডা ট্রাম্প তাদের ছেলেক নিয়ে সিকিউরিটি গার্ডসহ এসে কিছু ক্যান্ডি ও গাম কিনে নিয়ে যায়। ট্রাম্প টাওয়ারে সবসময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেলিব্রেটিদের আনাগোনা ছিল।

আরেকদিন এক সুন্দরী কিশোরী স্টোরিটিতে এসে তার দলের সদস্যের নাম উল্লেখ করে আমাকে জিজ্ঞেস করল- আমি তাকে দেখেছি কিনা? আমার মুখের অভিব্যক্তি দেখে বুঝতে পারল- আমি তাকে চিনতে পারিনি। সে হয়তো চিন্তা করেছিল ম্যানহাটনের টাওয়ারে চাকরি করে অথচ তার মত সেলিব্রিটিকে চিনে না কেমন করে হয়? তখন সেলফ থেকে পিপলস ম্যাগাজিন এর এক কপি আমার হাতে দিলো, আমি কভার পেজে তার ছবি দেখে মনে পড়ল তার ছবি প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ম্যাগাজিনের কভার পেজে থাকে। আমার হাতে ম্যাগাজিনটি ধরিয়ে দিয়ে পক্ষান্তরে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর আমার স্টোর থেকে বের হয়ে যায়। আমি তাকে পিছন থেকে ডাক দিলে হাতের ক্যামেরা নিয়ে আমার একটা ছবি তুলে নিয়ে যায়, হয়তো তার মত সেলিব্রেটি সিঙ্গারকে না চেনা একমাত্র ব্যক্তির তালিকা রাখবে বলে! সেই সুন্দরী সেলিব্রেটি ছিল সেলিনা গোমেজ। এই ট্রাম্প টাওয়ারে মিস ইউনিভার্স ২০০৯ স্টেফানিয়া ফার্নান্দেজ (মিস ভেনেজুয়েলা) এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম।

বেশ কিছুদিন আগে আমার এক সহকর্মী পুলিশ অফিসারকে বলেছিলাম- একসময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দিন শুরু হতো আমার পাঠানো পত্রিকা পড়ে! কেন জানি সে ভাবল তার সাথে মজা করছি। তখনই মাথায় আসলো ব্যাপারটা নিয়ে লিখবো, কিন্তু নানান ব্যস্ততায় এতদিন লেখা হয়ে ওঠেনি। লিখতে বসে অতীতের স্মৃতির পাতা থেকে কিছু স্মৃতি লিখনের ফ্রেমে বন্দী করে রাখলাম।

লেখক: পুলিশ অফিসার, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্ক , যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

: আরও পড়ুন

আরও