২০২০ সালে যেসব তারকাদের হারিয়েছি
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ | ১০ বৈশাখ ১৪২৮



২০২০ সালে যেসব তারকাদের হারিয়েছি

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

বিষাদময় ২০২০ সাল। করোনা মহামারীতে এ বছর অনেকেই হারিয়েছেন তার প্রিয়জনকে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছেন বিনোদন জগতের পরিচিত অনেক মুখ। আজ আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবো সেসব প্রিয় তারকাকে, যারা ছিলেন আমাদের প্রিয়জন।

১. এন্ড্রু কিশোর:- প্লেব্যাক সম্রাট খ্যাত জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ৬ই জুলাই সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। ছয় বছর বয়সে সঙ্গীতের তালিম নিয়েছিলেন তিনি। গুণী এ শিল্পী আমাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্যা জনপ্রিয় গান। স্বীকৃতি হিসেবে ‘শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী’ ক্যাটাগরিতে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একাধিক বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননা আছে তার ঝুলিতে। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’ প্রভৃতি। সঙ্গগীত প্রিয় ভক্তরা এই সম্রাটকে মনে রাখবেন আমৃত্যু।

২. আলী যাকের-: ৭৬ বছর বয়সে চিরবিদায় নিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। ২৭ নভেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বার্ধক্য, হৃদরোগসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আলী যাকের। মৃত্যুর আগে করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শব্দসৈনিক। ১৯৭২ সালে আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন তিনি। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও বেশ জনপ্রিয় ছিলেন আলী যাকের। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে পান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদক এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেছেন।
আজ রোবিবারের ‘বড়চাচা’।

৩. সাদেক বাচ্চু: করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। জনপ্রিয় এ অভিনেতার আসল নাম মাহবুব আহমেদ সাদেক। কিংবদন্তি পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমায় তার নাম বদলে সাদেক বাচ্চু রাখা হয়। তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা, নাটক রচয়িতা, নাট্যনির্দেশক ও ডাক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৮৫ সালে শহিদুল আমিন পরিচালিত রামের সুমতি-তে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে সক্রিয় ছিলেন এবং প্রায় ৫০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৮ সালে একটি সিনেমার গল্প চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

৪. এস ফিরোজ: শক্তিশালী এই অভিনেতা চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও করোনা উপসর্গ ছিল তার। ১৯৪৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীর মেজর পদে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। নাট্যদল ‘থিয়েটার’ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে কেএস ফিরোজের পথচলা শুরু। প্রথম অভিনয় করেন ‘দীপ তবুও জ্বলে’ নাটকে।
ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও ব্যস্ত ছিলেন তিনি। টেলিভিশনে তার প্রথম আলোচিত নাটক জিয়া আনসারী প্রযোজিত প্রতিশ্রুতি। লাওয়ারিশ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় যাত্রা করেন কে এস ফিরোজ। এছাড়া আবু সাইয়ীদের শঙ্খনাদ, বাঁশি, মুরাদ পারভেজ’র চন্দ্রগ্রহণ, বৃহন্নলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

৫. আবদুল কাদের: গত ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের গুণী অভিনেতা আবদুল কাদের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। আবদুল কাদের ১৯৫১ সালে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগে তার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার প্রথম নাটকে অভিনয়। আর ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে বদি চরিত্রটি করার পর তিনি সারা দেশের মানুষের ‘বদি’ নামেই পরিচিত হোন। টেলিভিশনে দুই হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন কাদের। তার উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘মাটির কোলে’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তিন টেক্কা’ ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন আবদুল কাদের।

৬. চিত্রনায়ক সাত্তারঃ আশির দশকের জনপ্রিয় নায়ক সাত্তার ৫ আগস্ট না ফেরার দেশে চলে যান। ১৯৮৪ সালে ‘রঙ্গিন রূপবান’ সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সাত্তার। ১৯৬৪ সালে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে ইবনে মিজান পরিচালিত ‘আমির সওদাগর ও ভেলুয়া সুন্দরী’ সিনোমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তবে প্রধান চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৮৪ সালে আলমগীর পিকচার্সের ‘রঙ্গিন রূপবান’ ছবিতে। এ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে নিজেকে পাকাপোক্ত স্থান করে নেন তিনি। দেড় শতাধিক দর্শকনন্দিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। আশির দশকের নায়ক হিসেবে সাত্তার ছিলেন সুদর্শন, স্টাইলিশ ও রোমান্টিক।

৭. মতিউর রহমান পানু- ‘বেদের মেয়ে জোছনা’খ্যাত প্রযোজক, পরিচালক মতিউর রহমান পানু মারা গেছেন চলতি বছরের ২৪ মার্চ। রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসায় মারা যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন ‘মনের মাঝে তুমি’ ছবির প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন পানু।

৮. মিনু মমতাজঃ- অনেক দিন থেকে কিডনি এবং চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী মিনু মমতাজ। অবশেষে চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তার আসল নাম জয়নব হাবিব।

৯. আমিনুল ইসলাম মিন্টু: ৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টুও চলতি বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গুণী এই চিত্রসম্পাদকের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। মিন্টু ১৯৩৯ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে প্রখ্যাত চিত্রসম্পাদক বশীর হোসেনের সহকারী হিসেবে ‘চান্দা’ সিনেমা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। একক চিত্রসম্পাদক হিসেবে তার প্রথম কাজ করা মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘পয়সে’ সিনেমার মাধ্যমে। এটি মুক্তি পায় ১৯৬৩ সালে। আমিনুল ইসলাম মিন্টু প্রথম ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ‘আঘাত’ সিনেমার দিয়ে। এরপর ১৯৮৭ সালে দিলীপ বিশ্বাসের ‘অপেক্ষা’, ১৯৯০ সালে ‘গরীবের বউ’ এবং সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে দিলীপ বিশ্বাসের ‘অজান্তে’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

১০. আজাদ রহমান : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান মারা গেছেন চলতি বছরের ১৬ মে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’সহ অনেক জনপ্রিয় গানে সুর দিয়েছেন তিনি।

১১. আলাউদ্দীন আলী: সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী মারা গেছেন ২০২০ সালের ৯ আগস্ট। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আলাউদ্দীন আলী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস এবং রক্তের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।১৯৫২ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
আলাউদ্দীন আলী ছিলেন একাধারে একজন সুরকার, বেহালাবাদক, সংগীতজ্ঞ, গীতিকার এবং সংগীত পরিচালক। সংগীত পরিচালক হিসেবে সাতবার এবং গীতিকার হিসেবে একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

এসএস/ইসি

 

আরও পড়ুন

আরও