আজ সঞ্জীব চৌধুরীকে হারানোর তের বছর
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আজ সঞ্জীব চৌধুরীকে হারানোর তের বছর

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:০৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২০

আজ সঞ্জীব চৌধুরীকে হারানোর তের বছর
জনপ্রিয় গীতিকবি, সুরকার, গায়ক সঞ্জীব চৌধুরীকে হারানোর আজ ১৩ বছর হলো। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে না ফেরার দেশে চলে যান। তার সৃষ্ট অজস্র গান এখনও নবীনদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।

গানের মানুষ হিসেবেই সমাদৃত হলেও দারুণ মেধাবী সঞ্জীব চৌধুরী পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। তিনি বাংলা ব্যান্ডদল দলছুটের প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন। সঞ্জীব দলছুটের চারটি অ্যালবামে কাজ করার পাশাপাশি অনেক গান রচনা ও সুরারোপও করেছেন।

সঞ্জীবের গাওয়া ‘বায়োস্কোপের নেশায় আমায় ছাড়ে না’, ‘ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও’, ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’, ‘হৃদয়ের দাবি’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ’, ‘রিকশা’ ইত্যাদি সব শিরোনামের গানগুলো আজও নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। এখনো লোকমুখে ফিরে ফিরে বাজে তার গান। নানা অনুষ্ঠান-কনসার্টে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মুখে শোনা যায় এসব গান।

১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তবে তার পৈতৃক নিবাস বিশ্বনাথ উপজেলার দাশঘর গ্রামে। সেখানকার স্থানীয় শরৎ রায় চৌধুরী ছিলেন সঞ্জীব চৌধুরীর দাদা। তিনি ছিলেন গোপাল চৌধুরী ও প্রবাসিনী চৌধুরী দম্পতির সপ্তম সন্তান।

ছাত্র হিসাবে তিনি ছিলেন খুব মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণি ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিলেন। স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষালয় শেষে তিনি হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৭৮ সালে এসএসসি পাস করে দারুণ রেজাল্ট দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। ১৯৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন । বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে চান্স পান।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে আশির দশকে। ছাত্র থাকাকালীন বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯-৮০ সালে তিনি ঢাকা কলেজের বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সংস্কৃতি সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন সঞ্জীব চৌধুরী।

শিক্ষার পর্ব শেষ করেই দৈনিক উত্তরণ পত্রিকায় যোগ দিয়ে সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেছেন।

‘শঙ্খচিল’ নামের দলে সংগীতচর্চা শুরু হয় তার। তিনি পিংক লয়েড, বব ডিলানের গানে প্রভাবিত। তার গানেও এদের ছায়া পড়েছে। বিশেষ করে ফোক গানের প্রতি ছিলো তার ব্যাপক ভালো লাগা। ১৯৯৬ সালে সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দলছুট’ গঠন করেন। পরবর্তীতে সঞ্জীব চৌধুরীর কথা ও বাপ্পার সংগীতায়োজন দলটিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। তিনি গিটার সহ আরো নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শি ছিলেন।

তার সুর ও গাওয়া জনপ্রিয় অসংখ্য গান রয়েছে। যার মধ্যে ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে আউলা বাতাস’, ‘চোখ’, ‘তখন ছিল ভীষণ অন্ধকার’, ‘আহ ইয়াসমিন’, ‘রিকশা’, ‘কথা বলব না’, ‘কালা পাখি’, ‘কোথাও বাশিঁ’, ‘দিন সারা দিন’, ‘সমুদ্র সন্তান’, ‘সানগ্লাস’ অন্যতম। এছাড়াও তিনি ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইছে’ ও ‘গাড়ি চলে না’ গান গেয়ে মরমী বাউল সাধক শাহ আব্দলু করিমকে সারা দেশের শ্রোতাদের নতুন জনপ্রিয়তায় তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী বাইল্যাটারাল সেরিব্রাল স্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। নভেম্বর ১৫, ২০০৭ সালে আকস্মিকভাবে অসুস্থ বোধ করার কারণে তাকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। তিন দিন পর নভেম্বর ১৯ তারিখে আইসিইউ শাখায় সঞ্জীব চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন।

আজও এই জনপ্রিয় শিল্পীকে শ্রদ্ধার  সাথে স্মরণ করছে তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত-অনুরাগীরা প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতে স্মরণ করছেন তাদের প্রিয় সঞ্জীব চৌধুরীকে।

এসকে

 

আরও পড়ুন

আরও